অদম্য জয়ার পথচলা

সময়ের অন্যতম ব্যস্ত অভিনেত্রী তিনি। আজ ঢাকায় তো কাল কলকাতায়, আবার পরশু দেখা গেল অন্য কোন শহরে। এভাবেই ছুটছেন তিনি। তিনি জয়া আহসান, দুই বাংলার দর্শকের হৃদয় জয় করেছেন যিনি অভিনয় দ্যুতিতে। পয়লা জুলাই তার জন্মতিথি। এদিন তিনি দেশে নেই, নেই কলকাতায়ও। তিনি আছেন লন্ডনের পথে।

নন্দিত অভিনেত্রী জয়া আহসান দুই বাংলায় কাজ করছেন সমানতালে। সর্বশেষ নিজস্ব প্রযোজনায় অনম বিশ্বাসের পরিচালনায় ‘দেবী’ চলচ্চিত্রে দেবী হয়ে দেখা দিয়েছিলেন তিনি। মুক্তির প্রতীক্ষায় তার কয়েকটি দেশীয় ছবি। এগুলো হলো – মাহমুদ দিদারের ‘বিউটি সার্কাস’, নূরুল আলম আতিকের ‘পেয়ারার সুবাস’ ও ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’ এবং সামুরাই মারুফের ‘আজকের দিনটি ভালো কাটলে সারাজীবন ভালো কাটবে’। এরই মাঝে দেশের প্রথম ত্রিমাত্রিক ছবি, সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত হাবিবুর রহমান হাবিবের ‘অলাতচক্র’ – এর কাজ শেষ করলেন তিনি। আহমদ ছফার উপন্যাস ‘অলাতচক্র’ অবলম্বনে নির্মিতব্য এ চলচ্চিত্রের শুটিং হয়েছে ময়মনসিংহে। মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে লেখকের আত্মজীবনীমূলক এ উপন্যাসের তায়েবা চরিত্রটি করছেন জয়া।

জয়া সম্প্রতি শেষ করেছেন ‘অলাতচক্র’ ছবির শুটিং

অন্যদিকে কলকাতায় কয়েক সপ্তাহ আগে মুক্তি পেয়েছে নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ‘কণ্ঠ’। ছবিতে একজন স্পিচ থেরাপিস্টের ভূমিকায় অভিনয় করে প্রশংসিত হয়েছেন জয়া। কাজ চলছে অতনু ঘোষের ‘বিনিসুতোয়’ ছবির। এ ছবির প্রথম দর্শনে প্রায় মেকআপহীন বাঙালী নারীর চরিত্রে জয়া মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন। গেল ২২শে জুন নির্মাতা সোশাল মিডিয়ায় একটি স্থিরচিত্র প্রকাশ করেন। এ ছবিতে গানও গেয়েছেন জয়া। জয়ার বিপরীতে ঋত্বিক চক্রবর্তী আছেন, যিনি ‘ভালোবাসার শহর’ শীর্ষক ওয়েবফিল্মে জয়ার সাথে কাজ করেছেন।

‘বিনিসুতোয়’ ছবির কাজে জয়া ব্যস্ত থাকবেন সামনের কিছুদিন

জয়া অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনায়ও সিরিয়াস। প্রথম ছবি ‘দেবী’র সাফল্যের পর দ্বিতীয় ছবি ‘ফুড়ুৎ’ নিয়েও কাজ করছেন তিনি। ছবিটির প্রি – প্রোডাকশনের কাজ চলছে বলে জানা গেছে।

জয়া তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন ‘গেরিলা’, ‘চোরাবালি’ ও ‘জিরো ডিগ্রী’ ছবির জন্য। তিনি প্রথম বাংলাদেশী অভিনয় শিল্পী যিনি ভারতের ফিল্মফেয়ার ও জি সিনে অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন কৌশিক গাঙ্গুলীর ‘বিসর্জন’ ছবিতে অভিনয় করে। এ ছবির সিক্যুয়েল ‘বিজয়া’ – তেও তার অভিনয় প্রশংসা কুড়িয়েছে।

জয়া বাংলাদেশের প্রথম শিল্পী যিনি ভারতের ফিল্মফেয়ার ও জি সিনে অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন

২০১২ সালে অরিন্দম শীলের ‘আবর্ত’ দিয়ে জয়ার কলকাতাপর্বের সূচনা হয়। একে একে তিনি বেশ কয়েকজন গুণী নির্মাতার সাথে কাজ করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন কৌশিক গাঙ্গুলী, সৃজিত মুখার্জি, শিবপ্রসাদ – নন্দিতা প্রমুখ। টালিগঞ্জপাড়ায় একটি বাঙ্গালী ভূতের গল্প, ঈগলের চোখ, রাজকাহিনী, এক যে ছিল রাজা, বিসর্জন, বিজয়া, কন্ঠ – ইত্যাদি ছবি তার ক্যারিয়ারে যোগ করেছে নতুন পালক।

প্রসঙ্গত, চলমান বিশ্বকাপ ক্রিকেটের বাংলাদেশের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর নির্বাচিত হয়েছেন জয়া। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ৬০ সেকেন্ডের ক্রিকেটে অংশ নেন এ গুণী অভিনেত্রী।