অভিনয়ের অর্ধশতক পেরিয়ে অমিতাভ বচ্চন

অমিতাভ বচ্চন। ভারতীয় চলচ্চিত্রের লিভিং ল্যেজেন্ড। তাঁর বুড়ো হাড়ের ভেলকি দেখে আজও বলিউডের নবীন প্রজন্মের রীতিমতো চমক লাগে। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি চলচ্চিত্র জগতে অর্ধশতক পূর্ণ করলেন বিগ বি। তাঁর অভিনয়ের পঞ্চাশ বছর পূর্তিতে বচ্চন পরিবার স্বাভাবতই গর্বিত। স্ত্রী জয়া বচ্চন স্বামীকে অভিনন্দ জানিয়েছেন এবং সাফল্য কামনা করেছেন। পুত্র অভিষেক ট্যুইট করে জানিয়েছেন অভিনেতা হিসেবে অমিতাভ যত বড়ই হন না কেন, অভিষেকের কাছে তিনি শুধুই বাবা। তাঁর রোলমডেল, তাঁর আইডল। পঞ্চাশ বছর পর এবার বিগ বি-র বিভিন্ন ছবির বহু অজানা কথা ঘেঁটে দেখার পালা।

সাদা কালোয় প্রথম
আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগে ১৯৬৯ সালে অমিতাভ বচ্চন ‘সাত হিন্দুস্থানি’ ছবিতে অভিনয় করার সুযোগ পান। ওই ছবিটিই একমাত্র সাদা কালো ছবি যাতে বিগ বি অভিনয় করেছিলেন। প্রথম ছবিতে অভিনেতা হিসেবে সাফল্য না পেলেও নিজের আগমন বার্তা শুনিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। শ্যুটিংয়ের ফাঁকে ডান ও বাঁ দু’হাতেই লিখে সকলকে তাঁক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে অভিনয়ের মাধ্যমে জানিয়েছিলেন যথার্থই সব্যসাচী তিনি।

প্রথম হিট

১৯৬৯ সালে ফিল্ম কেরিয়ার শুরু করলেও হিট ছবির মুখ দেখতে বিস্তর সময় লেগেছিল অমিতাভের। প্রথম হিটের মুখ দেখেন ‘জঞ্জির’ ছবিতে। চুলের ছাঁট বদলে অ্যাংরি ইয়াং ম্যান ইমেজ নিয়ে ক্যামেরার সামনে আসেন বিগ বি। তার আগে অমিতাভের মোট বারোটি ছবি বক্স অফিসে মুখ থুবরে পড়ে। পরপর বারোটা ফ্লপের পর বলিউডে অমিতাভ বচ্চনের নামকরণও হয় ফ্লপমাস্টার।

প্রথম কবিতা

‘কুলি’ ছবিতে অভিনয় করতে গিয়ে অমিতাভ বচ্চনের অ্যাক্সিডেন্ড ও মৃত্যুর সঙ্গে জোর লড়াইয়ের কথা তো সকলেই জানেন। কিন্তু জানেন কি অসুস্থতার সময় হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়তে লড়তেই তিনি জীবনের প্রথম কবিতা লেখেন। পরবর্তীকালে কবিতাটি ধর্মযুগ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পত্রিকার সম্পাদক বচ্চনদের পারিবারিক বন্ধু।

উপহারে বাংলো

‘সত্তে পে সত্তা’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য কোনও পারিশ্রমিক নেননি অমিতাভ বচ্চন। তার বদলে সিপ্পিরা তাঁকে জলসা বাংলো বাড়িটি উপহার দেন। বাড়িটি বিগ বি নিজের নামে নেননি। খাতায় কলমে বাড়িটি দাদা অজিতাভ বচ্চনের স্ত্রী রমোলা বচ্চনের নামে। বিগ বি-কে কিছু দিতে পারলে বিভিন্ন বহুজাতিক সংস্থাই ধন্য হয়। মঁ ব্লাঁও তার ব্যতিক্রম নয়। অমিতাভ বচ্চনের কলমের বিশেষ শখ আছে শুনে মঁ ব্লাঁ কোম্পানি প্রতি বছর তাঁকে একটি কলম উপহার দেয়।

সরকারি নিরাপত্তা
১৯৯২ সালে ‘খুদা গাওয়া’ ছবির শ্যুটিং করার সময় আফগানিস্তানের রাষ্ট্রপতি বিগ বি-কে তাঁর দেশের অর্ধেক এয়ারফোর্স ব্যবহার করার সুযোগ দেন। শুধু তাই নয় শ্যুটিং চলাকালীন অমিতাভের নিরাপত্তার পুরো দায়িত্ব আফগানিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়। আজও পর্যন্ত আফগানিস্তানে সবচেয়ে জনপ্রিয় ছবির তালিকায় বেশ উপরের দিকেই রয়েছে ‘খুদা গাওয়া’।