ঈদে ‘বেদের মেয়ে জোসনা রিটার্নস’ নিয়ে বেলী আফরোজ

ঈদ উৎসবকে রাঙাতে পাওয়ার ভয়েজ খ্যাত জনপ্রিয় গায়িকা বেলী আফরোজ আসছেন “বেদের মেয়ে জোসনা রিটার্নস” নিয়ে। হিপহপ গানের ভিডিওচিত্রটি ঈদে প্রকাশ করা হবে।

বেলী আফরোজ জানালেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি ব্যবসা সফল ছবি ‘বেদের মেয়ে জোসনা’র দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে “বেদের মেয়ে জোসনা রিটার্নস” গানটি করেছেন। প্রয়াত তোজাম্মেল হক বকুল পরিচালিত ও ১৯৮৯ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবিটির নাম এখনো মানুষের মুখে মুখে। তেমনি ছবিটির গান “বেদের মেয়ে জোসনা আমায় কথা দিয়েছে” গানটি এখনও সবার কাছে অতি চেনা ও বিশাল জনপ্রিয় একটি গান।

বেলী বলেন, আসছে নতুন বেদের মেয়ে জোছনা। তবে এটি কিন্তু সিনেমার রিমেক নয়। “বেদের মেয়ে জোসনা রিটার্নস” শিরোনামের গানটি নিয়ে আসছি আসলে গ্রাম বাংলার বহুল প্রিয় বেদের মেয়ে জোসনা কে গানের মাধ্যমে আবার সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্যে।

গ্রাম বাংলায় ‘বেদের মেয়ে জোসনা রিটার্নস’ দিয়ে আলোড়নের অপেক্ষায় বেলী

গানটি লিখেছেন এ মিজান। আর সুর ও সংগীত আয়োজন করেছেন শওকত আলী ইমন। গানটির ভিডিও পরিচালনা করেছেন হাবিব রহমান। তার কোরিওগ্রাফিতে মিউজিক ভিডিওতে মডেলিং করেছেন বেলী আফরোজ নিজেই। তার সহ মডেল জন জাহিদ। এই দুজন ছাড়াও আরও ২০ জনের মতো নৃত্য শিল্পী এই মিউজিক ভিডিওতে অংশ নিয়েছেন।

গানটি নিয়ে বেলী আফরোজ বলেন, “বেদের মেয়ে জোসনা রিটার্নস” গানে দর্শকরা ভিন্নতা দেখতে পাবেন। নাচে গানে ভরপুর গানটির ভিডিও বেশ যত্ন নিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি নতুন কিছু করতে। আমি মনে করি গানটি প্রকাশের পর দর্শকরা এই গানের কথা, সুর এবং মিউজিক ভিডিওতে নতুনত্ব ও ভিন্নতা খুঁজে পাবেন। বেলী আফরোজ জানান, সম্প্রতি এফডিসিতে সেট ফেলে বিশাল বাজেটের “বেদের মেয়ে জোসনা রিটার্নস” এর মিউজিক ভিডিওর শুটিং করা হয়েছে। মূলত “বেদের মেয়ে জোসনা” ছবির সেই ফ্লেভার ত্রিশ বছর পর দর্শকদের উপহার দেওয়ার জন্যেই ওখানে সেট ফেলে এটির চিত্রায়ণ করা হয়েছে। ডিরেক্টর ও কোরিওগ্রাফার হাবিব রহমান অনেক পরিশ্রম করে মিউজিক ভিডিওটির দৃশ্য ধারণ করেছেন।

বেলী আফরোজের গানের মডেল সাধারণত তিনি নিজেই হয়ে থাকেন

বর্তমান প্রজন্মের জনপ্রিয় গায়িকা বেলী আফরোজ ২০১২ সালে চ্যানেল নাইনের সংঙ্গীত বিষয়ক রিয়েলিটি শো পাওয়ার ভয়েজের মাধ্যমে পরিচিত পান। তিনি চট্টগ্রামের মেয়ে। শৈশবে গান শিখেছেন চট্টগ্রামের ধ্রুব পরিষদে। এরপর থেকে শুরুতে চট্টগ্রাম অঞ্চলের স্টেজ শোতে গান করতে থাকেন। পরিচিতিও পান। পরবর্তীতে পাওয়ার ভয়েজের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি আসে তার। এরপর থেকে ঢাকা সহ সারাদেশে এবং দেশের বাইরে বিভিন্ন দেশের স্টেজ মাতাচ্ছেন সুন্দরী ও সুরেলা কন্ঠের এই গায়িকা।

২০১৫ সালে ‘বেলী’ শিরোনামে একক অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে বেলীর। বর্তমানে নিজের একক গানের পাশাপাশি নিয়মিত সিনেমাতেও প্লেব্যাক করছেন বেলী আফরোজ। তার আগের কিছু মিউজিক ভিডিও হলো ভাবের ঘর, পেইন পোলা, দিন কাটেনা, ভালো থাকুক মন, কত আর পোড়াবো ইত্যাদি।

২০১৫ সালে ‘বেলী’ শিরোনামের একক এলবাম প্রকাশিত হয় বেলী আফরোজের

বেলী আফরোজ বলেন, গায়িকা হিসেবে আমাকে বড় সাফল্য এনে দেয় “হায়রে হায়রে” গানটি। মূলত আমার তারকা খ্যাতি এনে দেওয়া কিম্বা পরিচিতির গন্ডি বাড়িয়ে দিতে ওই গানটি বিশাল অবদান রাখে। হিপহপ গানটির সাফল্যের কারণেই আবারও হিপহপ গান নিয়েই ঈদে আসছি। তাছাড়া এই ধাঁচের গান গাইতে আমার ভালো লাগে। স্টেজে অধিকাংশ সময়ই অডিয়েন্স ডিমান্ড এর কারণে পপ, হিপহপ গান করতে হয়। আমার নিজের গাওয়া এই জাতীয় গান কম। তাই মাঝে মধ্যেই স্টেজ শোতে আমাকে অন্যের গাওয়া ফাস্ট বিটের গান কাভার করতে হয়। সেটা যাতে না করতে হয়, সেই জন্যেই ওয়েস্টার্ন ধাঁচের গানই বেশি করছি আমি।

বেলী আফরোজ জানালেন এখন পর্যন্ত নিজের গাওয়া সব গানের ভিডিওতেই তিনি নিজেই মডেল হয়েছেন।

এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, শৈশবে যখন সঙ্গীতে যুক্ত হই, তখন আমি ম্যাডোনা, মাইকেল জ্যাকসন, জেনিফার লোপেজ, শাকিরা, ব্রিটনি স্পিয়ার্স এর প্রচুর গান দেখেছি। তারা কিন্তু নিজেদের গানে নিজেরাই মডেল হয়েছেন। তখন থেকেই আমার ইচ্ছে আর পরিকল্পনা ছিল – নিজের গানে আমি নিজেই মডেল হবো।

শৈশবে গান ও নাচ শিখতেন বেলী

আপনি তো অনেক ভালো ড্যান্স করেন, মিউজিক ভিডিওতে মডেলিং করতে হলে তো এটা আপনার জন্যে প্লাস পয়েন্ট – এমন প্রশ্নের  উত্তরে সুন্দরী, লাস্যময়ী ও সুহাসিনী গায়িকা বেলী আফরোজ বলেন, এখানে একটা গোপন কথা বলি – শৈশবে আমি ধ্রুব পরিষদে একসঙ্গে গান ও নাচ শিখতাম। কিন্তু একটা সময় মা আমাকে নাচ বন্ধ করিয়ে শুধু গান শেখান। সেই শৈশবে শেখা নাচ এখন আমাকে মডেলিং তথা মিউজিক ভিডিওর নাচ করার ক্ষেত্রে হেল্প করছে। বলতে পারেন, আমার ধুন্ধুমার নাচের কারণেই “হায়রে হায়রে” গানের মিউজিক ভিডিওটি তুমুল জনপ্রিয়তা পায়।

প্রসঙ্গত, “বেদের মেয়ে জোসনা রিটার্নস” বাদে বেলী আফরোজের গাওয়া আরও দুটি গানের মিউজিক ভিডিও এই ঈদে রিলিজ হচ্ছে। “বাবুজি” শিরোনামের একটি গান ৩১ মে ( শুক্রবার) রিলিজ হয়েছে কেএম মিউজিক ভিশন থেকে। এ. কাদের এর লেখা গানটির সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন মুসফিক লিটু। আরেকটি গান হলো “ও পরানের বন্ধু”। গফুর হালির লেখা গানটির সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন সুমন কল্যাণ। এটি চট্টগ্রামের গান। ইতিপূর্বে গানটি কেউ গায়নি বলে জানান বেলী আফরোজ।