ঐশী – মিতু – সালওয়া : তিন সুন্দরীর ঈদ ভাবনা

চলতি সময়ের তিন আলোচিত নবাগতা চিত্রনায়িকা – জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী, জাহারা মিতু ও নিশাত নাওয়ার সালওয়া। মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ (২০১৮) প্রতিযোগীতায় চ্যাম্পিয়ন ও প্রথম রানার আপ হয়েছিলেন যথাক্রমে ঐশী ও সালওয়া। অন্যদিকে একই প্রতিযোগীতায় আগের বছর, ২০১৭ সালে অংশ নিয়ে প্রথম রানার আপ হয়েছিলেন জাহারা মিতু। তিনজনই সিনেমায় নাম লিখিয়েছেন। তাদের কোন সিনেমা মুক্তি না পেলেও ব্যস্ত আছেন সিনেমা সংশ্লিষ্ট কাজ নিয়ে। এদের মধ্যে এগিয়ে ঐশী। তার হাতে তিনটি সিনেমা। সিনেমাগুলো হলো ‘মিশন এক্সট্রিম’, ‘আদম’ ও ‘স্বপ্নবাজী’। সালওয়া কাজ করছেন ‘স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা’ সিনেমায়, মিতু ব্যস্ত আছেন ‘আগুন’ সিনেমার শুটিং নিয়ে। সুন্দরী প্রতিযোগীতা থেকে আসা তিন সুন্দরীর ঈদ নিয়ে কি ভাবনা? তারা জানালেন সে কথা।

জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী, চ্যাম্পিয়ন, মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ – ২০১৮

আমি এবার ঢাকায় ঈদ করব। আগে মাঝে মধ্যে ঢাকায় করা হতো, এখন ব্যস্ততার কারণে ঢাকাতেই করা হচ্ছে। গত কোরবানির ঈদ বাড়িতে করেছিলাম, এবার ঢাকায় করছি ব্যস্ততার জন্য। বাড়ির ঈদই আমার বেশি ভাল লাগে। পারিবারিকভাবে কোরবানি দেয়া হচ্ছে, আমি নিজে দিচ্ছি না। ঈদ নিয়ে ছোটবেলার স্মৃতিগুলো মজার। তখন চাওয়া পাওয়া খুব একটা ছিলো না আমাদের। ঈদের জামাকাপড় পরা, বন্ধু-বান্ধবদের সাথে খেলাধুলা করা, ঈদের খাবার ভাগ করে খাওয়া, সকালবেলায় ঈদের সেলামি পাওয়া এসব মজার ছিলো। তখন এতকিছু বুঝতাম না, এখন বিভিন্নরকম চিন্তা, প্রয়োজনে ঈদের আনন্দটাও কমে এসেছে। আন্তরিকতাও কমে এসেছে ঈদের। ছোটবেলার ছোট ছোট ঈদের আনন্দগুলোই মজার ছিল।

জাহারা মিতু, প্রথম রানার আপ, মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ – ২০১৭

এবারের ঈদ ঢাকাতেই কাটাব। কেননা ‘আগুন’ সিনেমার শুটিং চলার কথা ১১ তারিখ পর্যন্ত। আব্বুর কবর যেহেতু রাজবাড়ীতে, ১৩ তারিখে আমি যাব আব্বুর কবর জিয়ারাত করতে। যেহেতু আব্বু বেঁচে নেই, বাড়ির বড় মেয়ে আমি, একটা দায়িত্ব থাকেই। এবার ইচ্ছে আছে নিজে গিয়ে গরু কেনার। ঈদের আগের দিন রাত্রে যাব। ঈদের দিন আবার সকাল থেকে তদারকি করতে হবে ভালোমতো, যাতে গরু কাটা হয় ঠিকমতো। নিজে দাঁড়িয়ে থেকে সব করতে হবে। অবশ্য আব্বু বেঁচে থাকতেও এটা করতাম। আমরা ভাই-বোনেরা দাঁড়িয়ে তদারকি করতাম। এটা করতে মজা লাগে। আর টুকটাক রান্না করব বাসার জন্য। আল্লাহর রহমতে আগেও আমি কোরবানি দিয়েছি, এবারও দিচ্ছি। এবারের ঈদ একটু অন্যরকম কারণ গত তিন ঈদেই আমি শুটিংয়ের মধ্যে ছিলাম। তো বলা যায় তিনটা ঈদের পর চার নাম্বার ঈদে এসে আমি ফ্যামিলিকে টাইম দিতে পারছি। ঈদ নিয়ে অনেক মজার স্মৃতি আছে। ছোটবেলায় শুনেছিলাম গরু লাল রং দেখলে চিৎকার চেঁচামেচি করে। কোরবানির কয়েকটা দিন আমাকে কেউ লাল রঙের জামা পরিয়ে বের করতে পারতো না। এজন্য সবাই রাগাতো আমাকে। বড় হওয়ার পর শুনেছি গরু কালার ব্লাইন্ড। লালকে সে আলাদাভাবে দেখতে পায় না, শুধু সবুজ রঙটাই সে দেখতে পায়। কিন্তু ছোটবেলায় এটা নিয়ে খুব মজা হতো। আমার আশেপাশের লোকজন খুব চেষ্টা করতো আমাকে লাল রঙের জামা পরিয়ে গরুর সামনে নিয়ে যেতে। পারতো না কখনো। মাথায় থাকতো লাল রঙের জামা পরে গেলেই গরু ক্ষেপে যাবে।

নিশাত নাওয়ার সালওয়া, প্রথম রানার আপ, মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ – ২০১৮

আমি আজ সিলেট যাচ্ছি। এবারের ঈদ সিলেটে করব। গত ঈদ ঢাকায় করেছিলাম। আমি কোরবানি দিচ্ছি না। ঈদ আসলে ছোটবেলায় মজার ছিল, এখন ফিল করি। এখন তো বড় হয়ে গেছি, ঈদের আনন্দ আছে তবে অন্যরকম। সিলেটে গেলে আত্মীয়-স্বজন, কাজিনদের সাথে দেখা হয়। ওদের সাথে আড্ডা দিয়ে, সবার সাথে দেখা করে কাটে ঈদের দিন। ছোটবেলায় আমরা ছোটরা বড়দের কাছে ঈদি নেয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়তাম। এখন বড় হয়ে যাবার পর ছোট ভাই বোনরা আমার কাছে ঈদি চায়, আমিও দেই। ব্যাপারটায় খুব মজা লাগে। শোবিজে আসার আগের ঈদগুলোয় ব্যস্ততা কম ছিল, এখন ব্যস্ততা বেড়ে গেছে।