কালজয়ী গানের সৃষ্টিকথা

গত শনিবার রাতে নিজ বাসভবনে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন খ্যাতিমান সঙ্গীতশিল্পী শাহনাজ রহমতুল্লাহ। তিনি গেয়েছিলেন দেশের স্বাধীনতার অন্যতম অনুপ্রেরণাদায়ী গান, ‘জয় বাংলা, বাংলার জয়’। সে গানের গীতিকার ছিলেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুরকার ছিলেন শাহনাজের বড় ভাই প্রয়াত আনোয়ার পারভেজ। গানটির পেছনের গল্প তুলে ধরেছেন গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের ঘটনা। ওই সময় ফার্মগেটে একটা স্টুডিও ছিল। ওখানে নিয়মিত বসতাম আমরা। গান নিয়ে আড্ডা হতো। ওখানে বসে গানও লিখতাম। একদিন বসে ভাবছিলাম নতুন কিছু লিখতে হবে। দেশের জন্য। বঙ্গবন্ধুর বলা জয় বাংলা শব্দটাই ছিল আমার গানের শুরুর শব্দদ্বয়। এটা নিয়েই শুরু করলাম একদিন।

ওই সময় সেই স্টুডিওতে এলেন আনোয়ার পারভেজ। আসার পর ওকে বললাম, আমাদের একটা দায়িত্ব পালন করতে হবে। এটা শুনেই আমার সঙ্গে বসল। লেখা চলতে থাকল। হঠাৎ ওই স্টুডিওতে হাজির হলেন আলতাফ মাহমুদ। তিনি গানের শুরুটা শুনেই বললেন, “আরে গাজী, এটা দুর্দান্ত গান। লেখ লেখ।” তাঁর উৎসাহে লেখার গতি বাড়ল। লেখা শেষ হতেই আলতাফ ভাই ও আনোয়ার ভাই বললেন, এটা এখনই গাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।’

সদ্য প্রয়াত সঙ্গীতশিল্পী শাহনাজ রহমতুল্লাহ

গানটি তৈরি হওয়ার পর শাহনাজ রহমতউল্লাহকে ডাকা হয়। সঙ্গে কোরাস গাওয়ার জন্য আরও কয়েকজন শিল্পীও এলেন সেদিন। সেদিনই গানটা রেকর্ড করা হয়। গানটা রেকর্ড করে আমরা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে দিই। ওই সময় এই গানটি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে সূচনা সংগীত হিসেবে ব্যবহার করা শুরু হয়। গানটি প্রচারের পর থেকে একটা উদ্দীপনা দেখা দেয় সবার মধ্যে। ওই সময় আসলে এত কিছু ভেবে লিখিনি। তরুণ ছিলাম। গান লেখাটাই ছিল আমার জন্য আনন্দের ব্যাপার।