চিরনিদ্রায় শায়িত আমজাদ হোসেন

কিংবদন্তী চলচ্চিত্র ব্যাক্তিত্ব আমজাদ হোসেন চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন। আজ রোববার (২৩ ডিসেম্বর) নিজ জেলা জামালপুর শহরের কেন্দ্রীয় গোরস্থানে বাবা-মায়ের কবরের পাশে সমাহিত করা হয় এ গুণী ব্যাক্তিকে।

দুপুরে জামালপুরের ইকবালপুরে নতুন হাইস্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হয় আমজাদ হোসেনের সর্বশেষ নামাজে জানাজা। এর পূর্বে সকাল ৯টার দিকে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য জামালপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে রাখা হয় আমজাদ হোসেনের মরদেহ। আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাঙ্খী, ভক্ত, বিভিন্ন রাজনৈতিক, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের ব্যক্তিরাসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ তাকে শ্রদ্ধা জানান প্রয়াত কিংবদন্তিকে।

২১ ডিসেম্বর রাতে এই চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বের মরদেহ বাংলাদেশ বিমানের বিজি-০৮৯ ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। পরদিন সকালে জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আমজাদ হোসেনের মরদেহ রাখা হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখান থেকে মরদেহ এটিএন বাংলা হয়ে বাদ জোহর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মরদেহ চ্যানেল আইতে নেওয়া হয়।

আমজাদ হোসেনের জন্ম ১৯৪২ সালের ১৪ আগস্ট জামালপুরে। তিনি একাধারে চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, গল্পকার, অভিনেতা, গীতিকার ও সাহিত্যিক। কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ একুশে পদক, স্বাধীনতা পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ একাধিক রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি। গত ১৪ ডিসেম্বর ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ৭৬ বছর বয়সী আমজাদ হোসেন।

তাঁর পরিচালিত উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে- ‘বাল্যবন্ধু’, ‘পিতাপুত্র’, ‘এই নিয়ে পৃথিবী’, ‘বাংলার মুখ’, ‘নয়নমণি’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘সুন্দরী’, ‘কসাই’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি’, ‘দুই পয়সার আলতা’, ‘সখিনার যুদ্ধ’, ‘ভাত দে’, ‘হীরামতি’, ‘প্রাণের মানুষ’, ‘সুন্দরী বধূ’, ‘কাল সকালে’, ‘গোলাপী এখন ঢাকায়’, ‘গোলাপী এখন বিলেতে’ ইত্যাদি।