জন্মদিনে এক নজরে আমির খান

আজ বলিউডের অন্যতম ব্যক্তিত্বসম্পন্ন অভিনেতা আমির খানের জন্মদিন। পঞ্চান্নতে পা দিয়েছেন তিনি। জন্মদিনে এক নজরে দেখে নেয়া যাক আমির খানের জীবনের উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা।

১৯৬৫ সালের ১৪ মার্চ বোম্বেতে তাহির হুসেইন ও জিনাত হুসেইনের পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আমির হুসেইন খান। ১৯৭৩ সালে ‘ইয়াদো কি বারাত’ ছবিতে শিশুশিল্পী হিসাবে সিনেমায় অভিষিক্ত হন তিনি। ষোল বছর বয়সে তিনি ‘প্যারানোয়া’ নামক একটি সাইলেন্ট সিনেমায় কাজ করেন। এখানে নীনা গুপ্তা ও ভিক্টর ব্যানার্জির সাথে লিড রোলে ছিলেন আমির। বাবা-মা চেয়েছিলেন তিনি ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হবেন, আমির হয়ে গেলেন সিনেমার নায়ক। তিনি নাসির হুসেইনের সহকারী হিসেবে কাজ করেন মানজিল মানজিল (১৯৮৪) ও জবরদস্ত (১৯৮৫) সিনেমায়।

নায়ক হিসেবে আমিরের শুরু হয় ১৯৮৮ সালের ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’ সিনেমার মাধ্যমে। এরপর একে একে তিনি উপহার দিয়েছেন দিল হ্যায় কি মানতা নেহি (১৯৯১), জো জিতা ওহি সিকান্দার (১৯৯২), আন্দাজ আপনা আপনা (১৯৯৪), রঙ্গীলা (১৯৯৫), আকেলে হাম আকেলে তুম (১৯৯৫), রাজা হিন্দুস্তানি (১৯৯৬), ইশক (১৯৯৭), লাগান (২০০১), দিল চাহতা হ্যায় (২০০১), রাঙ দে বসন্তি (২০০৬), তারে জামিন পার (২০০৭), গজনি (২০০৮), থ্রি ইডিয়টস (২০০৯), পিকে (২০১৪), দাঙ্গাল (২০১৬)- এর মত সফল সিনেমা। সাম্প্রতিক সময়ে আমিরের সিনেমায় তিনি সামাজিক ম্যাসেজ তুলে ধরছেন নিজের চরিত্রের মধ্য দিয়ে।
আমির খান একসময় টানা দুই বছর থিয়েটারে কাজ করেন। তারপরই সিনেমায় কাজ শুরু করেন। তিনি ‘হোলি’ শিরোনামের একটি ফিচার ফিল্মে কাজ করেন, যেখানে তার নাম ছিল আমির হুসেইন খান। এ ছবিতে ‘লাগান’ ছবির পরিচালক আশুতোষ গোয়াড়িকর গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে ছিলেন।

১৯৮৬ সালের যেদিন জাভেদ মিয়াদাদ ইনিংসের শেষ বলে ভারতের বিরুদ্ধে শারজায় ছয় মারেন, সেদিনই আমির খান বিয়ে করেন রীনাকে। মজার ব্যাপার হলো আমিরের প্রথম ছবিতে রীনাকে দেখা গিয়েছিল একটি ছোট চরিত্রে। এই ছবির পোস্টার আমির নিজেই বাসে, অটোতে লাগিয়েছিলেন বাজেট বাঁচাতে। তিনি লোকজনকে বলে বেড়িয়েছেন তিনিই এ ছবির নায়ক।
আমির সাধারনত অ্যাওয়ার্ড ফাংশনে যান না, তবে একসময় নিয়মিত যেতেন। ১৯৯০ সালে ‘দিল’ ছবির জন্য ফিল্মফেয়ার এওয়ার্ডের মনোনয়ন পেয়েছিলেন তিনি, কিন্তু পুরস্কার বাগিয়ে নেন ‘ঘায়েল’ ছবির জন্য সানি দেওল। সেই থেকে এসব অনুষ্ঠানে আমিরের অনীহা।

রীনা দত্তের সাথে বিচ্ছেদের পর কিরন রাওকে বিয়ে করেন আমির। ব্যক্তিগত জীবনে দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক তিনি। অন্য সবাই যেখানে সোশাল মিডিয়াসহ সর্বত্র নিজেকে তুলে ধরতে ব্যস্ত আমির সেখানে দর্শকের সাথে কাজের মাধ্যমে যোগাযোগে বিশ্বাসী। তাই তো সোশাল মিডিয়ায় তাকে খুঁজে পাওয়া যায় না অন্য সকলের মত। আমির খান একজনই, অনন্য ব্যক্তিত্ব ও দর্শনের অধিকারী এ অভিনেতার প্রতি রইলো জন্মদিনের শুভেচ্ছা।