তাঁদের স্মৃতিতে বৈশাখ

দিনবদলের ঢেউয়ে চেপে হাজির নতুন বছর। গেল বছরগুলো রেখে যায় স্মৃতি, নতুন বছর নিয়ে আসে প্রত্যাশার বার্তা। শোবিজ তারকাদের বৈশাখের স্মৃতি কেমন ছিল? জেনে নেয়া যাক –

শানারেই দেবী শানু (অভিনেত্রী)

আগে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করতাম সিলেটে। ওখানে ‘আনন্দলোক’ নামে একটি রবীন্দ্র সঙ্গীত সংগঠন আছে। রমনার বটমূলে যেমন অনুষ্ঠান হয় সেখানেও হতো। সিলেটে শ্রীহট্ট সংস্কৃত কলেজ নামে একটি শিক্ষা – প্রতিষ্ঠান আছে। ওখানে একটা বটবৃক্ষ ছিল। এখন অবশ্য নেই, আমি যদিও অনেকদিন ধরে ঐ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করিনা। ঐ বটবৃক্ষের নিচে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানগুলো হতো। সেই অনুষ্ঠানের জন্য যে রিহার্সেল হতো ১৫-২০ দিন ধরে, সেই স্মৃতিগুলো খুব মনে পড়ছে। শিশু একাডেমিতে, শিল্পকলা হলে একটানা রিহার্সেল হতো। ভোরবেলায় উঠে রেডি হয়ে সে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে হতো, আমি যেহেতু নাচ করতাম; সেই স্মৃতিগুলোই নাড়া দিচ্ছে খুব। প্রতিবারই মনে হয় পহেলা বৈশাখে সিলেটেই চলে যাই। আবার কোনবার যদি পারফরম্যান্স করতে পারি তাহলে ভালো লাগতো, আসলে সে সময় বা সুযোগ কোনটিই হয়ে উঠছেনা।

আজমেরি হক বাঁধন (অভিনেত্রী)

পহেলা বৈশাখে আব্বু আম্মুর সাথে মেলায় যেতাম। সাধারণ জিনিসপত্র কিনতাম। যেমন – ঘুড়ি, চুড়ি, মাটির পুতুল ইত্যাদি। বিশেষ কোন রান্না হতো না বাসায়, ভর্তা ভাত দিয়েই উদযাপন করতাম পহেলা বৈশাখ।

সিঁথি সাহা (সঙ্গীতশিল্পী)

আমি কুষ্টিয়ায় বড় হয়েছি। ছোটবেলার পহেলা বৈশাখ কেটেছে কুষ্টিয়ায়। যেহেতু আমি ছোট থেকেই গান করি, দেখা যেত যে প্রতিদিন কোন না কোন অনুষ্ঠান থাকতো সকাল বেলায়। মা আগেরদিনই বলে রাখতো, ‘কাল কিন্তু বছরের প্রথমদিন। কাল উল্টোপাল্টা কিছু করবিনা। কালকে সময়মতো হারমোনিয়াম নিয়ে বসবি এবং একবার না একবার বই নিয়ে বসতেই হবে।’ একটা ধারণা ছিল যে প্রথমদিন যেটা করবোনা সেটা সারাবছরই হবেনা, আবার প্রথমদিন যেটা করবো সেটা সারাবছরই সুন্দর করে হবে। আরো বলতো, ‘কাল সারাদিন যেন বকতে না হয় তোকে।’ আবার বৈশাখে নতুন কাপড় পরতেই হবে, ঈদ – পূজোর মতো। মা আগেরদিন অনেক রান্না-বান্না করতো সকালবেলার জন্য, পূজো হতো। আমি সকাল ছটার মধ্যে ঘুম থেকে উঠতাম। বাবা সকালে উঠে পড়তো, আমার জন্য গন্ধরাজ ফুল নিয়ে আসতো। কারন আমার গন্ধরাজ ফুল পছন্দ। আমার বিছানায় গন্ধরাজ ফুল দিয়ে রাখতো, সেই ফুল নিয়ে আমার ঘুম ভাঙতো।

ফারিহা শামস সেওতি (অভিনেত্রী)

আসলে অনেক বছরই পহেলা বৈশাখ দেশে করা হয় না। আগে যেটা হতো বাবা, সাথে কাজিনদের নিয়ে অথবা বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে আমরা বের হতাম। তখন এত ভিড় হতো না। আমরা সকালে বের হয়ে ঢাকা ইউনিভার্সিটির ঐ এলাকায় যেয়ে পান্তা – ইলিশ খেয়ে দেয়ে, ফুফুদের বাসা ছিল আজিমপুরে, ঐ জায়গায় ঘুরে টুরে আসতাম। এই জিনিসগুলো আমার খুব মনে পড়ে, আমি খুব মিস করি। পহেলা বৈশাখে এখন আর দিনের বেলা বের হওয়া হয় না, আগে আমরা সকালের নাস্তা করতাম রাস্তায় বসে, পান্তা – ইলিশ খেতাম পরিবারের সবাই মিলে। এই স্মৃতিগুলো স্মরণীয়।