তেলেগু ইন্ডাস্ট্রিতে অবস্থান তৈরী করতে চান মেঘলা

গত শুক্রবার (১ ফেব্রুয়ারী) দক্ষিণ ভারতের দেড়শোর চেয়ে বেশি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে বাংলাদেশের মেয়ে মেঘলা মুক্তা অভিনীত তেলেগু ছবি ‘সাকালাকালা ভাল্লাভুডু’। ছবিটি শুরু থেকেই সাড়া ফেলেছে দর্শকের মাঝে। বিভিন্ন রিভিউতেও ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে শিবা গণেশ পরিচালিত ছবিটিকে। আলোচনায় এসেছেন মেঘলাও। হায়দ্রাবাদ থেকেই মেঘলা মুক্তা পেইজ থ্রি’র সাথে কথা বললেন।

পেইজ থ্রি’র সাথে আলাপচারিতায় মেঘলা জানালেন তার নিত্য নতুন অভিজ্ঞতার কথা। ছবিটির সাফল্য, দর্শক, নিজের ভবিষ্যত পরিকল্পনা ইত্যাদি নিয়ে মুঠোফোনে কথা হলো মেঘলার সাথে।

ছবিটি কেমন চলছে এমন প্রশ্নের জবাবে মেঘলা বলেন, আমাদের ছবিটির বাজেট কম ছিল। টার্গেট অডিয়েন্স ছিল শহরের বাইরে। সেসব অঞ্চলে, অর্থাৎ গ্রামের দিকে ছবিটি হাউজফুল যাচ্ছে। শহরেও ছবিটি ভাল চলছে।

ছবিটি দর্শকের সাথে মেঘলাও উপভোগ করেছেন। প্রথম দিনের প্রথম শোয় তিনি ছিলেন পুরোটা সময়। তখন দর্শকের উচ্ছ্বাস দেখেছেন, সিনেমাহলে যেভাবে মানুষ হই-হুল্লোড় করে সিনেমা দেখে সেভাবেই মেঘলার ছবিটি দেখেছে তারা। মেঘলা দর্শকের সাথে কথাও বলেছেন, তারা সকলেই তার প্রশংসা করেছেন।

এ প্রসঙ্গে মেঘলা বলেন, আমি প্রথমদিনের শোয় ছিলাম। এরপর বিভিন্ন সিনেমাহলে ২০-২৫ মিনিট করে ছিলাম। দর্শক আমাকে পর্দায় দেখে সিটি বাজিয়েছে, হাত তালি দিয়েছে।

মেঘলা প্রচারণার জন্য বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরছেন। তিনি জানালেন আট তারিখ পর্যন্ত প্রচারণা চলার কথা রয়েছে। ছবিটির প্রচারণায় রোড শো হচ্ছে কলাকুশলীদের নিয়ে। প্রচন্ড ব্যস্ততায় তাই কাটছে তার সময়।

সিনেমাটি নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ার ইতিবাচক রিভিউ মেঘলাকে মুগ্ধ করেছে। টিকেট ক্রয়ের ওয়েবসাইট বুক মাই শো-তে শুরুতে ৮০% বুকিং ছিল, যদিও সেটি কিছুটা কমে ৭২% এ নেমেছে। তেলেগু ফিল্মনগর ছবিটিকে তুলনা করেছে ‘এফ ২: ফান এন্ড ফ্রাস্ট্রেশান’ ছবিটির সাথে। এ ছবিতে ভেঙ্কটেশ, তামান্না ভাটিয়ার মতো তারকারা অভিনয় করেছেন এবং ছবিটির বাজেটও ছিল প্রায় আশি কোটি। এমন ছবির সাথে মেঘলার প্রথম ছবির তুলনায় মেঘলা অভিভূত।

অনলাইনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত পোর্টালে সাড়া ফেলেছে মেঘলার ছবি। দেশিমার্টিনি, ফিল্মিবিট তিন দশমিক সাতের মতো রেটিং দিয়েছে ছবিটিকে, বুকমাইশো-তে তিন দশমিক ছয় রেটিং পেয়েছে ছবিটি।

মেঘলাকে দেখে অন্যদেশের ভাবেনি কেউ। মিডিয়ার সামনে মেঘলা তেলেগু ভাষার চেয়ে হিন্দী বা ইংরেজিতে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করায় সকলে জানতে চায় তার দেশ সম্বন্ধে, তখনই মেঘলা গর্বভরে জানান তিনি বাংলাদেশের মেয়ে। একথা জানার পর দর্শক যেন তাকে আরো আপন করে ফেলে; এমনটাই জানালেন মেঘলা।

শুটিংয়ের শুরু থেকে ছবি মুক্তির পরেও মেঘলা ছবি সংশ্লিষ্টদের দারুণ সহযোগীতা পাচ্ছেন। তিনি এমন ইউনিট পেয়ে বেশ আনন্দিত, এমন ইউনিটের কারণে কাজ করা সহজ হয়ে গেছে জানাতে ভুললেন না তিনি। এখনো তার অনেক যত্ন নেয়া হচ্ছে, বিষয়টি মেঘলাকে মুগ্ধ করেছে।

বাংলাদেশ থেকে কোন অফার পেয়েছেন কিনা এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, এ ছবি মুক্তি পাওয়ার পর দেশ থেকে অনেকেই ইনবক্সে অভিনন্দন জানাচ্ছে। কথা বলছে। তবে এখনো কোন অফার পাইনি, হয়তো দেশে গেলে পাব।

বলিউডে যাবার কোন পরিকল্পনা আছে কিনা জানতে চাইলেই হেসে ফেললেন মেঘলা। বললেন, আমার তো মাত্র একটি ছবি মুক্তি পেল। আগে বেইজটা ঠিক করি, তারপর নাহয় দেখা যাবে।

তবে তিনি তেলেগু ইন্ডাস্ট্রির ছবিকে প্রাধান্য দিতে চান বলে জানান। কারণ তো জানাই, এ ছবিটিই তাকে ভিত্তি এনে দিচ্ছে বিশাল এ অঞ্চলে। তাই তিনি এ অঞ্চলে নিজের অবস্থান গড়ে তুলতে ইচ্ছুক।

এ ছবিটি মুক্তির আগেই কিন্তু মেঘলা আরেকটি ছবির কাজ শুরু করেছিলেন। সে ছবির কিছু কাজ হয়েছে, তবে সেবার বন্যা থাকায় ছবির কাজ আর এগুয়নি। সে ছবিতে মেঘলার নায়ক বিশ্বনাথ রেড্ডী, যিনি ‘সাকালাকালা ভাল্লাভুডু’ ছবিতে খলচরিত্রে অভিনয় করেছেন।

মেঘলা জানালেন তিনি এ মাসের শেষের দিকে দেশে ফিরতে পারেন। তবে তা নির্ভর করছে তার ব্যস্ততার উপর। কারণ ইতোমধ্যে তিনি নতুন কিছু ছবির অফার পেয়েছেন। কোনটির কাজ শুরু হয়ে গেলে তিনি দেশে আসা হয়তো পেছাবেন।

আরো অনেক কথা জানার থাকলেও ফোন রাখতে হলো। সারাদিন ব্যস্ততায় কাটানো মেঘলাকে কয়েকঘন্টা পর ছুটতে হবে প্রচারণার কাজে। তাই শুভকামনা জানিয়ে বিদায় জানাতে হলো তেলেগু ছবির নবাগতা, বাংলাদেশের মেয়ে মেঘলা মুক্তাকে। কথা দিলেন দেশে এলে দেখা হবে, জম্পেশ আড্ডা হবে।