নিজ এলাকায় চিরনিদ্রায় শায়িত টেলি সামাদ

বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা টেলি সামাদ নিজ এলাকায় চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন। মুন্সিগঞ্জের নয়াগাঁও এলাকায় বাবা – মা’র কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হয় আজ (৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে।

বিকাল সোয়া পাঁচটায় ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ভিডিও বার্তায় জানাজা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন তাঁর আমেরিকা প্রবাসী ছেলে সুমন সামাদ। তাঁকে দেখতে আসা স্বজন, প্রতিবেশী ও ভক্তরা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।

গতকাল (৬ এপ্রিল) শনিবার মাগরিবের নামাজের পর ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে টেলি সামাদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এশার নামাজের পর পশ্চিম রাজাবাজার মসজিদে। তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয় মগবাজারে দিলু রোডে শ্যালকের বাড়ির সামনের মসজিদে।

আজ বেলা ১১টার আগেই টেলি সামাদের মরদেহ বহনকারী গাড়ি এসে পৌঁছায় এফডিসিতে। সেখানে শেষ শ্রদ্ধা জানান তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা।

জানা গেছে গত পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে নানারকম শারিরীক সমস্যায় ভুগছিলেন এ গুণী ব্যক্তিত্ব। গত বৃহস্পতিবার রাতে আবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাঁকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন অবস্থা আরও খারাপ হলে বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় এই কৌতুক অভিনেতাকে লাইফ সাপোর্টে রাখার পরামর্শ দেন চিকিৎসক। গতকাল বেলা দেড়টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

১৯৪৫ সালের ৮ জানুয়ারি মুন্সিগঞ্জের নয়াগাঁও এলাকায় টেলি সামাদ জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৬ সালে পরিচালক নজরুল ইসলামের ‘কার বউ’ চলচ্চিত্রে তিনি প্রথম অভিনয় করেন। চার দশকে প্রায় ৬০০ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। টেলি সামাদ শেষ কাজ করেছেন ২০১৫ সালে অনিমেষ আইচের ‘জিরো ডিগ্রি’ ছবিতে।

তিনি দর্শকদের কাছে ‘পায়ে চলার পথ’ ছবির মাধ্যমে সর্বাধিক জনপ্রিয়তা পান। অভিনয়ের বাইরে অর্ধশতাধিক চলচ্চিত্রে তিনি গান গেয়েছেন। এ ছাড়া চিত্রশিল্পী হিসেবেও তার খ্যাতি ছিল।

প্রসঙ্গত, টেলি সামাদ স্ত্রী, দুই মেয়ে, এক ছেলেসহ অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন। দুই মেয়ে সোহেলা সামাদ ও সায়মা সামাদ ঢাকায় এবং ছেলে সুমন সামাদ যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন।