প্রতিষ্ঠিত অভিনেতাদের বিপরীতে অভিনয় করতে চাই : স্নেহা মুখার্জি

কলকাতার শোবিজের প্রতিশ্রুতিশীল নবীন অভিনেত্রী স্নেহা মুখার্জি। দক্ষিণ কলকাতার ঢাকুরিয়ার মেয়ে স্নেহা উপস্থাপনা, সাংবাদিকতার পর পা রেখেছেন অভিনয়ে। কাজ করেছেন বেশ কয়েকটি সিরিয়াল ও শর্ট ফিল্মে। নিজের কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের কথা জানালেন ডেইলিপেইজ থ্রি’র সাথে এক আলাপচারিতায়।

শোবিজে কিভাবে এলেন?

ছোটবেলায় নাচ – গান শিখেছি, অভিনয়ের ইচ্ছে থাকলেও কখনো ভাবিনি অভিনয় করবো। তবে আমার মা অনেক মুভিতে, থিয়েটারে কাজ করেছেন। মা থিয়েটারের রিহার্সেলে গেলে আমি মায়ের সাথে যেতাম। তখন খুব ছোট আমি। একবার একটা বাচ্চা মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তার জায়গায় আমি প্রথম থিয়েটারে কাজ করি মায়ের সাথে। মায়ের সাথে যেতে যেতে ডায়লগ মুখস্থ হয়ে গিয়েছিল আমার, তাই পেরেছিলাম অভিনয়টা করতে।

পরে পড়াশোনার চাপে ওদিকে মন দেইনি। এরপর হোটেল ম্যানেজম্যান্ট পড়ে কলকাতার অনেক হোটেলে জব করেছি। তাতে মনে তৃপ্তি ছিল না। মাস কমিউনিকেশন নিয়ে পড়ি আমি, তারপর মিউজিক বাংলার অডিশন দিয়ে সিলেক্ট হই। ওখান থেকেই প্রথম ইন্ডাস্ট্রিতে আসা।

মিউজিক বাংলার উপস্থাপনায় জনপ্রিয়তা পেয়েছিলাম। রিপোর্টিং করার সময় অনেকে বলতো তুই অভিনয় করিস না কেন? তারপর ডিরেক্টর অভিনেতা অনিন্দ্য সরকারের সাথে প্রথম কাজ জি সিনেমা অরিজিনালস ‘রাগিনি’। তারপর পার্পল অরিজিনালস ময়ুখ চ্যাটার্জির হাত ধরে একের পর এক কাজ করলাম। এভাবেই শোবিজে এসে পড়লাম আমি।

উপস্থাপনা ও টিভি রিপোর্টিং দিয়ে শোবিজে পা রাখেন স্নেহা

এ পর্যন্ত কি কি কাজ করেছেন?

অনিন্দ্য সরকারের পরিচালনায় জি সিনেমা অরিজিনালস ‘রাগিনি’ – তে ছোট্ট একটি চরিত্রে কাজ করলাম। তারপর পার্পল অরিজিনাল মুভিজে একে একে শর্ট ফিল্ম ‘স্ক্রীন টেস্ট’, ‘এমএমএস স্ক্যান্ডাল’, ‘লাভ গেম’ ইত্যাদি; সিরিয়াল ‘চৈতন্য মহা প্রভু’, ‘লোকনাথ’, ‘সারদা মা’, ‘ভানুমতির খেল’ ইত্যাদিতে কাজ করেছি। হিন্দি সিনেমা ‘রাজনন্দিনী’ আসবে সামনে। ছবিটি পরিচালনা করেছেন তন্ময় রয়, টেকনিক্যাল ডিরেক্টর নাদু গোপাল আর প্রযোজনা করছেন সুধীর দত্ত। এছাড়া কিছু টিভিসির কাজও করেছি। ওয়েব সিরিজ ‘চম্পা রানি’ – তে কাজ করছি।

অনেকগুলো শর্ট ফিল্মে কাজ করেছেন স্নেহা

কাজগুলোয় কেমন সাড়া পেয়েছিলেন?

উপস্থাপনা যখন করতাম তখন ভালো সাড়া পেতাম। খুব কম সময়ে নিজের কঠোর পরিশ্রমে কাজ শিখেছি। স্ক্রিনটেস্ট, এমএমএস স্ক্যান্ডাল – এই শর্ট ফিল্মগুলো ইউটিউবে মিলিয়ন ভিউ হয়েছে। ওয়েব সিরিজ ‘চম্পা রানি’ – তেও ভালো সাড়া পাচ্ছি। আজকাল যেখানেই যাই সবাই ‘চম্পা রানি’ ওয়েব সিরিজ নিয়ে চর্চা করে।

প্রসেনজিৎ – এর সাথে স্নেহা

আপনার পরিবারের কেমন সহযোগিতা পেয়েছেন শোবিজে কাজ করা নিয়ে?

পরিবারে আমি আর মা। বাবা ২০১৪ সালে মারা গেছেন। তিনি প্রাক্তন ফুটবলার পিযুষ মুখার্জি। ছোট থেকেই বাবা চাইতেন আমি অভিনয় করি। আমাকে উনি টিভিতে দেখতে চাইতেন। তবে বাবা বেঁচে থাকাকালীন আমি টিভিতে উপস্থাপনা আর রিপোর্টিং করতাম। মা সুস্মিতা মুখার্জি অভিনয় করতেন। সেই ক্ষেত্রে ফ্যামিলি সাপোর্টটা ছিল যা আজো আছে।

ঋতুপর্ণার সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন স্নেহা

ভবিষ্যত নিয়ে কি ভাবছেন?

ভবিষ্যতে কি হবে কেউ বলতে পারেনা। ইচ্ছা আছে অনেককিছু। সৎভাবে কঠিন পরিশ্রম করে আমার জীবনের লক্ষ্যে পা দেব। ভবিষ্যতে প্রসেনজিৎ, জিৎ, দেবসহ প্রতিষ্ঠিত অভিনেতাদের বিপরীতে অভিনয় করতে চাই। যদিও তাদের সাথে অ্যাংকরিংয়ের সময় কাজ করেছি।

সবটাই সৃষ্টিকর্তার উপর নির্ভর করছে। আজ যে জায়গায় আছি সেটাও তো সৃষ্টিকর্তা, বাবা – মা বা আপনাদের ভালোবাসার জন্য। অনেক প্রজেক্ট সামনে আছে। প্লিজ পাশে থাকবেন।