প্রধানমন্ত্রীর সান্নিধ্যে টিম বাংলাদেশ

দেশের মাটিতে প্রস্তুতিপর্ব শেষ। অনুশীলনে ঘাম ঝড়িয়ে আসন্ন বিশ্বকাপের জন্য নিজেদের ঝালিয়ে নিয়েছেন মাশরাফি-মুশফিক-তামিমরা। বিশ^কাপ আর আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় ত্রিদেশীয় সিরিজকে সামনে রেখে আজ সকাল সাড়ে ১০টায় এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ দল। এর আগে মঙ্গলবার টাইগার ক্রিকেটাররা পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সান্নিধ্য। এদিন দুপুর সাড়ে ১২টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে পৌঁছান ক্রিকেটাররা, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং মধ্যাহ্নভোজ সেরে বেরিয়ে আছেন বিকাল তিনটার দিকে।
মাশরাফি বিন মর্তুজা, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদসহ দলের সিনিয়র ক্রিকেটাররা অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন দলের সব খেলোয়াড়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পরিচয় করিয়ে দেন। এ সময় বিশ্বকাপে মাশরাফি ব্রিগেডকে আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলার পরামর্শ দেন শেখ হাসিনা। অধৈর্য ও হতাশ না হয়ে শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার কথা বলেছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীকে খেলা দেখতে ইংল্যান্ডে যাওয়ার অনুরোধ করেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান। প্রধানমন্ত্রী মৃদু হাস্যে জানান, তার যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে। ক্রিকেটারদের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কোনোরকম চাপ নেবে না। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তোমাদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলে যেতে হবে। একদিন অবশ্যই তোমরা বিশ^কাপ জিততে সমর্থ হবে ইনশাআল্লাহ।’ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘শেষের দিকে ঘাবড়ে যেও না। শেষের দিকে স্ট্যামিনাটা ঠিক রাখতে হবে। একবার ছয় মারলে মনে হতে পারে পরেরটা আবারও ছয় মারতে পারবে। ওই সময় শান্ত থেকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
দলীয় অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা মাথা নেড়ে প্রধানমন্ত্রীর কথায় একমত প্রকাশ করেন। এই পর্যায়ে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান বলেন, ‘মুশফিক (মুশফিকুর রহিম) বলেছেন এবার আমরা সবাইকে হারাতে যাচ্ছি।’ প্রধানমন্ত্রীকে পাশে পেলে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বেড়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন বিসিবি সভাপতি। এরই প্রেক্ষিতে ক্রিকেটারদের উদ্দেশ্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার ফোন নম্বর তো তোমাদের অনেকের কাছে আছে। তোমরা আমাকে মেসেজ পাঠিও। এরপর ফোনে কথা বলা যাবে। আমি তো অনেকের সঙ্গে কথাও বলি।’


ইংল্যান্ডে বিশ্বকাপ হওয়ায় সেখানে বসবাসকারী অনেক বাঙালির সমর্থন পাওয়া যাবে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। ম্যাচের ফলাফল যাই হোক না কেন খেলোয়াড়সুলভ মনোভাব নিয়ে সেটা মেনে নেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ওদের কোনো চাপ দিও না। খেলার ফলাফলের পর ওদের কিন্তু কোনো বকঝকা করবে না। খেলোয়াড়সুলভ মনোভাব নিয়ে ফলাফল মেনে নিতে হবে।’ বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘খেলার সময়ই তো আপনি সবসময় এই নিয়ে ফোন করে বলে দেন। তাই আমরা ওদের কোনো ধরনের বকাঝকা করি না।’
বিশ^কাপকে কেন্দ্র করে ফিটনেস বাড়াতে অনেক ক্রিকেটারই ওজন কমানোর চেষ্টা করেছেন। বিষয়টা জানতে পেরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘একেবারে শুকিয়ে গেলে ফিট থাকবে, তা তো না। শুকানোর চেষ্টা করতে গিয়ে নিজেদের দুর্বল করে ফেলো না।’ ক্রিকেটারদের মধ্যে ৫-৬ জন এবার বিশ্বকাপের আগে বিয়ে করেছেন, একজনের এমন মন্তব্যে উপস্থিত সবাই হেসে ফেলেন। প্রধানমন্ত্রী তখন বলেন, ‘আগামীতে তোমরা এখানে নিজেদের পরিবার নিয়ে আসবে।’
অনুষ্ঠানে দলের ক্রিকেটাররা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিসিবি পরিচালক ও সংসদ সদস্য এএম নাঈমুর রহমান দুর্জয়, বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান আকরাম খান, বিশ্বকাপ দলের ম্যানেজার ও বিসিবি পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজন, প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। বিসিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কোচিং স্টাফের সদস্যরাও।

মতামত দিন