ব্যাটিংর পুরনো রূপে বাংলাদেশ

জিম্বাবুয়ে ২৮২ (উইলিয়ামস ৮৮, মুর ৬৩, তাইজুল ৬-১০৮) ও ১৮১ (মাসাকাদজা ৪৮, তাইজুল ৫-৬২); বাংলাদেশ ১৪৩ (আরিফুল ৪১, চাতারা ৩-১৯, রাজা ৩-৩৫) ও ১৬৯ (ইমরুল ৪৩, আরিফুল ৩৮, মাবুতা ৪-২১, রাজা ৩-৩১)

কে ভেবেছিল এমনটি হবে? জিম্বাবুয়ের বিপরীতে টেস্টে একরকম ফেভারিট ছিল বাংলাদেশই। তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসানের অনুপস্থিতির পরেও জিম্বাবুয়ের পক্ষে বাজী ধরার লোক কমই ছিল। সবসময় কাগজ কলমের হিসেব কষে জয় পরাজয় আসেনা। এখানেও আসেনি। বাংলাদেশ দাপটের সাথে ওয়ানডে জিতলেও নাকানি-চুবানি খেল টেস্টে।

সিলেট স্টেডিয়াম দেখলে চোখ জুড়িয়ে যেতে বাধ্য। পাহাড়ের কোল ঘেঁষে নির্মিত এ স্টেডিয়ামের সৌন্দর্য বোধহয় উপভোগ করা হলো না বাংলাদেশী ক্রিকেটারদের। নিজেদের কদর্য ব্যাটিং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে কালিমা লেপে দিয়েছে। তাই স্টেডিয়ামটির অভিষেকে হার দিয়ে যাত্রা শুরু করলো বাংলাদেশ।

টেস্ট ক্যাপ্টেন সাকিব আল হাসানের অনুপস্থিতিতে টেস্ট অধিনায়কের ক্যাপ মাথায় দিয়েছিলেন মাহমুদুল্লাহ। তাকে ভাবা হয় পরবর্তী ক্যাপ্টেন। খুব একটা সুখকর হলো না তার অভিষেক। প্রথম ইনিংসে কোন রান করতে না পারলেও দ্বিতীয় ইনিংসে কিছু রান করলেন, তবে যেভাবে মারতে গিয়ে আউট হলেন তা অপ্রত্যাশিত।

প্রথম ইনিংসের ব্যাটিং ব্যর্থতায় চতুর্থ ইনিংসে জয়ের জন্য ৩২১ রানের লক্ষ্যমাত্রায় ব্যাট হাতে নামতে হয় বাংলাদেশকে। তৃতীয় দিন শেষে ইমরুল ও লিটন উইকেট অক্ষত রেখে যখন ফিরে আসছিলেন তখন অতি আশাবাদী কেউ কেউ হয়তো জয়ের স্বপ্ন দেখেছিলেন।

চতুর্থ দিনের প্রথম সেশন সে প্রত্যাশার বেলুনকে ফাটিয়ে দিয়েছে, পাঁচ উইকেট যখন পড়ে যায় তখনই। এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। মাত্র ১৬৯ রানে গুটিয়ে যায় দ্বিতীয় ইনিংসে।

জিম্বাবুয়েকে ১৭ বছর পর বিদেশের মাটিতে জয়ের স্বাদ পেতে আর বেশি অপেক্ষা করতে হলো না। ২০০১ সালে এই বাংলাদেশকেই চট্টগ্রামে হারিয়েছিল জিম্বাবুয়ে!

অন্যদিকে ২০১৩ সালে পাকিস্তানকে হারানোর পর প্রথম টেস্ট জয় পেল আগামী বিশ্বকাপে সুযোগ না পাওয়া জিম্বাবুয়ে।

একমাত্র তরুণ আরিফুলই যা চেষ্টা করার করেছিলেন। তার ৩৮ রান পরাজয়ের ব্যবধান কমিয়েছে। আর সিনিয়র মুশফিক, মাহমুদুল্লাহ, ইমরুল অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে না পেরে দলের হার তরান্বিতই করেছেন শুধু।

লিটন, শান্ত, মিরাজদের কাছে বেশি কিছু তো প্রত্যাশিত ছিল না, আশা ছিল তারা অন্তত বলের মেধা অনুযায়ী ব্যাট চালাবেন। সেশন বাই সেশন ব্যাট করে দিন পার করবেন। তা আর হলো কই, লাগামহীন ব্যাটিং যেন মনে করিয়ে দিল এ রোগ আমাদের পুরনো, বড্ড পুরনো।

সাড়ে তিন দিনে টেস্ট ম্যাচ হেরে তাইজুলের ১১ উইকেট প্রাপ্তিকে বিবর্ণ করে দিল বাংলাদেশ।

একটি তথ্য দিয়ে শেষ করছি। গত চার টেস্টে বাংলাদেশের স্কোর কিন্তু অশনী সংকেত দিচ্ছে – ১১০, ১২৩, ৪৩, ১৪৪, ১৪৯, ১৬৮,১৪৩ ও ১৬৯।

মতামত দিন