ভক্তের ভালোবাসায় জয়ার মুগ্ধতা

তারকাদের জন্য ভক্তরা কতকিছুই তো করেন। বাইরের দেশের তারকাদের জন্য ভক্তদের চরম পর্যায়ের পাগলামি চোখে পড়ে। প্রিয় তারকার সাথে সেলফি তোলার জন্য, তাকে একটু দেখার জন্য, তার কণ্ঠ শোনার জন্য ভক্তদের পাগলামির শত শত নজির দেয়া যাবে। কলকাতার বারাসাত শহরের বাসিন্দা তিথি চৌধুরী প্রিয় তারকার জন্য ভালোবাসার অনন্য দৃষ্টান্ত গড়লেন। গত ১ জুলাই ছিল দুই বাংলার নন্দিত অভিনেত্রী জয়া আহসানের জন্মদিন। জয়ার জন্মদিন মন্দিরে পূজো দিয়ে, শিশুদের কেক-বিস্কিট খাইয়ে উদযাপন করেন তিথি।

তিথির শিকড় বাংলাদেশের চট্টগ্রামে হলেও তিনি বর্তমানে কলকাতার বাসিন্দা। চট্টগ্রামে মামার বাসায় বেড়াতে এসে জয়ার একটি টেলিছবি দেখে তার ভক্ত হয়ে পড়েন তিথি। ভালোবেসে জয়াকে মাম্মাম ডাকেন তিনি।

জয়ার জন্মদিন পালন উপলক্ষে এই প্রতিবেদককে তিথি জানান, ১ জুলাই আমার কাছে ভীষন গুরুত্বপূর্ণ একটা দিন। আমার মাম্মাম এর জন্মদিন। কোনোদিন উনার সাথে দিনটি পালন করার সুযোগ হয়ে ওঠেনি । তাই দিনটা আমি নিজের মতো করে পালন করি। এমনিতে আমি সকালে উঠতে পারিনা। কিন্তু, এ দিনে আমি সকাল সকাল উঠে মন্দিরে যাই মাম্মাম এর নামে পূজো দিতে। ভগবানের কাছে উনার জন্য প্রার্থনা করি। তারপর বাড়ি এসেই উনার কোনো একটা সিনেমার গান পেনড্রাইভ দিয়ে টিভিতে জোরে চালিয়ে দিই। পুরো পাড়ার লোক শুনতে পায়।

কলকাতায় শিশুদের হাতে জয়ার পোস্টার

তিথি যোগ করেন, যেবার আমি প্রথম মাম্মাম এর জন্মদিন পালন করেছিলাম আমার বাড়িতে কেক এনে সেবার সবাই আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করেছিল। বলেছিলো, ‘কিসব করিস তুই? পাগল নাকি? উনি দেখবেন? উনি কি এই কেকটা কাটবেন নাকি? যার জন্মদিন সেই তো কেক টা কাটবে না! জন্মদিন কি তোর নাকি? নিজে কেক এনে নিজেই কাটছিস!’

শিশুদের সাথে জয়ার ভক্ত তিথি

তিনি আরো বলেন, সেই বছর আমার এতোটাই খারাপ লেগেছিল পরের বছর থেকে আমি আর মাম্মামের জন্মদিন বাড়িতে পালন করিনা। আমার বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে কিছু বাচ্চা আছে। অনেক ছোট্ট ছোট্ট বাচ্চা আছে। আমার বড়দিন, পূজো, আমার জন্মদিন সবকিছুই আমি ওদের সাথে পালন করি। মাম্মাম এর জন্মদিনও আমি ওদের সাথে পালন করি। নিজের সামর্থ্য মত কেক, বিস্কিট আর মাম্মাম এর ছবি নিয়েই এবারও পালন করলাম উনার জন্মদিন। আমি উনাকে ভীষণ ভালোবাসি, সেটা প্রকাশ করার ভাষা আমার নেই। সবসময় চাই উনি ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন। আমার কাছে উনি খুব গুরুত্বপূর্ণ একজন মানুষ।। আমি সারাজীবন উনাকে এভাবেই ভালোবেসে যাবো।

শিশুদের খাবার দিচ্ছেন তিথি

তিথির এ ভালোবাসার খবর জয়া আহসানের কাছেও পৌঁছে গেছে। তিনি তিথির ভালোবাসায় মুগ্ধ হয়েছেন, শিশুদের সাথে সময় কাটাতে না পারার জন্য আফসোসও করেছেন তিনি। জয়ার অফিসিয়াল পেজের স্টোরিতেও শোভা পেয়েছে তিথির করা ডিজিটাল পেইন্টিং।

জন্মদিনে ইংল্যান্ডে অবস্থানরত জয়া নিশ্চিত করেছেন তিথির সাথে দেখা করবেন তিনি সুযোগ পেলেই। তিথিও নিজের স্বপ্ন পূরণের আশায় দিন গুণছেন।

প্রসঙ্গত, তিথি বর্তমানে থ্রিডি এনিমেশন ও গ্রাফিক্স ডিজাইন নিয়ে পড়াশোনা করছেন। তার ইচ্ছে শোবিজে গ্রাফিক্স ডিজাইন বিষয়ক কাজ করবেন। তিনি ইতোমধ্যেই জয়া আহসান বাদেও প্রিয়াঙ্কা সরকার, আবির চ্যাটার্জি প্রমুখের ডিজিটাল পেইন্টিং করে প্রশংসিত হয়েছেন।