ভুল পরিকল্পনায় হারলো বাংলাদেশ

২০১৫ ও ২০১১, পরপর দুই বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারায় বাংলাদেশ। কার্ডিফেও বাংলাদেশের জয়ের রেকর্ড শতভাগ। হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডকে। সেই সূত্র মানলে আজকের ম্যাচেও জেতার কথা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু জিততে হলে যথাযথ পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করতে হয়, তা আর পারলো কই বাংলাদেশ? ভুল পরিকল্পনায় ১০৬ রানে হারতে হলো স্বাগতিক ইংল্যান্ডের সাথে। বিফলে গেল সাকিবের শতরান।

টস জিতেছিলেন মাশরাফি। গেল দুই দিন ঢেকে রাখা পিচের সুবিধা নিতে চেয়েছিলেন সকাল সকাল। কিন্তু দলে ছিলেন না রুবেল কিংবা আবু জায়েদ। তিন মিডিয়াম পেসার নিয়ে ইংল্যান্ডকে কাঁপানোর স্বপ্ন দেখাটাও দু:সাহস। শুরুতেই রয়ের স্পিন দুর্বলতার সুযোগ নিতে বল হাতে নিলেন সাকিব। প্রথম পাঁচ ওভার মাত্র ১৫ রান দিয়ে ভালো কিছুর ইঙ্গিত দিলেও একজন জেনুইন পেসারের অভাবে কিংবা বলা চলে জেনুইন বোলারের অভাব প্রকট হতে শুরু করলো ধীরে ধীরে।

রয়ের ধুন্ধুমার ব্যাটিং, বোলারদের দিশেহারা বোলিং, ফিল্ডারদের মাখন মাখা হাত – সব মিলিয়ে বোর্ডে ৩৮৬ রান দাঁড় করালো ইংল্যান্ড। ছোট মাঠের সবটুকু সুবিধা নিয়েছে ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা, আর ছিল রানিং বিটুইন দ্য উইকেটের দক্ষতা। ইংলিশ ব্যাটিংয়ের সামনে একসময় মনে হচ্ছিল হাল ছেড়ে দিয়েছে সবাই। অভাববোধ হচ্ছিল রুবেলের, গত বিশ্বকাপেই ৫৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচ জিতিয়েছিলেন এই পেসার। আর সেই রুবেলকে রেখেই খেললো বাংলাদেশ!

ব্যাটিংটাও আর জমলো না। ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা যতো সহজে ছয় মারছিলেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের জন্য চার মারাটাই ছিল ততো কঠিন। সৌম্যের পা চললো না, তামিমের টাইমিং হলো না – ফলাফল দুজনেই প্যাভিলিয়নে। সাকিব বরাবরের মতো রুখে দাঁড়ালেন, সঙ্গ দিলেন মুশফিক। ১২১ রানে ফিরলেন সাকিব, দলের সংগ্রহ ২৮০ পর্যন্ত গিয়ে ঠেকল মোসাদ্দেক, মেহেদী ও মাহমুদুল্লাহর ছোট ছোট ইনিংসে।

শেষ পর্যন্ত ১০৬ রানে হার মানতে হলো বাংলাদেশকে। এমন ভুল সামনের ম্যাচগুলোতেও করলে ম্যাককুলামের ভবিষ্যতবাণী সফল হয়ে যেতে পারে!

স্কোর: ইংল্যান্ড ৩৮৬/৬ (রয় ১৫৩) – বাংলাদেশ ২৮০ (৪৮.৫) (সাকিব ১২১, স্টোকস ২৩/৩, আর্চার ২৯/৩)

মতামত দিন