যদি দর্শকের কাছে ছবিটি বেঁচে থাকে তাহলে মৌসুমীও বেঁচে থাকবে

‘যদি দর্শকের কাছে ছবিটি বেঁচে থাকে তাহলে মৌসুমীও বেঁচে থাকবে’ – ‘অর্জন ৭১’ ছবির মহরতে এসে এমন কথাই বললেন ঢালিউডের প্রিয়দর্শিনী খ্যাত অভিনেত্রী মৌসুমী। গত ১৬ জুলাই মঙ্গলবার বিএফডিসির এটিএন বাংলা ফ্লোরে ছবিটির মহরত অনুষ্ঠিত হয়। ছবিটি পরিচালনা করবেন মির্জা সাখাওয়াত হোসেন। এ ছবিতে মৌসুমীর পাশাপাশি অভিনয়ে থাকবেন শতাব্দী ওয়াদুদ।

উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য অ্যাডভোকেট মো. নুরুল ইসলাম ঠান্ডু। প্রধান অতিথি ছিলেন  স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন, ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার, ছবির পরিচালক ও অভিনয়শিল্পীরা।

মৌসুমী তার বক্তব্যে বলেন, বাঙালীর সবচেয়ে বড় অর্জন ৭১ এর স্বাধীনতা। আমরা যুদ্ধটা হয়তো দেখিনি কিন্তু অতপ্র‌োতভাবে আমরা সবাই জড়িত। আমাদের বাবা, দাদা, ভাই, বন্ধু, আপনজন যারা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন তাদের অংশবিশেষ ছিলেন আমাদের পুলিশ বাহিনী। যারা যুদ্ধ করেছেন, ট্রেনিং করিয়েছেন আনাড়ী মুক্তিযোদ্ধাদের, যারা এক মুহুর্তে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন দেশ রক্ষায়। তাদের পরিবারের কি হয়েছিল তখন? তারা কি অবস্থায় ছিলেন? তাদের তো ইউনিফর্ম ছিল, তারা তো লুকিয়ে থাকতে পারেননি। সেসব মানুষদের জীবনে কি ঘটেছিল? বছরে একবার দুইবার যদি তাদের পরিবারের কেউ ক্যামেরার সামনে এসে কিছু বলে তখন আমরা জানতে পারি। তেমনই একটি পরিবারের কাহিনী আমাদের ‘অর্জন ৭১’।

পরিচালককে ধন্যবাদ জানিয়ে মৌসুমী বলেন, মির্জা সাখাওয়াত হোসেনকে ধন্যবাদ তিনি আমাকে সিলেক্ট করেছেন। আমি তার মেয়ের একটি ইন্টারভিউ শুনেছিলাম, তাদের পরিবারে কি হয়েছিল। তখন অঝোরে চোখের পানি পড়েছিল আমার। সাখাওয়াত ভাই যখন গল্পটা শুরু করলেন তখন আমি বলেছি আমি ইন্টারভিউটা দেখেছি, আমি তো জানি। অদ্ভূত একটা কাহিনী, কঠিন একটা কাহিনী। সত্যি স্যালুট জানাতে হয় এসব বীর যোদ্ধাদের।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মৌসুমী বলেন, আমরা সারাজীবন কৃতজ্ঞ জাতির পিতার কাছে। তার চেতনার ডাক যদি আমরা কেউ না শুনতাম, যদি আমাদের কানে না পৌঁছাত তাহলে বাঙালী এত উজ্জীবিত হতো না। এমন সুন্দর একটি স্বাধীনতার স্বাদ আমরা পেতাম না।

তিনি আরো বলেন, আশা করছি আমাদের এ ছবিটি অনেক ভালো হবে। সাখাওয়াত ভাইর সুন্দর একটি চিন্তার জন্য সত্যি আমি অভিভূত। সুন্দর একটি গল্প তিনি চিন্তা করেছেন। ছবি নির্মাণের ক্ষেত্রে সুন্দর একটি গল্পই বড় প্রয়োজন। আশা করি কাজটাও ভাল হবে। উনার সিলেকশানেও আমার বিশ্বাস আছে। আমি আমার সর্বোচ্চটাই দিতে চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। এবং আমি একটি স্বপ্নও দেখছি ছবিটা দিয়ে। আমার আর চাওয়ার কিছু নেই, যদি ছবিটা ভালো হয় তাহলে আমি স্বার্থক। যদি দর্শকের কাছে অনেকদিন ছবিটি বেঁচে থাকে তাহলে মৌসুমীও বেঁচে থাকবে।

পরিশেষে মৌসুমী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান শিল্পীদের প্রতি ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দেয়ার জন্য। তিনি সকল শিল্পীদের পক্ষ হতে তাকে শুভেচ্ছা জানান।

প্রসঙ্গত, একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে তৈরি হবে সিনেমাটি। মুক্তিযুদ্ধের সময় পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন আবদুল কাদের মিয়া। ১৯৭১ সালে ১ জুন তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তার জীবন গল্পের উপর নির্মিত হবে ‘অর্জন ৭১’। এতে মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাদের মিয়ার চরিত্রে অভিনয় করবেন শতাব্দী ওয়াদুদ। আর তার স্ত্রী ফিরোজার চরিত্রে দেখা যাবে মৌসুমীকে। ‘অর্জন ৭১’ – এর শুটিং ঈদের পর শুরু হবে।