রবীন্দ্রসংগীত গাওয়া ও ধারণ করার মধ্যে তফাৎ আছে : দেবলীনা সুর

আজ ২২শে শ্রাবণ। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস। বিশেষ এ দিন উপলক্ষে প্রাসঙ্গিক বিষয়বস্তু নিয়ে কথা বলেছেন রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী দেবলীনা সুর। 

আজ তো ২২শে শ্রাবণ, কবিগুরুর প্রয়াণ দিবস। এ দিবস উপলক্ষ্যে কি কি আয়োজন থাকছে?

বিভিন্ন চ্যানেলে রবীন্দ্র প্রয়াণ উপলক্ষে গান গেয়েছি। সেগুলো প্রচার হবে। আরেকটি কাজ করেছি। আমার ভীষণ ভালোলাগার একজন মানুষ জয়তী চক্রবর্তী। বেশ কিছুদিন আগে তিনি আরটিভি’র আমন্ত্রণে বাংলাদেশে এসেছিলেন। কর্তৃপক্ষ চেয়েছিলেন কোন রবীন্দ্র সংগীত শিল্পীই যেন উনাকে উপস্থাপন করেন। আমি সাধারণত এনটিভি ছাড়া কোথাও উপস্থাপনা করিনা, কিন্তু জয়তী দিদিকে এত কাছে থেকে শোনার সুযোগের জন্যই উপস্থাপনা করেছি। অনুষ্ঠানটি প্রচার হবে। এছাড়া বিটিভি, বাংলাভিশন, বৈশাখি টিভিতে গান গেয়েছি, ওগুলো প্রচার হবার কথা রয়েছে।

‘খেলাঘর’ ভিডিওচিত্র করলেন, একটি টেলিছবির আবহসংগীতের কাজও করেছেন এ বছর . . .

আরেকটা কাজ করেছি। শিশুতোষ চ্যানেল ‘দুরন্ত’-তে বাচ্চাদের গান শেখাচ্ছি। এটার জন্য অপেক্ষা করি। অনুষ্ঠানটি আগে একবার হয়েছিল। সেবার ওদেরকে আমি আমার পড়াশোনার বিষয়, রবীন্দ্রসংগীত শিখিয়েছিলাম। এবার বিষয়বস্তু বদলেছে। লোকসংগীত শিখাচ্ছি বাচ্চাদের। আমি এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি, শুরুতে সংশয়ে ছিলাম পারবো কিনা। যদিও বিভিন্ন জায়গায় রেসপন্স ভালো পাচ্ছি বাচ্চাদের কাছে, মায়েদের কাছে। ভালো লাগছে মানুষের কাছে একটু হলেও যেতে পারছি।

কাজের পরিকল্পনা . . .

কাজের পরিকল্পনা চলছে, এখনই প্রকাশ করতে চাচ্ছিনা। আরেকটা ব্যাপার কি এখন তো ওভাবে কেউ অ্যালবাম বের করে না। গত অক্টোবরেই আমার একটি অ্যালবাম বেরিয়েছে। ওখান থেকে একটি মিউজিক ভিডিও করেছি। ‘খেলাঘর’ – টা করলাম পয়লা বৈশাখে। তাৎক্ষণিক ফলাফল আশা করা মুশকিল, রবীন্দ্রসংগীত যেহেতু। তবুও মানুষের ভালো লেগেছে, ইউটিউবে ঢুকলেই বোঝা যায়।

আরো ভিডিওচিত্র পাওয়া যাবে তাহলে?

তা তো অবশ্যই। এখন যেহেতু সময়ই চাচ্ছে, মানুষের পুরো অ্যালবামের গান শোনার সময় নেই। মানুষ এখন ভিডিও আকারেই গান পেতে চাইছে।

নতুন প্রজন্মের রবীন্দ্রচর্চা কিভাবে দেখছেন?

এতদিন পর্যন্ত আমি কিন্তু ভালোই বলেছি। একটা বিষয় কি, রবীন্দ্রসংগীত গাওয়া ও রবীন্দ্রসংগীত ধারণ করা দুটোর মধ্যে তফাৎ আছে। শুধু গাইলেই হবে না। যেমন লোকগান যখন আমাকে শেখাতে বলছিল আমি না না করছিলাম, কতোটা ভেতরে যেতে পারব সে বিষয়ে আমার সংশয় ছিল। এ প্রজন্মের অনেকেই তো গাইছে, তবে ধারণ করাটা জরুরী। সেই ধারণটা একলা একলা হয় না, কারো সহযোগীতা দরকার। বিশেষ করে অগ্রজদের। বাংলাদেশে প্রচুর গুণী শিল্পী আছেন, তাদের কাছে যেতে পারে। ইউটিউবেও প্রচুর ভালো ভালো রবীন্দ্রসংগীত আছে, যেগুলো স্বরলিপি অনুসারে গাওয়া হয়েছে; সেগুলো অনুসরণ করতে পারে। তারচেয়েও বড় কথা রবীন্দ্রসংগীতের যে মূল অর্থ, শুধু গানটাই তো গান না এটা তো আমাদের জীবনের সাথে মিলেমিশে একাকার এই উপলব্ধির জায়গাটা গভীর না হলে কতদূর তার ফলাফল আমার মনে প্রশ্ন জাগে।

ইদানিং দেখা যায় রবীন্দ্রসংগীতকে নতুন আয়োজনে উপস্থাপন করা হচ্ছে, বিষয়টি নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কি?

আমার অ্যালবামেও আমি সংগীত আয়োজনে একটু ভিন্নতা এনেছি। রবীন্দ্রনাথ নিজেও আধুনিক ছিলেন। এই সময়ে থাকলে উনি নিশ্চয়ই আধুনিকতার বিষয়গুলো ব্যবহার করতেন। গানের বাণীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ সংগীত আয়োজন হলে, সেটা আমার পক্ষ থেকে সাধুবাদ। যেন গানের ভাবটা নষ্ট না হয়ে যায়।