আমজাদ হোসেনের মরদেহ শহীদ মিনারে

শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় আমজাদ হোসেনকে বিদায়

সকলের ভালোবাসা আর ফুলেল শ্রদ্ধায় বিদায় জানানো হলো বরেণ্য অভিনেতা ও পরিচালক আমজাদ হোসেনকে। শনিবার (২২ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গুণি এই নির্মাতার মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন চলচ্চিত্র ও শিল্পাঙ্গনের বিশিষ্ট জনেরা।

বেলা ১টার দিকে বিএফডিসিতে তার মরদেহ নেয়া হয়। সেখানে তার দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে চির বিদায় দেন। সেখানে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। প্রিয় মানুষটিকে শেষবারের মতো এক নজর দেখেতে বিএফডিসিতে এসেছিলেন  চলচ্চিত্র ও নাট্যাঙ্গনের অনেকেই।

এরপর চ্যানেল আইয়ের কার্যালয়ে নেয়া হয়। সেখানে জানাজা শেষে আমজাদ হোসেনের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে জামালপুর।  রোববার (২৩ ডিসেম্বর) জামালপুরে নিজ গ্রামে পারিবারিক কবরস্তানে দাফন করা হবে আমজাদ হোসেনকে।

১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৫৭ মিনিটে ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই নির্মাতা।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি উদ্যোগে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রখ্যাত এই চলচ্চিত্রকারকে ২৭ নভেম্বর দিবাগত রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে। এর আগে ১৮ নভেম্বর সকালে নিজ বাসায় ঘুমের মধ্যে স্ট্রোকে আক্রান্ত হন আমজাদ হোসেন। পরে তাকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

৭৬ বছর বয়সী এই চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব নানা ধরনের কাজের জন্য সমাদৃত। একাধারে তিনি চলচ্চিত্র পরিচালনা, প্রযোজনা, অভিনেতা, গীতিকার ও সাহিত্যিক হিসেবে কাজ করছেন।

গুণী এই পরিচালক ১৯৭৮ সালে ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ এবং ১৯৮৪ সালে ‘ভাত দে’ চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়া শিশুসাহিত্য রচনার জন্য তিনি ১৯৯৩ ও ১৯৯৪ সালে দুইবার অগ্রণী শিশুসাহিত্য পুরস্কার এবং ২০০৪ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।

কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ একুশে পদক, স্বাধীনতা পদকসহ একাধিক রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি। আমজাদ হোসেন ১৯৪২ সালের ১৪ আগস্ট জামালপুরে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই তিনি সাহিত্যের প্রতি অনুরাগী ছিলেন। পঞ্চাশের দশকে ঢাকায় এসে সাহিত্য ও নাট্যচর্চার সঙ্গে জড়িত হন।

আমজাদ হোসেন (১৯৪২ সালের ১৪ আগস্ট- ২০১৮ সালের ১৪ ডিসেম্বর)তার নির্মিত চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘বাল্যবন্ধু’, ‘পিতাপুত্র’, ‘এই নিয়ে পৃথিবী’, ‘বাংলার মুখ’, ‘নয়নমণি’, ‘সুন্দরী’, ‘কসাই’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি’, ‘দুই পয়সার আলতা’, ‘সখিনার যুদ্ধ’, ‘ভাত দে’, ‘হীরামতি’, ‘প্রাণের মানুষ’, ‘সুন্দরী বধূ’, ‘কাল সকালে’, ‘গোলাপী এখন ঢাকায়’, ‘গোলাপী এখন বিলেতে’ প্রভৃতি।