সাকিব-তামিমকে ছাড়া, কেমন খেলবে বাংলাদেশ?

স্পোর্টস ডেস্ক।।

ইনজুরির কারণে অন্তত তিন মাসের জন্য মাঠের বাইরে থাকতে হচ্ছে সাকিব আল হাসানকে।তামিম ইকবালের সুস্থ হতে সময় লাগবে প্রায় দুই মাস। স্বাভাবিকভাবেই আসন্ন জিম্বাবুয়ে সিরিজে খেলা হচ্ছে না সাকিব-তামিমের। দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারের বদলি হিসেবে মাঠে নামছেন নতুন ক্রিকেটার।

তামিম-সাকিবকে ছাড়া আগেও খেলেছে বাংলাদেশ। তবে সেটা কোনো নির্দিষ্ট ম্যাচের জন্য। এশিয়া কাপের সর্বশেষ আসরে সুপার ফোরের শেষ ম্যাচে এবং ফাইনালে একাদশে ছিলেন না সাকিব-তামিমের কেউ। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ কোনো সিরিজে সাকিব-তামিমকে একসঙ্গে না পাওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাকিবের অভিষেক ২০০৬ সালে এবং তামিমের ২০০৭ সালে। এরপর থেকে কখনোই এমনটা হয়নি যে, কোনো দ্বিপক্ষীয় সিরিজ কিংবা বহুজাতিক টুর্নামেন্টের পুরোটা সময় সাকিব-তামিমকে ছাড়া খেলেছে বাংলাদেশ। তবে আসন্ন জিম্বাবুয়ে সিরিজ দিয়ে এবার সেই অভিজ্ঞতাও হতে যাচ্ছে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রতিপক্ষ হিসেবে জিম্বাবুয়ে তুলনামূলক সহজ হলেও একটা প্রশ্ন ঘুরেফিরে ঠিকই উঠে আসছে। দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য সাকিব-তামিমকে ছাড়া প্রথমবারের মতো কোনো দ্বিপক্ষীয় সিরিজে কেমন করবে বাংলাদেশ। অবশ্য অভিজ্ঞ এই দুই তারকা না থাকলেও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। তিনি বলছেন, দলের সবাই সেভাবেই মানসিক প্রস্তুতি নিয়েছে। তবে সাকিব-তামিমকে ছাড়া অতীতে বাংলাদেশ কেমন করেছে সেই পরিসংখ্যান থেকে হয়তো কিছুটা ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

সাকিব-তামিমের অভিষেকের পর দুজনকে ছাড়া এখন পর্যন্ত আটটি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে পরিত্যক্ত হয়েছে একটি ম্যাচ। বাকি সাত ম্যাচের মধ্যে তিনটিতে জয়ের স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ। বাকি চার ম্যাচে বাংলাদেশের সঙ্গী হয় পরাজয়। অর্থাৎ সাকিব-তামিমকে ছাড়া ৪২.৮৫ শতাংশ ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ, হেরেছে ৫৭.১৪ শতাংশ ম্যাচে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচ মিলিয়ে সাকিব-তামিমকে ছাড়া খেলা বাংলাদেশের ম্যাচ সংখ্যা দাঁড়াবে ১১টি। সাকিব-তামিমের অভিষেকের পর দুজনকে ছাড়া বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো খেলেছে ২০১৩ সালে। সেবার শ্রীলঙ্কা সফরে দলে ছিলেন না সাকিব। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে সেঞ্চুরির দেখা পেলেও ইনজুরিতে পড়ে যান তামিম। এরপর সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথমবার সাকিব-তামিমকে ছাড়া মাঠে নামে বাংলাদেশ। কিন্তু বৃষ্টির কারণে ওই ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে ৩ উইকেটে জিতে ১-১ ব্যবধানে সিরিজ ড্র করে বাংলাদেশ। এই ম্যাচ দিয়ে সাকিব-তামিমকে ছাড়া প্রথমবারের মতো ম্যাচ জয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ। একই বছরের শেষের দিকে বাংলাদেশ সফরে আসে নিউজিল্যান্ড। সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডেতে সাকিবকে ছাড়াই জয় তুলে নেয় স্বাগতিকরা। কিন্তু তৃতীয় ম্যাচের আগে ইনজুরিতে পড়ে লম্বা সময়ের জন্য ছিটকে যান তামিম। ফলে হোয়াইটওয়াশের মিশনে নামতে হয় সাকিব-তামিমকে ছাড়াই। সেবারও আসে সাফল্য। কিউইদের দেওয়া ৩০০ পেরোনোর লক্ষ্য তাড়া করেও জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। তাতে মেলে নিউজিল্যান্ডকে দ্বিতীয়বারের মতো হোয়াইটওয়াশ করার স্বাদ।

সাকিব-তামিম একসঙ্গে না থাকার প্রভাব টের পাওয়া যায় ২০১৪ সালের এশিয়া কাপে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজে চলাকালীন বাজে অঙ্গভঙ্গি করে তিন ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হন সাকিব। অন্যদিকে তামিম তখনো মাঠের বাইরে। তাতে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের সেবারের আসরে প্রথম তিন ম্যাচেই বাংলাদেশের সঙ্গী হয় পরাজয়ের গ্লানি। এমনকি আফগানিস্তানের বিপক্ষেও হারের স্বাদ পেতে হয় আগের আসরের (২০১২ এশিয়া কাপ) রানার্সআপদের। দীর্ঘ ৪ বছর পর আবারও সাকিব-তামিমকে ছাড়া মাঠে নামতে হয় বাংলাদেশকে। তাও সেই এশিয়া কাপের মঞ্চে। এশিয়ান ক্রিকেটের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ের উদ্বোধনী ম্যাচেই ছিটকে যান তামিম। এরপর সুপার ফোরে শেষ ম্যাচে মাঠে নামার আগে সাকিবের আঙুলে ধরা পড়ে সংক্রমণ। আর তাতে পাকিস্তানের বিপক্ষে অঘোষিত সেমিফাইনালে দুই গুরুত্বপূর্ণ সদস্যকে ছাড়াই মাঠে নামে বাংলাদেশ।

পাকিস্তানের বিপক্ষে সাকিব-তামিম না থাকলেও জয় পেতে বেগ পেতে হয়নি বাংলাদেশকে। মাশরাফি-মিরাজদের উজাড় করে দেওয়া পারফরম্যান্সে সাকিব-তামিমকে ছাড়া নিজেদের তৃতীয় জয়টি তুলে নেয় বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩৭ রানের জয়ে তৃতীয়বারের মতো নিশ্চিত হয় এশিয়া কাপ ফাইনালের টিকেট। কিন্তু ফাইনালের মঞ্চে আর সাফল্য আসেনি। ম্যাচজুড়ে দুর্দান্ত খেলেও শেষ বলের নাটকীয়তায় জয় হাতছাড়া হয়ে যায় মাশরাফি বিন মুর্তজার দলের। আর তাতে পুড়তে হয় আরও একটি স্বপ্নভঙ্গের বেদনায়।

মতামত দিন