সোমতন্দ্রার কণ্ঠে ‘যখন থামবে কোলাহল’ (ভিডিও)

‘যখন থামবে কোলাহল / ঘুমে নিঝুম চারিদিক’ – বাংলাদেশ তথা উপমহাদেশের কিংবদন্তী সঙ্গীত শিল্পী রুনা লায়লার গাওয়া জনপ্রিয় একটি গান। এই গানটিকে নিজ কণ্ঠে তুলে নিয়েছেন কলকাতার মেয়ে সোমতন্দ্রা পাল। গত ৩০ জুলাই ইউটিউব চ্যানেল ফোক স্টুডিও বাংলা প্রকাশ করেছে গানটির ভিডিওচিত্র।

গানটির সূত্র ধরে আলাপ হলো সোমতন্দ্রার সাথে। আলাপে জানা গেল সোমতন্দ্রার সম্বন্ধে। সঙ্গীত নিয়ে নিজের ভাবনাও জানালেন নবীন এই শিল্পী।

সোমতন্দ্রা বসবাস করেন কলকাতার কল্যাণীতে। সঙ্গীত তার ভালোবাসার জায়গা। ছোটবেলা থেকেই মায়ের কাছে গান শিখছেন। প্রায় পাঁচ – ছয় বছর ধরে বিভিন্ন স্টেজ শো করছেন তিনি। কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রায়ই সঙ্গীত পরিবেশন করেন সোমতন্দ্রা। তাদের মধ্যে রয়েছে রূপসী বাংলা, তারা বাংলা, চ্যানেল ওয়ান প্রভৃতি।

৩-৪ বছর বয়সেই মায়ের কাছে গান শিখেছেন সোমতন্দ্রা

রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা গান নিয়ে পড়েছেন সোমতন্দ্রা। কলকাতার বিখ্যাত গজল শিল্পী, গীতিকার ও সুরকার শ্রী অরুণাশীষ রায়ের কাছে গান শিখেছেন তিনি। তার কথায় ও সুরে মৌলিক গান করার ইচ্ছে রয়েছে সোমতন্দ্রার।

তিনি জানালেন ইউটিউবে কভার গান করার জন্য তাকে উৎসাহ যোগান দাদা পিয়ানিস্ট সুগত দত্ত। সঙ্গীত আয়োজনে মূলত তিনিই থাকেন। রিয়েলিটি শো প্রসঙ্গে সোমতন্দ্রার ভাবনা আলাদা। তিনি নিজ প্রচেষ্টায় পরিচিতি লাভ করতে ইচ্ছুক। তাই ইউটিউবে কভার গান করাটাকে জোর দিচ্ছেন। পুরনো জনপ্রিয় গান কভার করে পরিচিত হলেই খুশি হবেন সোমতন্দ্রা, মূল গান নষ্ট করে গেয়ে ভাইরাল হতে চান না তিনি। রিয়েলিটি শো’তে যাবারও ইচ্ছে নেই তার।

এখন অব্দি দুটো গান কভার করেছেন সোমতন্দ্রা, একটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যটি রুনা লায়লার

এখন পর্যন্ত দুটো কভার গান করেছেন তিনি। একটি হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘যে রাতে মোর দুয়ারগুলি ভাঙল ঝড়ে’ অন্যটি তো রুনা লায়লার ‘যখন থামবে কোলাহল’। তিনি কথায় কথায় জানালেন রুনা লায়লার গান তিনি বাংলাদেশের কোন ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন। তাই সুযোগ থাকার পরেও কলকাতার টিভি চ্যানেল বা ইউটিউবে গানটি দেননি। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সঙ্গীত বিষয়ক অনুষ্ঠানে কাজ করতে ইচ্ছুক তিনি।

সোমতন্দ্রা জানালেন বাংলাদেশের অনেক শিল্পীই তার প্রিয়। যাদের মধ্যে আছেন সাবিনা ইয়াসমিন, সুবীর নন্দী, শাহনাজ রহমতুল্লাহ প্রমুখ। তাদের জনপ্রিয় গানও কভার করতে চান তিনি।

ভবিষ্যতে বাংলাদেশের শিল্পীদের সাথে গাওয়ার ইচ্ছে আছে সোমতন্দ্রার

বাংলাদেশের প্রতি তিনি অন্যরকম টান অনুভব করেন। বাংলাদেশের মানুষের আতিথেয়তা তাকে মুগ্ধ করে। বাংলাদেশের শিল্পীদের গান নিয়মিত শোনেন তিনি। গান করার জন্য তিনবার বাংলাদেশে আসাও হয়েছে তার। ভবিষ্যতে আরো আসতে চান।

সোমতন্দ্রা কৃতজ্ঞ কয়েকজন মানুষের প্রতি। তাঁরা হলেন স্বামী, বাবা – মা, দাদা সুগত দত্ত ও গুরু অরুণাশীষ রায়। তাঁদের অনুপ্রেরণাতেই আজকের সোমতন্দ্রা। ভবিষ্যতে দুই বাংলার মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হতে চান সোমতন্দ্রা, একজন সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে। গড়ে তুলতে চান নিজস্ব পরিচয়।