হাবিবুল ইসলাম হাবিবের দৃষ্টিতে তাঁর তিন নায়িকা

হাবিবুল ইসলাম হাবিব একজন গুণী নির্মাতা। আশির দশকে মঞ্চে কাজের মাধ্যমে তার পথচলা শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে তিনি নির্মাণ করেন স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, বিজ্ঞাপন, নাটক ও পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। ইদানিং ৩০০ সংসদীয় আসনে ৩০০ সিনেপ্লেক্স গড়ে তোলার দাবীতে সোচ্চার এই নির্মাতা। তিনি কাজ করেছেন অনেকের সাথে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি কাজ করেছেন তিন নায়িকার সাথে, তারা হলেন মৌসুমী, রেসি ও মৌ খান। তিন দশকের তিন নায়িকা কেমন ছিলেন হাবিবের চোখে? পেইজথ্রি’র কাছে এই গুণী নির্মাতা তুলে ধরলেন তার ভাবনা, এই তিনজনকে নিয়ে।

মৌসুমী (চলচ্চিত্র – রাত্রির যাত্রী)

প্রিয়দর্শিনী বলতে আমরা যাকে বুঝি তিনি মৌসুমী। এভারগ্রীণ একজন নায়িকা। মৌসুমী সব পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে। সবার সাথে খুব সুন্দর করে কথা বলতে পারে, মন জয় করে নিতে পারে সহজে। মৌসুমী সহজেই বিজ্ঞাপন, নাটক, সিনেমা করে ফেলতে পারে। সে সিনেমা কমার্শিয়াল হোক কিংবা অন্য ঘরানার, মৌসুমী তা নিয়ে ভাবে। তার মিষ্টি হাসিতে এ প্রজন্মের দর্শকও মুগ্ধ। মৌসুমী নিজেকে বিভিন্ন সময়ে মানিয়ে নিতে পেরেছে বলেই সে আজো মৌসুমী।

আমার সাথে মৌসুমী কাজ করেছে আমার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমায়। সে খুব কষ্ট করেছে, শীতের রাতে পরিচালকের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে শুট করেছে। আমার সিনেমা রিলিজের আগে প্রচারণায় অংশ নিয়েছে। তার প্রতি আমার শ্রদ্ধা, ভালোবাসা থাকবে সবসময়।

রেসী (বিজ্ঞাপন – শরীফ আয়রন)

রেসিকে আমি চিনতাম অনেক আগে থেকেই। তার সাথে একটি বিজ্ঞাপনের কাজ করার কথা ছিল তার ক্যারিয়ারের শুরুতেই। নানাবিধ কারণে তা হয়ে ওঠেনি। তারপর কেটে গেছে ১৫ – ১৬ বছর। এতদিন বাদে আবার রেসির সাথে দেখা হলো, কথা হলো, কাজ করা হলো। আমি দেখলাম সেই শুরুর দিককার রেসির মধ্যে যে সরলতা, যে আন্তরিকতা ছিল আজকের রেসির মধ্যেও তা আছে। সে এতটুকু বদলায়নি। রেসি যদি আবার নিয়মিত কাজ করে তাহলে নিশ্চয়ই সে ভালো করবে। রেসির মতো মেয়েদের এই ইন্ডাস্ট্রিতে প্রয়োজন। আমি চাই সে এখন থেকে ইন্ডাস্ট্রিতে নিয়মিত কাজ করুক। ওর জন্যও শুভকামনা রইলো।

মৌ খান (বিজ্ঞাপন – শরীফ মেলামাইন)

মৌ খান এই প্রজন্মের একজন নায়িকা। তাকে নিয়ে কাজ করার আগে আমার মনে দ্বিধা ছিল। সে কেমন, কিভাবে কাজ করবে কিছুই জানতাম না। একদিন আমার সাথে ফোনে কথা হলো, সে মিটিংয়ে এলো। বিজ্ঞাপন করতে রাজি হলো। এবং আমি দেখলাম সে আন্তরিকতার সাথে বিজ্ঞাপনের কাজটি শেষ করেছে। তার মধ্যে শেখার ইচ্ছে আছে, পরিচালকের প্রতি শ্রদ্ধা আছে। আমি মনে করি মৌ খানের মধ্যে যে মেধা আছে তা দিয়ে সে সহজেই দর্শকের হৃদয়ে ঠাঁই করে নিতে পারবে। পরিশ্রম, চেষ্টা ও দর্শকের সহযোগিতা পেলে মৌ খানই হবে আগামীর শীর্ষ একজন নায়িকা। তার জন্য আমার শুভেচ্ছা ও শুভকামনা।

যাঁদের নিয়ে কাজ করতে চাই

আমি অনেককে নিয়েই কাজ করতে চাই। বিশেষ করে একজনকে নিয়ে আমার কাজ করার খুব ইচ্ছে, স্বপ্ন। তিনি হলেন ববিতা আপা। শৈশব থেকেই তাঁর অভিনয় আমাকে মুগ্ধ করছে। কথা ছিল আমার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘রাত্রির যাত্রী’ – এ তিনি অভিনয় করবেন। কিন্তু পরে তিনি হজ্জ করতে গেলেন, তাঁর সাথে কাজ করা হয়ে উঠলো না। সহসাই আমার ইচ্ছেটা পূরণ করতে চাই।

অনুলিখন : মোহাম্মদ তারেক