হোপের শতকে সমতায় উইন্ডিজ

বাংলাদেশ – ২৫৫/৭ (সাকিব ৬৫, মুশফিক ৬২, তামিম ৫০, থমাস ৩/৫৪্) ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৫৬/৬ (৪৯.৪) (সাই হোপ ১৪৬*, রুবেল ২/৫৭, মুস্তাফিজ ২/৬৩)

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪ উইকেটে জয়ী।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে চার উইকেটে হারলো বাংলাদেশ। শতরান করে সাই হোপ সিরিজ বাঁচিয়ে রাখলেন, সমতায় ফিরলো উইন্ডিজ। সিলেটে হতে যাওয়া ম্যাচটি হতে যাচ্ছে তাই অলিখিত ফাইনাল।

দিনের শুরুটা হয়েছিল টস হেরে। মাশরাফির বাংলাদেশের দুই ওপেনার তামিম ও লিটনকে ব্যাট করতে নামতে হয় প্রতিপক্ষের আমন্ত্রণে। সব ঠিক ছিল। তবে ছন্দ যেন ছিল না। লিটনের হুট করে পাওয়া চোট, ইমরুলের উইকেটের পেছনে ক্যাচ প্র্যাক্টিস ব্যাটিংটাকে কিঞ্চিৎ এলোমেলো করে দিল।

তবে ইনিংসের মাঝ পর্যন্ত একটা স্বস্তির জায়গায় ছিল বাংলাদেশ। তামিম, মুশফিক, সাকিব – তিনজনই পেয়েছেন তিনটি অর্ধশত। মাহমুদুল্লাহ খেলেছেন মাঝারি ইনিংস। তবুও শেষটা মন:পুত হলো না। ব্যাট ঠিকমতো চালাতেই পারলো না বাংলাদেশ। তাই ২৬০ এর স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশকে থামতে হলো ২৫৫ তেই। চার ওপেনার ফর্মুলায় বাদ পড়েন মিথুন। তামিমের ৫০ বাদ দিলে বাকি তিন ওপেনার লিটন (৮), ইমরুল (০) ও সৌম্য (৬) করেছেন মাত্র ১৪ রান। উইন্ডিজের থমাসের ঝুলিতে তিন উইকেট বাংলাদেশের ইনিংসের গতিপথ বদলে দিয়েছে।

জবাবটা বেশ ভালোই দিয়েছে উইন্ডিজ। শুরুতে উইকেট হারালেও টপ অর্ডারের সাই হোপ অপরাজিত ছিলেন শেষঅব্দি, জিতিয়ে এনেছেন দলকে। সিরিজে এসেছে সমতা। বাংলাদেশের পঞ্চপান্ডবের শততম ম্যাচ তাই হার দিয়েই শেষ করতে হলো। দলের মূল বোলার মুস্তাফিজ ২ উইকেট পেতে খরচ করেছেন ৬৩ রান, অন্যদিকে রুবেলকে গুণতে হয়েছে ৫৭ রান। ঢাকার মাঠে খুব সম্ভবত শেষ ম্যাচ খেলে ফেলা মাশরাফিকে ১টি উইকেটের জন্য দিতে হলো ৫২ রান। সাকিব উইকেট না পেলেও ছিলেন সবচেয়ে মিতব্যয়ী বোলার। মিরাজও মন্দ ছিলেন না। ফিল্ডিং, ক্যাচিং আরেকটু আঁটোসাঁটো হলে ম্যাচ জেতা কঠিন হতো না। যখন জিতে যায় উইন্ডিজ, তখন যে মাত্র দুটো বল বাকি! কাজেই আর ১০-১৫ রান বেশি হলে ম্যাচ হয়তো বাংলাদেশই জিততো।

সিরিজে এখন ১-১ সমতা। শেষ ম্যাচ হবে সিলেটে। পাহাড়ের কোলে নির্মিত স্টেডিয়ামে শেষ হাসি মাশরাফি হাসবেন কিনা তা সময়ই বলে দেবে। বিজয়ের মাত্র দুদিন আগে ক্রিকেট মাঠের বিজয়ের হাসির অপেক্ষায় থাকতে হবে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

ছবি – এএফপি

মতামত দিন