No icon

'দৃশ্যের সাথে অভিনয় সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে অশালীন লাগবে'

জনপ্রিয় মডেল – অভিনেত্রী নোভা ফিরোজ একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থায় কাজ করার পাশাপাশি মিডিয়ায় কাজ করছেন সাম্প্রতিক ব্যস্ততা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন নোভা


সম্প্রতি বাংলাদেশ টেলিভিশনের শিল্পী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন কেমন লাগছে?

সরকারি তালিকাভুক্ত শিল্পী হওয়া আসলেই একটা পাওয়া দুর্ভাগ্যবশত ২০১০ সালে যখন অডিশান হয় তখন আমি অংশ নিতে পারিনি আমি অপেক্ষা করছিলাম কবে আবার সুযোগ আসবে গত বছর যখন বিটিভি উদ্যোগ গ্রহণ করলো তখন আর সুযোগ হাতছাড়া করিনি কয়েক ধাপে পরীক্ষা দিয়েছি তারপর তালিকাভুক্ত হয়েছি তাই আমার কাছে মনে হচ্ছে এটা একটা অর্জন

সম্প্রতি কয়েকটি ওভিসির কাজও তো করলেন?

সর্বশেষ গত ১৯ জুন বাবা দিবস উপলক্ষে একটি ওভিসির শুটিং করেছি সেটি বাবা দিবসে প্রকাশও পেয়েছে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি কাজটির জন্য এর বাইরে টিভিএস – এর একটি বিজ্ঞাপনের কাজ করেছি সেটি বাসার ছাদে উঠে শট দিয়েছিলাম

ধারাবাহিক নাটক ‘গোলমাল’ – এর কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন তাহলে কি সামনে অভিনয়ে নিয়মিত হবেন?

বেঙ্গল মাল্টিমিডিয়ার প্রযোজনায় নাটকটি নির্মিত হবে ইনশাআল্লাহ সামনের মাস থেকে শুটিং শুরু করবো আপনারা জানেন আমি একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থায় প্রোডিউসার হিসেবে চাকরি করছি অফিস করতে গিয়ে অভিনয়ে কিছুটা অনিয়মিত এ ছাড়া আমি তো সিলেক্টিভ কাজ করি ঐ জায়গা থেকে গল্প, চরিত্র পছন্দ না হলে কাজ করা হয়ে ওঠে না তবে যেহেতু এ ধারাবাহিকটি প্রতিদিন প্রদর্শিত হবে সেহেতু পর্দায় নিয়মিতই থাকা হবে তা ছাড়া ‘সৌন্দর্য কথা’ উপস্থাপনা করছি সত্যি বলতে অভিনয় আমার ভালোবাসার জায়গা কিছুদিন পর পর করতেই হবে বিজ্ঞাপনী সংস্থার কাজের সাথে সমন্বয় করেই কাজ করে যাব মান যাতে বজায় থাকে এরকম কাজ করার চেষ্টা করবো

করোনায় সময় কেমন কাটছে?

বাসা অফিস সব মিলিয়ে ব্যস্ত সময় কাটছে বাসায় বসে অফিস করছি আমরা সাত – আটটি কাজ করেছি লকডাউনের মধ্যেই ট্রায়াল এন্ড এরর করতে করতে কাজ করেছি আর লকডাউন শিথিল হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুটিং করতে গিয়ে কাজের চাপ অনেক বেড়ে গেছে

এ সময়ে শুটিং করা কেমন চ্যালেঞ্জিং?

এটা চ্যালেঞ্জিং ও ভীতিকর যদি ছোট্ট একটা ভুল হয়, কেউ একজন যদি আক্রান্ত হয় তাহলে সে ক্ষতি ফিরিয়ে দেয়ার মতো নয় এ জায়গা থেকে আমি কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব এডভার্টাইজিং প্রডিউসার্স (বিএএপি) কে তারা দিনরাত খেটে বাইরের দেশের সাথে সামঞ্জস্য রেখে স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়গুলো আমাদের জানাচ্ছেন আমার কাছে খুব ভালো লাগছে যে ঐক্যবধ্য হয়ে কাজ করছি

ইদানিং ওয়েব সিরিজ নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে আপনি বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?

যদি গল্প ফুটিয়ে তুলতে কোনো দৃশ্য ধারণ করা প্রয়োজন হয়, যদি তা অশালীন না হয় তাহলে মনে হয় না যে এটার ব্যাপারে কারও আপত্তি থাকা উচিৎ যদি গল্পের প্রয়োজন বাদে রমরমা করতে দৃশ্য ধারণ করা হয়, যেটা আমাদের সংস্কৃতি পরিপন্থী সেক্ষেত্রে আমার আপত্তি আছে এক্ষেত্রে শিল্পীরও ভূমিকা আছে যদি আমি চরিত্রটি নিজের মধ্যে ধারণ করতে না পারি, সংকোচবোধ করি তাহলে দেখতে অশালীন লাগবে দৃশ্যের সাথে অভিনয় সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে অশালীন লাগবে আমরা আন্তর্জাতিক কন্টেন্টের সাথে প্রতিযোগিতা করছি যেহেতু বিদেশী কন্টেন্টের সাথে তুলনা করছি সেহেতু এই দিকগুলো মাথায় রাখতে হবে আমরা বলবো বিদেশীদের কাজ ভালো হচ্ছে, কিন্তু আমাদের এমন কাজ করা যাবে না এমন করলে তো হবে না আমাদের হিপোক্রেসিটা ছাড়তে হবে

এক্ষেত্রে দর্শকের কী ভূমিকা থাকতে পারে?

আমাদের দর্শক অনেক স্মার্ট তারা ভালো মন্দ বোঝেন তাদের শিখিয়ে দেয়ার কিছু নেই গল্প বাদে খোলামেলা দৃশ্য থাকলেই দর্শক দেখবে এটা ভুল আবার এমন দৃশ্য বাদে যদি ভালো গল্প থাকে তাহলে কিন্তু দর্শক দেখবে গল্পের প্রয়োজনে যদি কোনো খোলামেলা দৃশ্য আসে তাহলে আমার মনে হয় দর্শক ইতিবাচকভাবেই নেবে

করোনায় কী উপলব্ধি এলো?

আমাদের যান্ত্রিক জীবনে স্বাস্থ্যকে অবহেলা করছিলাম করোনা আমাদের শেখালো স্বাস্থ্য সবচেয়ে বড় সম্পদ বেঁচে থাকলে সুযোগ আসবে, বেঁচে না থাকলে তো কিছু করার সুযোগই থাকলো না সঞ্চয় করা আমাদের জন্য জরুরী আগে আমাদের জীবন অনেক সহজ ছিলো আমরা অপ্রয়োজনে খরচ করতাম না কী পেলাম, কী হারালাম এটার যে হালখাতা তা করার সুযোগ করোনা আমাদের দিয়েছে এই ছোট ছোট উপলব্ধিগুলো এই সময়ে হয়েছে

Comment As:

Comment (0)