No icon

ঈদ নাটক

প্রশংসা কুড়িয়েছে জীবনঘনিষ্ঠ নাটক

শেষ হয়েছে ঈদ-উল-আযহা। প্রতিবারের মতো এবারও টেলিভিশন চ্যানেল ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছিলো নানা আয়োজন। যার মধ্যে ছিলো ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান, সংগীতানুষ্ঠান ও নাটক। নাটকের মধ্যে আবার কয়েকটি ভাগ ছিলো। খণ্ড নাটক, ধারাবাহিক নাটক ও টেলিছবির পাশাপাশি এবার দেখা মেলে বেশ কিছু স্বল্পদৈর্ঘ্যের। দেশের ওয়েব প্ল্যাটফর্মে শুধু নয় পার্শ্ববর্তী দেশের ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও ঈদ উপলক্ষ্যে প্রকাশ পেয়েছে দেশীয় নাটক বা ওয়েব ফিল্ম।

নাটক সংশ্লিষ্ট নানাজনের সাথে আলাপে জানা গিয়েছিলো এবার ঘরেই নির্মিত হয়েছে অধিকাংশ ঈদের নাটক। কিছু অবশ্য পূবাইলের চিরচেনা লোকেশনেও হয়েছে। গল্প নির্ভর কাজ হচ্ছে বলেও আভাস পাওয়া গিয়েছিলো আগেই। কোনও কোনও ইউনিটে করোনা পরীক্ষা করে তবেই কাজ করেছেন সকলে। রোজার ঈদে নতুন নাটকের সংখ্যা কম থাকলেও এবার তা বেড়েছে শুটিংয়ের অনুমতি দেওয়ায়। শুরুতে কাজ না করলেও শেষ পর্যন্ত দেশের আলোচিত প্রায় সকল অভিনয়শিল্পী কাজ করেছেন। নানান শ্রেণীর নাটক নির্মিত হয়েছে এবার। তবে দর্শকমহলে আলোচনায় এসেছে গল্প নির্ভর কাজ। দর্শক শুধুমাত্র হাস্যরসে মজে নেই। তারা ভালো গল্পের কাজও দেখছে। আবার নির্ভেজাল হাসির নাটকও ইউটিউবে ভিউর জোয়ারে ভাসছে।

এবারের ঈদে সবচেয়ে বেশি প্রশংসা পেয়েছেন নির্মাতা আশফাক নিপুণ। তিনি এবার বানিয়েছেন তিনটি ফিকশন। যার মধ্যে রয়েছে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য। তিনটি কাজের জন্যই দর্শক, সমালোচক ও সহকর্মীদের বাহবা পাচ্ছেন তিনি। নিপুণের তিনটি কাজ হলো ‘অযান্ত্রিক’, ‘ভিকটিম’ ও ‘ইতি,মা’। এর মধ্যে সোলায়মান খোকা ও সাবিলা নূরকে নিয়ে করা ‘অযান্ত্রিক’ ছিলো স্বল্পদৈর্ঘ্য। ‘ভিকটিম’ এ উঠে এসেছে সমাজের অস্বস্তিকর একটি বিষয় যেখানে ছিলেন অপি করিম ও আফরান নিশো। মায়ের প্রতি সন্তানদের দায়িত্ববোধ নিয়ে তার তৃতীয় নির্মাণ ‘ইতি,মা’। যেখানে অভিনয় করেন ঈশিতা, আফরান নিশো ও শিল্পী সরকার অপু। প্রেম ছাড়াও নাটক বানিয়ে আলোচনায় থাকা যায় তা আরেকবার দেখালেন নিপুণ। আলোচিত নির্মাতা শাফায়েত মনসুর রানার তিনটি স্বল্পদৈর্ঘ্য নিয়েও হয়েছে বেশ আলোচনা।  লুৎফর রহমান জর্জ, অ্যালেন শুভ্র ও শিল্পী সরকার অপুকে নিয়ে বানানো ‘দ্য লাস্ট অর্ডার’, ইয়াশ রোহানকে নিয়ে ‘মশাল’ এবং ইরফান সাজ্জাদ ও অপর্ণা ঘোষকে নিয়ে তিনি বানান ‘প্রেসার কুকার’। তিনটি কাজেই সমসাময়িক বিষয়বস্তু উঠে এসেছে। প্রথম দুটো কাজ নিয়ে বেশ আলোচিত হচ্ছেন এ নির্মাতা। মাহমুদুর রহমান হিমির ‘কেন’ এবং ‘ভুল এই শহরের মধ্যবিত্তদেরই ছিলো’ এবার প্রশংসা কুড়িয়েছে দর্শকের। ‘কেন’ টেলিছবিতে অভিনয় করেন ঈশিতা, আফরান নিশো, তৌসিফ ও মেহজাবিন। এ টেলিছবির গল্প লিখেছেন গীতিকবি আসিফ ইকবাল। অন্যদিকে তানজিন তিশা ও আফরান নিশোকে নিয়ে তিনি নির্মাণ করেন ‘ভুল এই শহরের মধ্যবিত্তদেরই ছিলো’। এই টেলিছবি নির্মাণের পেছনে ভূমিকা রেখেছে পত্রিকার সংবাদ।

রাফাত মজুমদার রিংকুর মোশাররফ করিম, রুনা খান, তাসনুভা তিশা ও আশীষ খন্দকারকে নিয়ে নির্মাণ করেন ‘বোধ’। এই নাটকটিও দর্শকের হৃদয়ে দাগ কেটেছে। প্রশংসিত হয়েছেন মোশাররফ করিম। মিজানুর রহমান আরিয়ানের তিনটি কাজ এবার সাড়া ফেলেছে। তার মধ্যে আছে অপূর্ব ও মেহজাবিন অভিনীত ‘প্রাণপ্রিয়’, নুসরাত ইমরোজ তিশা, ইয়াশ রোহান ও তাসনিয়া ফারিণ অভিনীত ‘শহর ছেড়ে পরাণপুর’ এবং অপূর্ব ও তাসনিয়া ফারিণ অভিনীত ‘জানবে না কোনদিন’। মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের ‘অবুঝ মন’ দর্শক পছন্দ করেছে। এ নাটকে অভিনয় করেন জোভান ও কেয়া পায়েল। কাজল আরেফিন অমি এবার দর্শক মাতিয়েছেন ‘মাস্ক’ দিয়ে। ডার্ক কমেডি এই নাটকটিতে অভিনয় করেন মুকিত জাকারিয়া, তাসনিয়া ফারিণ, পলাশ, মারজুক রাসেল, চাষী আলম প্রমুখ। তার তাহসান ও শায়লা সাবিকে নিয়ে নির্মিত ‘সিঙ্গেল’-ও দর্শক পছন্দ করেছে। সঞ্জয় সমাদ্দারের মোশাররফ করিম, সৌমি ও তাসনিয়া ফারিণকে নিয়ে নির্মিত ‘যে শহরে টাকা ওড়ে’ নাটকটিও প্রশংসা কুড়িয়েছে। জাফরিন সাদিয়ার রচনায় হাসান রেজাউলের নাটক ‘হয়তো তোমারই জন্য’ ছিলো আলোচনায়। এতে অভিনয় করেন মনোজ কুমার, কেয়া পায়েল, দিলারা জামান, শাহেদ আলী প্রমুখ।

এসব নাটকের বাইরেও কিছু নাটক দর্শকের আলোচনায় ছিলো। তার মধ্যে আছে হানিফ সংকেতের ‘মনের মতি মনের গতি’ (চঞ্চল চৌধুরী, তারিন, নাদিয়া আহমেদ, মির সাব্বির), মাবরূর রশীদ বান্নাহর ‘ব্যঞ্জনবর্ণ’ (মোশাররফ করিম, শায়লা সাবি), ওসমান মিরাজের ‘হঠাৎ বিয়ে’ (মিম, তাহসান), সঞ্জয় সমাদ্দারের ‘পলিটিক্স’ (অপূর্ব, তানজিন তিশা), মিজানুর রহমান আরিয়ানের ‘একাই ১০০’ (আফরান নিশো, মেহজাবিন), রুবেল হাসানের ‘মিস্টার এন্ড মিস চাপাবাজ’ (অপূর্ব, মেহজাবিন), জাহিদ প্রীতমের ‘অপেক্ষার নীল প্রহর’ (তৌসিফ, সালহা খানম নাদিয়া), শিহাব শাহীনের ‘করোনা বলে কিছু নেই’ (মাসুম আজিজ, তাসনুভা তিশা), চয়নিকা চৌধুরীর ‘মেঘলা মনের মেয়ে’ (তারিন, সালমান মুক্তাদির, সামিয়া অথৈ) ইত্যাদি। ঈদ ধারাবাহিকগুলো গড়পড়তা মানের ছিলো। ব্যতিক্রমধর্মী কিছু দেখা যায়নি।

সবশেষে বলা যায় দর্শকের রুচির পরিবর্তন হচ্ছে। কিংবা রুচিশীল দর্শক লেখালেখি বেশি করছে। ইউটিউবে যারা দেখছে সবাই লিখছে না। তাতে করে ভিউ ও আলোচিত নাটকের মধ্যে এক ধরনের অসামঞ্জস্যতা চোখে পড়ছে। তবে যেভাবে জীবন ঘনিষ্ঠ নাটক নিয়ে আলোচনা হচ্ছে তাতে আশা করা যায় এ ধরনের নির্মাণের সংখ্যা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। তাতে সমৃদ্ধ হবে দেশের নাট্যাঙ্গন। বৈচিত্র্য বাড়বে নাটকের। 

Comment As:

Comment (0)