No icon

মেসির গোলে ড্র করলো আর্জেন্টিনা

ব্রাজিলের বিপক্ষে তার করা একমাত্র গোলেই জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। দিন তিনেক পরে আবারও আর্জেন্টিনার রক্ষাকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন তিনি। শেষ মুহূর্তের পেনাল্টি গোলে হারতে বসা দলকে ২-২ গোলে ড্রয়ের সম্মান এনে দিয়েছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। এছাড়া আগুয়েরোর করা দলের প্রথম গোলেও তার পরোক্ষ ভূমিকা ছিল।

অনেক বিতর্ক ও সমালোচনার পরও ইসরায়েলের সাবেক রাজধানী তেলআবিবের ব্লুমফিল্ড স্টেডিয়ামে মাঠে গড়িয়েছে আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের মধ্যকার প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। যেখানে ধ্রুপদী প্রদর্শনীতে জিতেছে ফুটবল, হারেনি আর্জেন্টিনা-উরুগুয়ের কেউই। দুই দলের পাল্লা দিয়ে লড়াই করার ম্যাচে দারুণ এক অভিজ্ঞতাই হয়েছে উপস্থিত দর্শকদের।

এ খেলায় দুইবার পিছিয়ে পড়েও হার মানেনি আর্জেন্টিনা। গোল শোধ করে লড়াইয়ে ফিরেছে দুইবারই। শেষপর্যন্ত আলবিসেলেস্তেদের আক্ষেপ হয়ে থেকেছে একদম শেষ দিকে গোল মিসের হতাশা। 

এবারের আন্তর্জাতিক বিরতিটা বেশ ভালোই কাটলো মেসি-আগুয়েরোদের। প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারানোর পর এবার উরুগুয়ের সঙ্গে দারুণ ফুটবল খেলে ২-২ গোলে ড্র। আর সবমিলিয়ে সবশেষ কোপা আমেরিকার পর থেকে টানা সাত ম্যাচ অপরাজিত আর্জেন্টিনা।

ইসরায়েলের মাঠে দুই দলের হয়ে গোল চারটি করেছেন সেরা তারকারাই। উরুগুয়েকে দুইবার এগিয়ে দেয়া গোল দুইটি করেছেন এডিনসন কাভানি ও লুইস সুয়ারেজ। অন্যদিকে ম্যাচে সমতা ফেরানো গোল দুইটি করেছেন সার্জিও আগুয়েরো এবং লিওনেল মেসি।

ম্যাচের শুরু থেকেই উরুগুয়ের জমাট রক্ষণের ওপর চাপ দিয়ে খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। আর উরুগুয়ে খেলতে থাকে দুই উইং ব্যবহার করে কাউন্টার অ্যাটাক নির্ভর ফুটবল। তবে প্রথম হাসিটা হাসে উরুগুয়েই। ৩৪ মিনিটের মাথায় নিজেদের মধ্যে দারুণ বোঝাপড়ার ফল হিসেবে বল জালে জড়ান কাভানি। ডান দিক থেকে লুইস সুয়ারেজের বাড়ানো বলে স্লাইড দিয়ে গোল করেন তিনি।

গোল হজম করার ৪ মিনিটের মধ্যেই গোল করেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু বল জালে প্রবেশ করানোর আগে লেগে যায় পাওলো দিবালার হাতে। যে কারণে সেটিকে বাতিল করে দেন রেফারি। ফলে ম্যাচে সমতা ফেরানোর সহজ সুযোগ নষ্ট হয় আর্জেন্টিনার। এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় উরুগুয়ে।

দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে আর্জেন্টিনাকে হতাশ করে উরুগুয়ের জাল অক্ষত রাখেন গোলরক্ষক মার্টিন কাম্পানা। ৫৩ মিনিটের মাথায় ২৫ গজ দূর থেকে মেসির দারুণ এক ফ্রি কিক ঝাপিয়ে পড়ে ঠেকান তিনি।

তবে এর মিনিট দশের পর আর নিজ দলকে বাঁচাতে পারেননি কাম্পানা। এবার মেসি-আগুয়েরোর সম্মিলিত প্রচেষ্টা সুফল পায় আর্জেন্টিনা। বা দিক থেকে মেসির উঁচু করে বাড়ানো ফ্রি কিকে মাথা ছুঁইয়ে বল জালে জড়ান আগুয়েরো।

ম্যাচে সমতা ফেরাটা মানতে পারেননি বার্সেলোনায় মেসির সতীর্থ ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু লুইস সুয়ারেজ। তাই তো চার মিনিটের মধ্যে অসাধারণ এক ফ্রি কিকে আবারও দলকে এগিয়ে দেন তিনি। একইসঙ্গে জানান দেন, ক্লাবে মেসি থাকা ফ্রি কিক নেয়ার সুযোগ কম পেলেও, তা পায়ের জাদু কমেনি একটুও।

সুয়ারেজের করা গোল শোধ করতে মরিয়া হয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা। কিন্তু ফিনিশিংয়ের ব্যর্থতায় বারবার ফিরতে হয় খালি হাতে। শেষ পর্যন্ত উরুগুয়েই তাদের সুযোগ করে দেয় সমতাসূচক গোল করার। ডি-বক্সের মধ্যে ডিফেন্ডার মার্টিন কাসেরেসের হাতে বল লাগলে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। স্পট কিক থেকে গোল করে দলের হার এড়ান লিওনেল মেসি।

Comment As:

Comment (0)