আমি তো মুখ খুইলা সব বলতে পারিনা : ডিপজল

664

অভিনেতা, প্রযোজক এবং ব্যবসায়ী মনোয়ার হোসেন ডিপজল। ১৯৫৮ সালের ১৫ জুন ঢাকার মিরপুরের বাগবারিতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। চলচ্চিত্র পরিচালক মনতাজুর রহমান আকবরের হাত ধরে চলচ্চিত্রে আগমন ঘটে তার। ফাহিম শুটিং স্পট, এশিয়া ও পর্বত সিনেমা হল, জোবেদা ফিল্মস, পর্বত পিকচার্স-২, ডিপজল ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের স্বত্বাধিকারী। তার মুক্তি প্রাপ্ত সবশেষে চলচ্চিত্র ‘দুলাভাই জিন্দাবাদ’। অসুস্থতার কারনে বর্তমানে সাভারের হেমায়েতপুরের বাড়িতে রয়েছেন বিশ্রামে।চলচ্চিত্র ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন নাজমুল আহসান তালুকদার

প্রশ্ন : কেমন আছেন?

ডিপজল : আপনাদের দোয়ায় ভালো আছি। অনেকদিন পর মিডিয়ার সামনে। আপাতত ডাক্তার যেভাবে বলেছে সেভাবে চলছি।

প্রশ্ন :তাহলে কি কাজ করতে পারবেন?

ডিপজল : হ্যাঁ, কাজ করতে পারবো। ডাক্তারের কথা মতো চলছি। ওপেন হার্ট সার্জারি হয়েছিল। আবার ডিসেম্বরের ২৫ তারিখ যাবো।

প্রশ্ন : সিনেমার কাজ?

ডিপজল : নতুন ছবির কাজ জানুয়ারির ৫ তারিখ শুরু করবো। আর একটা পুরাতন ছবি আছে আমার ‘এক কোটি টাকা’। এটার কাজ শেষ করে নতুন ছবির কাজ ধরবো।এটার নাম পাথরের কান্না। মোট চারটা ছবি এখন হাতে রয়েছে। বাহিরের একটা ও নিজের তিনটা।

প্রশ্ন : সিনেমার বর্তমান পরিস্থিতিতে আপনার মতামত কি?

ডিপজল : ফিল্ম কিভাবে চলবে, ফিল্ম কিভাবে আসবে, ফিল্মের দর্শক কিভাবে সিনেমা হলে আসবে এই পরিবেশের সমন্ধে কারো ধারনাই নাই। বর্তমানে যারা ফিল্ম করে তারা কি বুঝে কিবা জানে? টাকা আছে করছে চলে যাচ্ছে। নাটক এক জিনিস ফিল্ম আরেক জিনিস।

প্রশ্ন : আপনাকে সিনেমার মোড়ল হিসাবে আমরা জানি। আপনি নতুনদের এই বিষয়ে উদ্যোগ বা পরিবেশ তৈরি করবেন কিনা?

ডিপজল :আজকাল ব্যাপারটা হইছে কি যার টাকা আছেনা ও সবি বুঝে বাংলাদেশে তার। আমার টাকা আমি সব বুঝি। যারা কাজ করতাছে তারা যদি একটু সিনিয়রের কাছে যায়। না আমার টাকা আছে আমি বুঝি।একটা ছবি করবো গেট দিয়ে বেড়িয়ে যাবো। আর দ্বিতীয় ছবি করার তৌফিক থাকে না। ফিল্ম বুইঝা গেল। ফিল্মতো এতো সহজ না। ফিল্ম একটা কঠিন কায়দা। নাটক দেখলে একটা দেখছেন না আরেকটা দেখছেন। চ্যানেল ঘুড়িয়ে অন্য চ্যানেলে চলে গেলেন। আর ফিল্ম দেখতে হলে একটাই দেখতে হবে। ফিল্ম যারা করতো, বুঝতো তারা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে নাই বললে চলে।

প্রশ্ন : তাই যদি হয় আপনারাও অনেক টাকা আপনি সেরকম কিছু করেন?

ডিপজল : ঐ যে বললাম বাংলাদেশে টাকা থাকতে কেউ আসতে চায় না। টাকা আছে রক্ত গরম। টাকা পয়সা হারাইয়া আসে। যে বুঝে যে জানে তার সাথে ডিসকাস করে নিলে ফিল্মটা বেটার হয়। ছবিটাও চলবে। ছবি কিভাবে চলবে? নাটক বানাইলেতো ছবি চলবে না। নাটক আর ফিল্ম আকাশ পাতাল পার্থক্য। ফিল্ম করতে হলে ফিল্মের মতো করতে হবে ফিল্মের প্যাচ আছে অনেক। যে নতুন টাকা নিয়া আসতাছে ওরতো ধারনাই নাই ফিল্ম সম্পর্কে। টাকা আছে কইরা ফেলল, লস করলো চইলা গেল বাসায়। বাসায় গিয়াও শান্তি পাচ্ছে না। ডিরেক্টরও শান্তি পাচ্ছে না প্রযোজকও শান্তি পাচ্ছে না। ওর একটা লোন থাকে পাওনাদার থাকে। ঐ পাওনাদারতো বাসায় গিয়া খোজ করে ওরে।একটা নায়িকাও ফ্রি হতে পারছে না। ওই নায়িকাও ওখানে আটকাবল।

প্রশ্ন : আপনি বলছেন তরুণরা ফিল্ম না বুঝে আসার কারনে ইন্ডাস্ট্রি পিছিয়ে যাচ্ছে। একটা সময় চলচ্চিত্রে সবাই মিলেমিশে থেকেছেন। এখন এই পরিবারের মাঝে ভাগ হয়েছে। এটা কি কোন কারণ না চলচ্চিত্র পিছিয়ে পড়ার জন্য?

ডিপজল : আগে যদি কক্সবাজার যাইতাম সেখানে যদি দশ গ্রুপ থাকতো দশটা পার্টি হতো। জসীম ভাইরা শুটিং করলে আমাদের ডাকতো। আমরা জসীম ভাইদের ডাকতাম। সিনিয়রদের খুব ইজ্জত করতাম। এই বিষয়টা এখন আর নাই। আমরাই কিছু শিখতে পারি নাই শিখার কোন শেষ নাই। আমরা এখনো কাজ করতে গেলে ডাইরেক্টর দেখলে ইজ্জত দেই সিনিয়র হোক আর জুনিয়র হোক ওর কাজটাই ফলো করি ও কি চাচ্ছে। সে যেটা চাচ্ছে তার চেয়ে বেটার করার চেষ্টা করি। ওরে যদি আমি বলতে যাই তাহলে কাজটা মন মতো করতে পারবে না।

প্রশ্ন : এটাতো পরের বিষয়। এখন যে গ্রুপিং হচ্ছে এটা সামনে থেকে মিটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন না কেন?

ডিপজল : এখন এটা হবে না। কারন সিনেমা হল মালিক হয়ে গেছে এক গ্রুপ। আর ছবির মালিক হয়ে গেছে এক গ্রুপ।ছবির মালিক যদি এক গ্রুপ হয় যারা কলাকুশলী আছে কারাতো পাঠ হয়ে যাচ্ছে। এখন সরকার ঘোষণা দিয়েছে হল গুলো করবে। আমিও ১০০ মেশিন দিব, বলেছি। কিন্তু ওগুলাতো আমার চালানো সম্ভব না। আমার অন্য ব্যবসা বানিজ্য আছে। আমি সিনেমায় অভিনয় করি করবো মরার আগ দিন পর্যন্ত। যদি সুস্থ থাকি। অভিনয় ছাইড়া চইলা যামু এইটা আমি বলতে পারমু না। সরকার হল দিবে বলেছে তাও ছয় মাস হয়ে গেল। সরকার ৫০টা দিলে আমিও ৫০ টা দিব। বাংলদেশে ১০০ সিনেমা হল হইলে ছবি চলা সম্ভব।আর ঝামেলা মিটানোর জন্য একটা উদ্যোগ নেওয়া হইছে। সামনে মিটিং দেখা যাক কি হয়।যদি মাইনা নেয় সবাই তাহলে ভালো হবে সবার।

প্রশ্ন : আপনি বার বার বলেছেন নায়ক -নায়িকার সংকট রয়েছে।

ডিপজল : নায়িকার সংকট সব চেয়ে বেশি। বর্তমানে এক কোটি টাকা লাগে ছবি বানাতে। ৫০ লোন করে। পরে লচ খেয়ে পারছে না যেতে বাসায়। নায়িকা নিয়ে থাকছেন আরেক বাসা বাড়া করে। আরেক ছবি বানাবে। সে ছবির খবর নাই। মেয়ে গুলা বের হতে পারছে না। অনেক ভালো মেয়ে সুন্দর মেয়ে আসছে। কিন্তু এসব বুঝতেছে না। আমার জানামতে এমন মেয়ে প্রায় ২০ বা ২৫ জন আছে। এখন ইন্ডাস্ট্রিতে মেয়েতো নাই। এই লটের সব চেয়ে সুন্দর মেয়ে ছিল পরী। পরীতো নাই, ও আসলে ঘুমাইয়া থাকে। তারে ডাকতে ডাকতে পরিচালকের জান শেষ হয়ে যায়। কেন? যদি ফিল্ম করতে হয় তাহলে মনমানসিকতা থাকতে হবে। শাবনূর, মৌসুমী, পপি, পূর্নিমা, অপু ওদেরতো এই বদনাম নেই। ছেলে আছে অনেক গুলো ওদের নিয়ে দাড়ানো যাবে।বাপ্পী, শুভ, সাইমন ওরা এখন ভালো কাজ করতাছে।

প্রশ্ন : ভারতীয় বাংলা ছবি এসে আমাদের হল গুলোতে প্রভাব বিস্তার করছে এই বিষয়টা কিভাবে দেখেন?

ডিপজল : ভারতে সবগুলো ছবি এখানে চললে আমাদের একটুও ক্ষতি হবে না। খাচ্ছি দাচ্ছি খোকা ঘরে ফিরে যাচ্ছি। ওদের সংস্কৃতি আমাদের সংস্কৃতি এক না। বেদের মেয়ে জোৎস্না ওরা বানাইলে চলবো না। একটা গ্রুপ সিনেমা হল ব্লগ করে রাখছে সিনেমা রিলিজ করতে দেয়না। এটার একটা সমাধান করা উচিত। সরকার বছরে একটা পুরষ্কার দেয় জাতীয় পুরষ্কার সরকারও শেষ। সরকারের যারা এটা নিয়ন্ত্রণ করে তাদের মাথা ঘামাইতে হবে। আমরা ঘামাইলে হইবো না। আমি পারি মিটাইটে কিন্তু ঝগড়াঝাঁটি হবে। কেউ চায় না ঝগড়াঝাঁটি করতে। তথ্যমন্ত্রীর উচিৎ সুন্দর পরিবেশ তৈরি করা। উনিই যদি যান ছবি বানাইতে উল্টো পথে চলবে। আমার একটা ছবি তের বছর ব্যন্ড। অনেক ছবিতো সেন্সর ছাড়াই চলছে। কেন? আমার ছবি সেন্সরে দেন আর বাহিরের ছবি সেন্সর ছাড়া রিলিজ হয়ে যাবে কিভাবে? সম্ভব বাংলাদেশে। ক্ষমতার পূজারি যদি বন্ধ হতো তাহলে সুন্দর পরিবেশ হতো। ভারতের ছবির চেয়ে আমাদের ছবি আগে ভালো চলতো। এখন নাটক ভালো চলে ভারতের শুধু দুই একটা সিরিয়াল চলে। তথ্য মন্ত্রনালয় যদি একটু নজর দিত পরিবেশটা খুব সুন্দর হতো।

প্রশ্ন : আপনার অনেক ক্ষমতা আছে। নতুন প্রোডাকশন হাউজ রয়েছে অনেকে কাজ করছে তারপরও কি মনে হয় আপনাকে কোনঠাসা করে রাখা হয়েছে?

ডিপজল : কোনঠাসা করে রাখা হয়েছে। আমিতো মুখ খুইলা বলতে পারিনা সব। তাওতো মোটামোটি জানে সবাই। তথ্য মন্ত্রনালয় উদ্যোগ নিলে কারো ইন্ধন চলবে না। আমি বলতে গেলে ঝগড়া হবে। আমার হলে ঈদের ছবি রিলিজ করতে দেওয়া হয়নি। আমার হলে কি মেশিন নাই, আছে। সরকার মেশিন বসাবে কোন খবর নাই। সরকার বসাক আমি বসাই চলুক না একশ হল। তখন কমপিটিশন হবে। আমরাতো আন্দোলন করলাম সরকারের টনক নড়াতে পারি নাই। এখন যদি মন্ত্রীরা ছবি বানায়, মন্ত্রীর ছেলেরা ছবি বানায়। বানাক কিন্তু কেন আমাদেরটা সেন্সর দিয়ে আর ওদেরটা সেন্সর না দিয়ে চলবে? এখানে জোর যার মুল্লুক তার।

প্রশ্ন : বর্তমানে আমাদের দেশের শুটিং গুলো দেশের বাহিরে চলে যাচ্ছে এবং বাহিরের লোকজন ওয়ার্ক পারমিট না নিয়ে কাজ করছে এ বিষয়টি আপনি কি ভাবে দেখেন?

ডিপজল : এতে আমাদের টেকনিশিয়ানরা না খেয়ে মরছে। বাহিরে থেকে এসে কাজ করছে আমাদের টেকনিশিয়ানরা মাইর খাচ্ছে। ওরা কি আহামরি কিছু বুঝে? ওরা কিভাবে এসে বাংলাদেশে কাজ করছে? অবশ্যই আমাদের দেশে ভাল ভাল টেকনিশিয়ান আছে। তারা খুবই ফাস্ট কাজও করে দ্রুত।বিদেশ থেকে এসে ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া কাজ করছে এটা সরকারের ব্যর্থতা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here