আমি শুধু আমার জায়গায় দাঁড়িয়ে কাজটা ঠিকমতো করে যাব : শাকিব খান

3176
image_printপ্রিন্ট

পেইজ থ্রি ডেক্স।।

গতকাল কলকাতার ৯১ সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছে শাকিব খানের চালবাজ। সে উপলক্ষ্যে আজ ওপার বাংলার জনপ্রিয় দৈনিক বর্তমান পাতাজুড়ে শাকিব খানের সাক্ষাৎকার ছেপেছে। সেই সাক্ষাৎকারে কপি এসেছে পেইজ থ্রি’র কাছে। পেইজ থ্রি’র পাঠকদের জন্য সেটি হুবাহু প্রকাশ করা হল।

ভাইজান ছবিতে আপনাকে কী ধরনের লুকে দেখা যাবে?

ভাইজান ছবিতে আমার ডাবল রোল। একটি চরিত্র খুব সাদামাটা। অন্য চরিত্রটি মন্দ হলেও সম্পূর্ণ নেগেটিভ নয়। এই চরিত্রে রাউডি লুকে আমাকে দেখা যাবে।

ব্যক্তিগত জীবনে আপনি খুব ফ্যাশন সচেতন। ছবির চরিত্র অনুযায়ী নিজের সাজপোশাক নিয়ে আপনি কতটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন?

যে কোনও ছবির ক্ষেত্রেই আমার চরিত্র কেমন সেটা নিয়ে পরিচালকের সঙ্গে আমি বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করি। সেই মতো চরিত্র অনুযায়ী নিজের সাজপোশাক নিয়ে চিন্তাভাবনা করি। চরিত্র অনুযায়ী পোশাক থেকে স্টাইলিং সব ঠিকঠাক না থাকলে তখন কিন্তু আমি ইনপুট দিই। একটু খুঁতখুঁতে আমি।

আপনার কাছে ফ্যাশন এবং স্টাইলের ব্যাখ্যা কী?

আমার মনে হয় ছবিতে অভিনেতা, অভিনেত্রীরা এমন কিছু ফ্যাশন করলেন বা আমি নিজেও করে থাকি অনেক ক্ষেত্রে পরে দেখা যায় সেটাই আইকনিক হয়ে যায়। তবে ফ্যাশন করতে গিয়ে উদ্ভট সাজ পোশাক না করাই ভালো। স্টাইল সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। একেক জনের একেক রকমের হয়।

আপনি কী ধরনের পোশাকে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন?

আমি যে ফ্যাশন করতে খুব পছন্দ করি তা আগেই বলেছি। সব ধরনের পোশাক পরলেও তা অনুষ্ঠান এবং সময়ের গুরুত্বের ওপর নির্ভর করে। জিনস, টি-শার্টে ক্যাজুয়াল থাকতে পছন্দ করি।

আপনি ব্র্যান্ড কনশাস, কী কী ব্র্যান্ড পরতে পছন্দ করেন?

এক ব্র্যান্ডের সব কিছু ভালো হয় না। জিনসের ক্ষেত্রে আরমানি এবং আমেরিকান গেস পরি। টি-শার্ট এবং ফর্ম্যাল শার্টের ক্ষেত্রে আরমানি, হুগো বস পরতে পছন্দ করি। ক্যাজুয়াল শার্টের ক্ষেত্রে আরমানি, আমেরিকান গেস এবং হুগো বস পরি। ব্লেজারের ক্ষেত্রে এমপোরিও আরমানি।

অ্যাকসেসারিজ?

ঘড়ির ক্ষেত্রে রোলেক্স, ট্যাগ হিউয়ের, আরমানি, র‌্যাডো ব্যবহার করি। সানগ্লাসের ক্ষেত্রে প্রাডা পরি। তবে বিদেশি ব্র্যান্ড সাধারণত ইউরোপ, আমেরিকা থেকে কিনি। জুতো এবং স্লিপারের ক্ষেত্রে আরমানি, গুচি পরি। স্নিকার্স অ্যাডিডাসের। আমার প্রিয় অ্যাকসেসারিজ ঘড়ি, সানগ্লাস।

প্রিয় রং কি?

ব্ল্যাক, হোয়াইট।

জুয়েলারি পরতে পছন্দ করেন?

তেমন একটা নয়। যদিও দু’কানের জন্য বারোটি ডায়মন্ডের সলিটেয়ার রিং আছে কখনও শখ হলে তখন একটু পরি (হেসে)।

নিজেকে কীভাবে মেনটেন করেন?

আমি খেতে ভালোবাসি। সবই খাই, তবে তা খুব পরিমিত। নায়ক বলে না খেয়ে থাকি না। সকালে কোনও দিন ব্রেড, বাটার, একটা ডিম সেদ্ধ খাই। আবার কোনও দিন কর্নফ্লেক্স দুধ খেলাম। ব্রাউন রাইস খাই সেটা থাইল্যান্ড থেকে কিনি। চিকেন বিরিয়ানি খেতে খুব ভালোবাসি। দেড়-দু’মাসে একবার খেলেও তা পরিমাণে খুবই অল্প। প্রতিদিন জিম, ব্যায়াম, প্রাণায়াম করি। যদি কোনওদিন একটু কিছু বেশি খাই পরের দিন প্রচুর জিম ও ওয়ার্ক আউট করি। পরের দিন কম খেয়ে ব্যালেন্স করি। দুপুরে, রাতে বাড়িতে যা রান্না হয় তাই খাই।

এবার একটু অন্য প্রসঙ্গ। ১৯৯৯ থেকে ২০১৬-তে ঢালিউড থেকে টলিউড জার্নি কেমন ছিল?

এস কে মুভিজের কর্ণধার অশোক ধানুকা টলিউডে আনেন। ‘শিকারি’ টলিউডের প্রথম ছবি। এই ছবির ক্ষেত্রে দু’বাংলার প্রযোজক ছিলেন। আমার কাছে টলিউডকে কখনও আলাদা মনে হয়নি। মাঝে বন্ধ ছিল ভারত-বাংলাদেশের যৌথ প্রযোজনা। সে জন্য কাজ করা হয়নি। আমার জন্মের অনেক আগে থেকেই তো দুই বাংলার মধ্যে সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। মিঠুনদা (চক্রবর্তী) যখন ইয়ং সুপারস্টার ছিলেন তখন তো উনি ইন্দো-বাংলাদেশের যৌথ প্রযোজনায় ‘অন্যায় অবিচার’ ছবিটি করেছেন। একটা সময় বাংলাদেশ মুম্বই যৌথ প্রযোজনায় ছবি হয়েছে। আমার কাছে এপার-ওপার বাংলার মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই।

অশোক ধানুকার সঙ্গে কীভাবে আপনার পরিচয় হল?

শিকারি ছবিটি যৌথ প্রযোজনায় তৈরি। যখন এই ছবিতে অভিনয় করার প্রস্তাব পাই তখন বাংলাদেশের প্রযোজকের মাধ্যমে অশোক ধানুকার সঙ্গে পরিচয় হয়।

জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের শিকারি, নবাব, চালবাজ, ভাইজান চারটি ছবিতে অভিনয় করলেন। জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে আপনার কী ধরনের রসায়ন কাজ করেছে?

জয়দীপদা এবং তাঁর টিমের সঙ্গে কাজ করতে অবশ্যই ভালো লাগে। একটা অন্যরকম বন্ডিং তৈরি হয়েছে। আমি নিজেও অনেক স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। এস ভি এফ প্রযোজিত রাজীব বিশ্বাস পরিচালিত ‘মাস্ক’ ছবিতেও নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেছি। কলকাতা, থাইল্যান্ডে শ্যুটিং হয়েছে। ছবিতে আমার চরিত্রটি খুবই ইন্টারেস্টিং। এখনই বলা ঠিক হবে না। নূসরত জাহান, সায়ন্তিকা এই ছবির নায়িকা। শেষ সিডিউলের শ্যুটিং কলকাতায় হবে। লন্ডন থেকে ফিরে এই শ্যুটিং করব।

পরিচালক রাজ চক্রবর্তী আপনাকে এবং দেবকে একসঙ্গে নিয়ে একই ছবিতে কাজ করার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। ছবিটি এখন কোন পর্যায়ে?

হ্যাঁ, আমাকে রাজ সেই অফার দিয়েছেন। এখনও তা প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। সব রেডি এবং ফাইনাল হয়ে গেলেই আপনাকে জানাব।

গত বছর ইদে বাংলাদেশে যখন নবাব ছবিটি রিলিজ করেছিল টানা সাত মাস ছবিটি চলে। আবার তার আগে আপনার অভিনীত ইন্দো-বাংলাদেশ প্রযোজিত শিকারি ছবিটি বাংলাদেশে রিলিজ করলে প্রথমে টানা ছ’মাস পরে আবার রি-রিলিজ করলে টানা তিন-চার মাস চলেছিল। এটা কি শাকিব খানের ক্যারিশ্মা নাকি ছবির গল্প অথবা পরিচালনার গুণ কোনটা?

পরিচালনার গুণ তো আছেই। এছাড়াও সব কিছু মিলেই কিন্তু একটা ছবির সাফল্য আসে। এই ছবিগুলোতে সব কিছুর সমন্বয় এত ভালো ছিল তাই দর্শক সাদরে গ্রহণ করেছেন।

এস কে মুভিজ, এস ভি এফ এই দুই প্রযোজনা সংস্থা ছাড়া আগামী দিনে অন্য কোনও প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে কাজ করতে চলেছেন কি?

দেখুন এই দুই প্রযোজনা সংস্থা ছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে কথাবার্তা হয়েছে। যদি সব ঠিকঠাক থাকে এবং গল্প যদি আমার পছন্দ হয়, তবে ২০১৮-তে শ্যুটিং শুরু হবে। এখনও আমি কোনও কিছু ফাইনাল করিনি।

তার মানে টলিউডে ক্রমশ আপনার চাহিদা বাড়ছে। এদিকে টলিউডে পঁয়ত্রিশ বছর ধরে এক নম্বর আসনটি ধরে রেখেছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। জিৎ, দেবের চাহিদাও তুঙ্গে। সোহম, অঙ্কুশও জনপ্রিয়। এত নায়কের মাঝে নিজের জায়গা করাটা কতটা কঠিন?

ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে আসন পাকা করে নেওয়ার ব্যাপারে আমি কোনও দিন ভাবিনি, আর ভাববও না। আমি শুধু আমার জায়গায় দাঁড়িয়ে কাজটা ঠিকমতো করে যাব। দর্শক যাঁর কাজ পছন্দ করবেন তাঁকেই গ্রহণ করবেন। তার ওপর ভিত্তি করেই তো জায়গা তৈরি হয়। যে ইন্ডাস্ট্রিতেই কাজ করি না কেন দিনের শেষে আমার কাজ কেমন হল সেটাই দেখি।

ছবির জন্য গত দু’বছরে আপনার ভারত-বাংলাদেশে যে পরিমাণে যাতায়াত বেড়েছে ভারতীয় নাগরিকত্ব নেবার কোনও পরিকল্পনা আছে কি?

(হা হা করে হেসে) ভারত-বাংলাদেশ তো বন্ধু রাষ্ট্র। ভাই ভাই। সেটা বহু আগে থেকেই। বন্ধু বা ভাইয়ের বাড়িতে আসতে গেলে থাকার ব্যবস্থা হবে না সেরকম তো নয়। এখানে বা বাংলাদেশে থাকার মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই। তাই এখানে আসার জন্য নাগরিকত্বের কী দরকার?

আপনি নাকি এখানে বাড়ি কিনতে চলেছেন?

এখানে এত সুন্দর ফ্ল্যাট দেখি আর মনে হয় যদি এখানে একটা ফ্ল্যাট কিনতে পারতাম। হোটেলে অনেক সময় পছন্দসই খাবার পাই না। যেহেতু এখানে এখন প্রায়ই আসতে হয় তাই ব্যাগ টেনে আনা আবার নিয়ে যাওয়া খুব অসুবিধা হয়। তবে এখানেও তো অনেক নিয়ম-কানুন আছে। যদি আইনি জটিলতা কিছু না থাকে তবে এখানে একটা বাড়ি কিনব।

প্রতি ইদে আপনার একসঙ্গে পাঁচ-ছ’টি ছবি মুক্তি পায়। সে কারণে বাংলাদেশের অনেক বন্ধ হল নাকি খুলে যায় বলে শোনা যায়। এটা কতদূর সত্যি?

(হেসে) ইদে আমার ছবি রিলিজ হলেই যে বন্ধ হল খুলে যায় সেটা আমি বলতে পারব না। আসলে বাংলাদেশে যে চারশো সাড়ে চারশো সিনেমা হল আছে তা নিয়মিত খোলা থাকে। কিছু সিনেমা হল মেশিন ঘাটতির জন্য সিনেমা পায় না। এখন ডিজিটালাইজড হচ্ছে। মালটিপ্লেক্সের সংখ্যাও বাড়ছে। ইদে তো আগে পাঁচ-ছ’টা ছবি রিলিজ করা ছাড়াও প্রতি সপ্তাহে আমার ছবি রিলিজ করত। এখন তো ছবির সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছি। তবে এখনও ইদে দু-তিনটে ছবি রিলিজ তো করেই।

আপনি তো মূলত কমার্শিয়াল ছবিতে অভিনয় করেন। অন্য ধারার ছবিতে কি আপনাকে দেখা যাবে?

সিনেমাকে আমি কোনওটা মশলাদার বা অন্য ধারার সেভাবে দেখি না। যে কোনও ধারার ক্ষেত্রেই কিন্তু ব্যবসায়িক দিক থাকে। আবার এটাও ঠিক মৌলিক গল্প হলেই যে তার গল্প ভালো হবে তারও মানে নেই। গল্পে কতটা জোর আছে দর্শককে কতটা আনন্দ দেবে সেটা দেখে নিয়ে আমি ছবি করি। এখন যেহেতু আমি ছবির সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছি তাই ভালো প্রজেক্ট দেখে ছবি করব।

শোনা যায় আপনার অভিনয়ে আসাটাও কাকতালীয়?

একদমই ঠিক। শ্যুটিং দেখতে গিয়ে প্রথম দিনেই আমার কাছে ছবির অফার আসে তাও আবার নায়কের চরিত্রে। সেই অর্থে অভিনয়ের কোনও ট্রেনিং ছিল না। পাড়ায় অনেকের নাটকের গ্রুপ ছিল সেখানে নাটক করতাম। আমার থিয়েটার গুরু ছিলেন খোকনভাই। ওঁর থিয়েটারে অভিনয় করেছি এবং অনেক কিছু শিখেছি। খোকনভাই বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব।

ঢালিউড এবং টলিউডের কাজের পরিবেশের কতটা মিল, অমিল রয়েছে?

মাঝে যখন ভারত নির্মাতারা হাত গুটিয়ে নিয়েছিলেন সেই সময় আমাদের ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। এছাড়া সেই সময় ঢালিউডের ইয়ং সুপারস্টার সলমন শাহর আকস্মিক মৃত্যুতে ইন্ডাস্ট্রি অনেকটা শূন্য হয়ে গিয়েছিল। পরে মান্নাভাই এসে ইন্ডাস্ট্রিকে চাঙ্গা করেন। যদি একটু পিছিয়ে যাওয়া যায় সেই সময় যখন ঢালিউডে দু-আড়াই কোটি বাজেটের ছবি হত। তখন টলিউডে ত্রিশ-চল্লিশ লাখে ছবি হত। ঢাকা ইন্ডাস্ট্রি এত বড় যে ভালো সিনেমা হলেই দর্শক দেখেন। এখন ঢালিউড ইন্ডাস্ট্রি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভালো জায়গা তৈরি করছে। আমার বিশ্বাস আগামী দিনে ছবির বাজেট হবে কমপক্ষে দশ কোটি টাকা। এখন তিন-সাড়ে তিন কোটি টাকা বাজেটের ছবি তৈরি হয়ই। তবে ঢালিউড এবং টলিউডের কাজের পরিবেশের ক্ষেত্রে আমার পার্থক্য কিছু লাগে না।

অভিনয়ের পাশাপাশি আপনার তো রেস্তরাঁর ব্যবসাও আছে?

(হেসে) হ্যাঁ। বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় শপিং মল যমুনা ফিচার পার্কে ‘হট চিকেন’ নামে রেস্তরাঁ আছে। যাতায়াত আরও বাড়লে আগামী দিনে কলকাতায় এই রেস্তরাঁর আউটলেট খোলার ইচ্ছে আছে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here