ভালো কাজ করতে গেলে একটু টেনশনে থাকা ভালো : প্রমিতা চক্রবর্তী

1158

স্টার জলসার ‘বধূবরণ’ সিরিয়ালের পর বড় ব্রেক নিয়ে আবার টিভি পর্দায় ফিরে এলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী প্রমিতা চক্রবর্তী।  ‘সাত ভাই চম্পা’ ধারাবাহিকে পারুলের  চরিত্রে দেখা যাবে তাকে।  অভিনয় ও অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেছেন প্রমিতা।  সঙ্গে ছিলেন কলকাতা প্রতিনিধি ববি চক্রবর্তী

 

অভিনয়ে আসা কিভাবে?

ছোট বেলায় নাচ শিখতাম।  আমি চার বছর বয়স থেকে নাচ শিখছি।  অনেক কমপিটিশন জিতেছিলাম। তারপরে পড়ে গিয়ে পায়ে চোট পেলাম।  নাচ বন্ধ হয়ে গেল। তারপরে বাবার  ( প্রমথ চক্রবর্তী ) চেষ্টায় নান্দিকারে অ্যাক্টিংয়ের ওয়ার্কশপ করেছি।  উর্মিমালা বসুর কাছে ট্রেনিং নিয়েছিলাম।

তারপর?

প্রথম অভিনয় করি জি বাংলারই ‘অগ্নি পরীক্ষা’ সিরিয়ালে।  তারপর আবার সেই জি বাংলা চ্যানেলেরই ধারাবাহিক  ‘রাশি’।  তবে সেই দুটো সিরিয়ালে সেকেন্ড লিড করেছিলাম।  তারপরে বড় ব্রেক পেলাম স্টার জলসার ‘বধূবরণ’ ধারাবাহিকে।  আবার জি’র ঘরে ফিরে এলাম।  সৌজন্যে সাত ভাই চম্পা।

প্রথমবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে নার্ভাস ছিলেন?

প্রথমবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে একটু টেনশন ছিল। তবে আমি পরিচালকের ওপরে পুরো ভরসা করেছিলাম।

বধূবরণ-এর পরের ব্রেকটা কিভাবে কাটালেন?

২০১৭ সালের জানুযারিতে বধূবরণ শেষ হল। নয়-মাসের গ্যাপে নিজেকে অনেকটা ধারালো করার চেষ্টা করেছিলাম। অভিনেত্রী দামিনি বসুর (বেনিদি) কাছে অভিনয়ে তিনটে ওয়ার্কশপ করেছি। তখন বধূবরণ সিরিয়ালের কণক চরিত্রের হ্যাংওভার ছিল। সেটা কাটাতেই এই ওয়ার্কশপ করি।

পারুলের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন?

আলাদা করে কিছু করিনি। আমার আগের ট্রেনিংটা কাজে লেগেছে। তবে রাজকুমারীর চরিত্রের জন্য ঘোড়ায় চড়া শিখেছি। জলে নিজে নৌকা চালিয়েছি। আসলে রাজকুমারী যদি ঘোড়া ছোটাতে না পারে তবে চরিত্রটা দর্শক গ্রহণ করবেন না। এছাড়া  চ্যানেল থেকে আমাদের একটা ব্রিফিং দেওয়া হয়েছিল। আসলে  গল্পটা সকলের জানা। তাও চ্যানেলের কর্তারা আমাকে ভালো করে ব্রিফ দিয়েছিলেন।

কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?

সত্যি বলতে, বধূ বরণ-এ  এত বছর কাজ করার পরেও যখন এই নতুন সিরিয়ালে শুটিং শুরু করলাম একটু চাপা টেনশন ছিল। তবে আমার মনে হয়, ভালো কাজ করতে গেলে একটু টেনশনে থাকা ভালো। তাতে অনেক বেশি মজা করে কাজ করা যায়। তবে সেটা গোড়া থেকেই পজেটিভ থাকে। সাত ভাই চম্পা সিরিয়াল শুরুর আগে যখন থেকে টেলিভিশনে প্রোমো দেখানো শুরু হয়েছিল  সেই দিন থেকেই আমি দুর্দান্ত সাড়া পেয়েছি।

পর্দার পারুল কি আলাদা?

ভিজ্যুয়ালি চরিত্রে খানিকটা পরিবর্তন হয়েছে। আমরা দর্শকদের মনোরঞ্জনের জন্য আট থেকে আশির দর্শকদের ধরে রাখতে অনেক  চেষ্টা করছি। এর বেশি বলব না। বাকিটা দর্শক টেলিভিশনে দেখেই বিচার করুন।

আপনি বাস্তবে কেমন?

আমি পারুলের মতো হাসিখুশি স্বভাবের। আর  কণকের মতো স্পষ্টবাদী।

সিরিয়ালের কাজের ফাঁকে ছবির অফার পেয়েছিলেন?

বধূবরণ-এর পরে একটা ছবির কথাবার্তা হয়েছিল। কিন্তু ফাইনালি হয়নি। এখন ভাবছি ভালোই হয়েছে। নাহলে সাত ভাই চম্পার মতো বিগ প্রজেক্টের সঙ্গে জুড়তে পারতাম না।

ডেইলি সোপের প্রভাব ব্যাক্তিগত জীবনে পরেছে কি?

এখন আমার জীবনের দুটোই লক্ষ্য। আমার বাবা- মা ও অভিনয়। তাই এই দুটোকে চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সব প্রতিকূলতা সামলে নিচ্ছি।

বাবার প্রতিক্রিয়া কেমন?

আমার বাবা খুব খুশি। আমার কাছে ধারাবাহিকে এইভাবে সুযোগ পাওয়াটা  হাতে চাঁদ পাওয়ার মতো। এখন মনে হচ্ছে, আমি বাবার গাইড লাইন মেনে চলে ভুল করিনি।

আরো পড়ুন: সমাজসেবা করার জন্য রাজনীতি করার দরকার নেই : মীর আফসার আলি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here