রাত যত গভীর হয় অশ্লীল বিজ্ঞাপন তত বাড়তে থাকে

নাজিব ফরায়েজীর

কোনোভাবেই বন্ধ হচ্ছে না ভিনদেশী টিভি চ্যানেলের আগ্রাসন। এসব চ্যানেলে বাংলাদেশকে টার্গেট করে অবৈধভাবে প্রচার করা হচ্ছে কুরুচিপূর্ণ বিজ্ঞাপন। আর লোভে পড়ে এসব পণ্য কিনে হরহামেশা প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।বিদেশী এসব চ্যানেলগুলোতে চলছে যৌনশক্তি বর্ধক ওষুধের বিজ্ঞাপন। চটকদার কথা দিয়ে তৈরি এমন বিজ্ঞাপনই প্রতারণার ফাঁদ। যা দেখে সরল মনে পা বাড়ান সাধারণ মানুষ। আর রাত যত গভীর হয় অশ্লীল বিজ্ঞাপনের ডাল-পালাও তত মেলতে থাকে। এসব অশ্লীল বিজ্ঞাপনের জন্য পরিবার নিয়ে টিভি দেখতে বসে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন অনেকে। এমন পরিস্থিতিতে সন্তানের হাতে রিমোট কন্ট্রোল দিতেও ভয় পান অভিভাবকরা। অথচ কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই বাংলাদেশে বিক্রি হচ্ছে এসব পণ্য। বিনিময়ে দেশ থেকে পাচার হচ্ছে বড় অংকের টাকা। যেসব টিভি চ্যানেল এমন সব বিজ্ঞাপনকে পুঁজি করে প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করেছে সেসব বন্ধে কোনো উদ্যোগও নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা: মো: শহীদুল্লাহ সিকদার জানান, ওষুধ প্রশাসনের অনুমোদনহীন এমন সব পণ্যে, সাময়িক উপকার থাকলেও থাকতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে তা, স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করে।  আর তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া, কেবল বিজ্ঞাপন দেখে কোনো ধরনের ওষুধ সেবন না করার পরামর্শ দেন তিনি। মানহীন এসব পণ্য, মানবদেহের জন্যও মারাত্মক ক্ষতিকর বলেও জানান এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।২০১০ সালের ২১ অক্টোবর প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য বিদেশী কোনো চ্যানেলের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচার নিষিদ্ধ করে সরকার। অথচ বাংলাদেশের দর্শকদের টার্গেট করে শুধু অবৈধই নয়, নোংরা বিজ্ঞাপন প্রচার করছে ভিনদেশী চ্যানেলগুলো।তবে প্রকাশ্যে এমন অপকর্মের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নিচ্ছে না তথ্য মন্ত্রণালয়।

মতামত দিন