পেইজ থ্রি ডেস্ক।।
ঈদে মুক্তি পেতে যাচ্ছে ঢালিউডের জনপ্রিয় জুটি শাকিব খান ও বুবলী অভিনীত ‘চিটাগাইংয়া পোয়া নোয়াখাইল্লা মাইয়া’ ছবিটি।চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী অঞ্চলের দুই পরিবারের দ্বন্দ্ব ও প্রেম ভালোবাসার গল্প নিয়ে ছবিটি নির্মিত হয়েছে।

ছবিটি পরিচালনা করেছেন উত্তম আকাশ। এরই মধ্যে ছবিটির ট্রেলার নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের মন্তব্যে, ছবিতে অভিনয়শিল্পীরা ঠিকমতো আঞ্চলিক ভাষা তুলে ধরতে পারেননি। তবে ছবির প্রকাশিত গানগুলো রয়েছে আলোচনায়।

অনেক আগে ছবিটি সেন্সর সনদ হাতে পেয়ে বুকিং করছেন। ছবিটি প্রযোজনা করেছে শাপলা মিডিয়ার সহযোগী প্রতিষ্ঠান খান প্রডাকশন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ পর্যন্ত সারাদেশে শতাধিক সিনেমাহলে ছবিটি মুক্তি পাবে।

শাকিব-বুবলী ছাড়াও ছবিতে অভিনয় করেছেন ওমর সানি, মৌসুমী, সাদেক বাচ্চু, কাজী হায়াৎ, বদ্দা মিঠু প্রমুখ।

পেইজ থ্রি ডেস্ক।।

গায়কের পাশাপাশি তিনি ভালো লেখেন। তার লেখনিতে থাকে টান টান উত্তেজনা। তিনি কন্ঠশিল্পী আসিফ আকবর। সম্প্রতি তথ্যপ্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলায় ৬ দিন কারাভোগ করে জামিন পেয়েছেন তিনি।

জেলখানার স্মৃতিচারণ করেছেন আসিফ তার ফেসবুক পোস্টে। তা পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

‘‘দু’টুকরো মুরগীর মাংস আর ভাত দেয়া হলো খাবারে । ভুনা মাংসে ঝোল নেই,আমি আবার শুকনো খাবার খেতে পারিনা । শাওন’কে ডালের কথা বলবো কিভাবে সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলাম না । পরে কাঁচা লবন চেয়ে নিয়ে খাওয়া শুরু করলাম। প্রতি লোকমা ভাত চিবিয়ে যাচ্ছি অনন্তকাল, গিলতেই পারছিনা। হঠাৎ করে মনে হল পানি তো আছে। লজ্জায় ঠান্ডা পানিও চাইতে পারছিলাম না। পরে পানি দিয়ে গপাগপ খেয়ে ফেললাম। মাংসের প্রতিটি অংশই অনেক এক্সপেনসিভ মনে হচ্ছিলো । খাওয়া শেষে সাবান পাইনা হাত ধোবার, সর্বকনিষ্ঠ বন্দী মাহবুব নিয়ে এলো হ্যান্ড-ওয়াস । এদিকে পাঞ্জাবী আর প্যান্ট ও ধোয়া দরকার, ভাবলাম পানিতে ভিজিয়ে রাখি পরে ধুয়ে নিবো। ছোট মাহবুব তা হতে দিলোনা, সে কাপড়গুলো ধুয়ে ফেললো। ’’

এবার আর শরীর চলে না। খাওয়ার পর অনন্ত বিশ মিনিট হাঁটি, সেটা আর সম্ভব হলনা ,পড়ে গেলাম বিছানায়, শরীর জুড়ে ক্লান্তি আর ক্লান্তি । বালিশটা প্রথমে বানানো হয়েছিল শিমুল তুলো দিয়েই। মাথা রেখে মনে হলো গ্রানাইট পাথরের সঙ্গে বাড়ি খেয়েছি, পিঠের নীচে বেড শীটটা স্যাঁতস্যাঁতে লাগছিলো। এতো কিছু কে দেখে, চোখ জুড়ে ঘুমের সীমাহীন আক্রমন। কোলবালিশ আর কাঁথা আমার নিত্যসঙ্গী, ভাবার সময় নেই ।

মশাদের সান্নিধ্যে ভ্যাপসা গরমে ঘুমালাম প্রায় দু’ঘন্টা। আমার রুটিন এখানে চলবে না, তাই ঘুম থেকে উঠে দাঁত ব্রাশ করে রাতের খাবার খেয়ে নিলাম ঝটপট, নইলে আবার অভূক্ত থাকতে হবে,তেলাপিয়া মাছের দো পেয়াজা খুব টেষ্টি ছিলো। অমৃতের স্বাদ পেয়েছি, জীবনে এতো ভাল খাইনি। খাওয়া শেষে রুমের প্যাসেজে হাঁটা শুরু, একজন ডাকলেন, ও গায়ক সাব এইহানে একটু বইয়া একটা বিড়ি খান, আমনে তো মেশিনের লাহান খানা আর আডা শুরু করসেন। বরিশালের মূলাদীর মানুষ তিনি । পাশে গিয়ে বসলাম, আস্তে আস্তে সবাই আসা শুরু করলেন, আমিও ফর্মে ফেরার সিগন্যাল পেলাম।

রাত জাগা আমার অভ্যাস। জেলে বাতি বন্ধ হয়না, একটু কমানো হয়। দুটো শ্যূটিং মিস হল এই কারাবাসে, অনুতপ্ত বোধ করছি। নানান ভাবনা মনে, নানান ফ্ল্যাশ ব্যাক চোখে। একা একা শুয়ে হাসি আর রণ রুদ্র’র কথা ভাবি। ওরা মাত্র ক্লাস সিক্সে হোষ্টেলে ঠিক এমনই পরিস্থিতিতে ছিলো, ওরাও নিশ্চয়ই বাসায় শুয়ে আমার জন্যও ভাবছে, আজ দু’রাত ছেলেদের চুমু দেইনা। ওরা জানে ওদের বাবা একা একা ভয় পায়, একা থাকতে পারে না। ফজরের শেষে ঘুম জড়িয়ে এলো চোখে, ঠিক সকাল সাড়ে সাতটায় ডাক, হাজিরায় যেতে হবে স্বাক্ষর করার জন্য। মেজাজ খিচড়ে গেলো, সামলে নিলাম পরক্ষনেই, এখানে আমি আগন্তুক ,নিয়ম মেনে চলাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।’’ চলবে