পেইজ থ্রি ডেস্ক।।

‘বাংলাদেশের সিনেমা ইন্ডাষ্ট্রির উন্নতি করতে হলে সিনেমা হলে শুধু ডিজিটাল মেশিন বসালেই হবে না। ছবি দরকার। ভালো ছবি দরকার। ছবির সংখ্যা না বাড়লে সিনেমা হল বাঁচানো যাবে না। ভালো ছবির অভাবে সিনেমা হল গুলি আজ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। গল্প নির্ভর, সামাজিক ও বিনোদনধর্মী ছবি নির্মান হলেই সিনেমাহল বাঁচানো যাবে। তা না হলে সিনেমা শিল্প মুখ থুবড়ে পড়বে। এবং এই ইন্ডাষ্ট্রি চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে।’
সম্প্রতি একটি সিনেমার অনুষ্ঠানে আলাপ কালে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সাবেক সভাপতি ও চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব সাইফুল ইসলাম চৌধুরী এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন সিনেমা হল বাঁচলে সিনেমা ইন্ডাষ্ট্রি বাঁচবে। শুধু ডিজিটাল মেশিন দিয়ে হল বাঁচানো যাবে না। তিনি বলেন, বর্তমানে সিনেমা হল গুলোতে ডিজিটাল প্রজেকশনে ছবি চলছে। সিনেমা ভালো না হওয়াতে দর্শক টানতে পারছে না। যে ছবি গুলো মুক্তি পাচ্ছে সে ছবি গুলো মান সম্মত না হওয়ায় ব্যবসা করতে পারছে না।
তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, পাকিস্তান আমলেও দেশিয় ছবির পাশাপাশি পশ্চিম পাকিস্তানের উর্দু ও ভারতীয় ছবি হলে এক সাথে প্রদর্শিত হয়েছে। এতে দেশীয় ছবির কোন ক্ষতি হয়নি। বরং উপকার হয়েছে। স্থানীয় ছবির মান ভাল হয়েছে। দেশীয় প্রযোজকদের ছবি প্রযোজনায় উৎসাহিত করতে নানা সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে। দেশীয় প্রযোজকদের ভুর্তকি দেয়া হয়েছে। পাকিস্তান আমলেও ছবি আমদানী করে ছবি সিনেমা হলে প্রদর্শিত হয়েছে। প্রযোজকদেরকে ছবি প্রযোজনায় উৎসাহিত করতে ছবি আমদানীর ব্যবস্থা ছিল। তিনি উদাহরন হিসাবে বলেন, “মুখ ও মুখোশ” ছবিটি মুক্তি পাওয়ার পর ছবিটি ব্যবসা সফল হয় নি। প্রযোজকদেরকে ব্যবসায়িক ক্ষতি পোষাতে তৎকালীন সরকার সাবসিডিয়ারি দিয়েছে। “মুখ ও মুখোশ” এর ক্ষতি পোষাতে ভারত থেকে “শোলয়া শাল” আনা হয়েছিল।স্থানীয় ছবির ভতুর্কি বাবদ ভারত থেকে ৮টি বাংলা ছবি এফডিসি আমদানী করে প্রযোজকদের ছবি প্রযোজনায় উৎসাহিত করেছেন। যাতে তাদের ক্ষতি আমদানীকৃত ছবির মাধ্যমে পোষাতে পারে। ছবিগুলোর উল্লেখযোগ্য ছিল- “মেঘে ঢাকা তারা”, “রায়কমল”, “কিছুক্ষন”, “হেড মাষ্টার”, “অপুর সংসার”, “জলসাঘর”, “শ্যামলী” ইত্যাদি।

সাইফুল ইসলাম চৌধুরী বলেন,মান সম্মত ছবি নির্মিত হচ্ছে না বলে সিনেমা হলে দর্শকরা আসছেন না। হলমুখী হচ্ছেন না দর্শক। বর্তমানে যৌথ প্রযোজনার ছবি নির্মানে ধীর গতি চলছে। সাফটা চুক্তির মাধ্যমে ছবি আমদানির বিধান থাকলেও নানান জটিলতার কারনে আমদানিকৃত ছবি কম আসছে।২০১৭-২০১৮ সালে এ এ পর্যন্ত ১২টি ছবি রপ্তানি করার অনুমতি পেয়েছে। কিন্তু আমদানি হয়েছে মাত্র ৫টি ছবি। এর কারণ আমলাতান্ত্রীক জটিলতা। ফলে ছবির সংখ্যা বাড়ছে না। বছরে যেখানে নতুন ৪০/৫০ টি ছবি দরকার, সেখানে ছবি নেমে এসেছে ২০ টির মত। এই ২০ টির মধ্যে কম করে হলেও ৭/৮ টি ছবি চলার অযোগ্য। স্বল্প সংখ্যক ছবি দিয়ে সিনেমা শিল্পকে বাঁচানো যাবে না। সরকার, তথ্য মন্ত্রনালয় ও এফডিসিকে এ বিষয় গুলো নজর দিতে হবে। তা না হলে বর্তমানে সিনেমা শিল্পের যে অবস্থা তা থেকে উত্তরন ঘটানো যাবে না।

তিনি বলেন, সরকার যদি বিদেশ থেকে আমদানিকৃত অন্যান্য পন্যের মতো সরাসরি ছবি আমদানীর ব্যবস্থা করে দেয় তা হলে সিনেমা শিল্প বাঁচবে বলে আমি মনে করি।সরাসরি আমদানির উল্লেখ্য এই জন্য করা হয়েছে যে, বর্তমানে পাইরেসির যুগ। সরকার/সরকারী প্রতিষ্ঠান ছবি আমদানি প্রক্রিয়া করতে করতে ছবি পাইরেছি হয়ে যাবে। এবং চ্যানেলে প্রদর্শিত হয়ে যাবে।  সরাসরি আমদানি ব্যবস্থা করলেই চলচ্চিত্র শিল্প বাঁচবে।

পেইজ থ্রি ডেস্ক।।

আজ ভারতীয় গণমাধ্যম ‘এবেলা’র মুখোমুখি হয়েছিলেন শাকিব খান। পেইজ থ্রির পাঠকের জন্য সেটি হুবাহু প্রকাশ করা হলো।

সব জটিলতা কাটিয়ে ‘চালবাজ’ তাহলে মুক্তির পথে?

(হাসি) হ্যাঁ, প্রজেক্টটা নিয়ে আমি খুব এক্সাইটেড! ভেবেছিলাম, ‘চালবাজ’ই ২০১৮’য় আমার প্রথম ছবি হবে। কিন্তু সেটা হল কই! ইনশাল্লাহ্‌, ইট উইল বি আ বিগ
হিট মুভি।

ছবির নাম যখন ‘চালবাজ’, তখন গল্পে বিস্তর চালবাজি করেছেন নিশ্চয়ই?

কিছুটা তো করেইছি! তবে চালবাজি শব্দটা আমরা সাধারণত নেগেটিভ মনে করি। এক্ষেত্রে আমি চালবাজিটা করেছি পজিটিভলি। আর বেশি কিছু বলব না। পুরোটা জানতে গেলে দর্শককে ছবিটা দেখতে হবে।

‘নবাব’এর পর ফের শুভশ্রীর সঙ্গে কাজ করলেন।

হ্যাঁ! প্রথম থেকেই ওঁর সঙ্গে আমার কেমিস্ট্রিটা বেশ ভাল! ‘নবাব’ বিগ হিট ছিল। বিদেশেও মুক্তি পেয়েছিল। ‘শিকারি’র সময় থেকে আমরা ফের ওভারসিজ রিলিজ করছি। তার আগেও বিদেশে ছবি মুক্তি পেত, কিন্তু ছাড়া ছাড়া ভাবে। ‘নবাব’ মিড্‌ল-ইস্টে খুব ভাল ব্যবসা করেছিল। কানাডা, ফ্রান্সেও। আমার বিশ্বাস, ‘চালবাজ’ও দেশ ও বিদেশের মাটিতে ভাল
ব্যবসা করবে!

ছবির লন্ডন শিডিউলের সময় ফেডারেশনের আপত্তির কারণে শ্যুটিং বন্ধ করে দিতে হয়েছিল। ফেডারেশনের যুক্তি ছিল— বিদেশে শ্যুটিংয়ের ব্যাপারে ফেডারেশনের নিয়ম মানেনি প্রযোজনা সংস্থা। আবার ‘এসকে মুভিজ’ জানিয়েছিল, ফেডারেশনের খামখেয়ালি সিদ্ধান্তে প্রায় এক কোটি টাকা লোকসান হয়েছিল তাদের। আদতে হয়েছিল কী বলুন তো?

দেখুন, এখানকার ফেডারেশনের নিয়মগুলো আমি খুব একটা ভাল জানি না! আমি যেটুকু দেখেছি, সেটা বলতে পারি মাত্র। আমরা তখন লন্ডনে। পরদিন থেকে শ্যুটিং শুরু। হঠাৎ জানতে পারি, শ্যুটিং করা যাবে না। তারপর তো দেখলাম, শ্যুটিংটাই বাতিল করতে হল! প্রযোজনা সংস্থার তরফে পুরো ব্যাপারটা নিয়ে সেট্‌লমেন্টে পৌঁছনোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু সেটা করা যায়নি! খুব খারাপ লেগেছিল ব্যাপারটায়। বিশ্বাস করুন, আউটডোরে গিয়ে এমন অভিজ্ঞতা আমার আগে কখনও হয়নি।

যেভাবে থেমে থেমে, ভেবেচিন্তে কথা বলছেন— ব্যক্তিগত জীবনেও কি আপনি এতটাই সংযমী?

(হেসে) আমি কেমন, সেটা মাঝে মধ্যে আমিও বুঝে উঠতে পারি না! কখনও মনে হয়, আমি ইন্ট্রোভার্ট। আবার কখনও মনে হয়, এক্সট্রোভার্ট। আপনি এখন আমাকে এরকম দেখছেন। যখন টানা তিন-চারদিন ছুটি পাই, তখন আমি সম্পূর্ণ অন্যরকম মানুষ হয়ে যাই (হাসি)।

কী রকম মানুষ হয়ে যান তখন?

(চোখে দুষ্টুমির ছোঁয়া) সেটা আপনি সামনে থেকে আমাকে না দেখলে বুঝবেন না (হাসি)। আমরা আর্টিস্টরা সীমিত গণ্ডির মধ্যে থাকতেই অভ্যস্ত। তাই নতুনভাবে একটু বাঁচতে ইচ্ছে করে। আমার যেমন আড্ডা দিতে, ঘুরে বেড়াতে, মস্তি করতে দারুণ লাগে। বাংলাদেশে আমার একটা ফার্ম হাউস রয়েছে। সেখানে হোক বা অন্য কোথাও— আমার কাছের মানুষগুলোকে ডেকে নিয়ে কয়েকটা দিন পুরো বাঁধনছাড়া ভাবে কাটাই (হাসি)!

বাংলাদেশের ফিল্ম তারকাদের তালিকা যদি বানানো হয়, তাহলে এক থেকে পাঁচ নম্বর পুরোটাই শাকিব খানের দখলে। এই সুপার-স্টারডমের রহস্যটা কী?

(মুচকি হেসে) খুব ভগ্নদশায় আমি আমাদের ইন্ডাস্ট্রিটাকে পেয়েছিলাম। আপনি যদি ২০০০ সাল অবধি বাংলাদেশের ইন্ডাস্ট্রিকে দেখেন, তখন আমাদের ওখানে টলিউডের চারগুণ বাজেটের ছবি তৈরি হতো। সেই সময় আমরা তখন দু’কোটি টাকায় ছবি বানাতাম। টলিউডে ছবির বাজেট তখন ৫০ লক্ষ। তখন আমাদের সুপারস্টার ছিলেন সলমন শাহ। শাহরুখ খানের সঙ্গেও ওঁর ভাল আলাপ ছিল। তখন স্টারডম কাকে বলে, সেটা ওঁকে শিখতে হয়! তখনকার তারকাদের হাতে প্রায় ২০-২৫টা ছবি থাকব। আমাদের ছবি সুপারহিট হলে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যবসা করত। ভাবতে পারছেন!

তাহলে বাংলাদেশের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি পিছিয়ে পড়ল কীভাবে?

সলমন শাহ মারা গেলেন। আরও যাঁরা স্টার ছিলেন, তাঁরা অনেকে অভিনয় ছেড়ে গিলেন। অনেকে বিয়ে করে নিলেন। আমি যখন ইন্ডাস্ট্রিতে আসি, তখন আমাদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির একটা ক্রান্তিকাল চলছিল। তারপর কোথা থেকে একটা অশ্লীল পিরিয়ড চলে এসেছিল। আমাদের ইন্ডাস্ট্রি তখন ফাঁকা মাঠ। কোনও ভাল তারকা নেই। সেই সুযোগে কিছু দুষ্টু লোক ইন্ডাস্ট্রিতে ঢুকে পড়েছিল। তাঁরাই অশ্লীলতাগুলো করত! মান্না ভাই সেই সময় ইন্ডাস্ট্রির অভিভাবক ছিলেন। ওঁর নেতৃত্বে ইন্ডাস্ট্রি ওই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করে। সিনেমা হল রাজকীয় ব্যবসা! সারা বিশ্বে তাঁরাই সিনেমা বানান— যাঁদের প্রচুর অর্থ রয়েছে, সঙ্গে একটা শিল্পী মনও রয়েছে। অনেক নামী প্রযোজকও অশ্লীলতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পেরে ইন্ডাস্ট্রি ছেড়ে দেন। ওই সময়টাতেই ইন্ডাস্ট্রি অনেকটা পিছিয়ে গিয়েছিল। তারপর ইন্ডাস্ট্রিটাকে নতুন করে সাজাতে প্রচুর সময় লেগে গেল। আজকে বাংলাদেশের ইন্ডাস্ট্রি যে অগ্রগতিটা করেছে, সেটা আরও আগে হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু ১৯৯৫-২০০০ সালের সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা যায়নি।

যৌথ প্রযোজনা সম্পর্কে আপনার কী মত?

আরে, যৌথ প্রযোজনা তো মিঠুনদা’র (চক্রবর্তী) সময় থেকেই হয়ে আসছে। সেই সময় ‘অন্যায় অবিচার’এর মতো ছবি হয়েছিল। রাজেশ খন্না, শশী কপূরও ভারত-বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনার ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। মাঝে কিছুটা সময় ব্যাপারটা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এখন আবার যৌথ প্রযোজনা শুরু হয়েছে। এপার বাংলা-ওপার বাংলা দু’টো দেশ হতে পারে, কিন্তু আমাদের সংস্কৃতি তো একই! আমাদের রুচিবোধও এক। যেদিকে ব্যাপারটা এগোচ্ছে, সেটা ভালর দিকেই!

কেরিয়ারে এত সাফল্য পেয়েও মাটির এত কাছাকাছি থাকেন কীভাবে?

আমি কীভাবে এতটা সাফল্য পেলাম, সেটাই মাঝে মধ্যে বুঝতে পারি না। আমি সেই মানুষগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞ, যাঁরা আমাকে ভালবাসেন। কিছুদিন আগেই খুব খারাপ সময় এসেছিল আমার জীবনে। কিন্তু ওই মানুষগুলোর ভালবাসা কখনও কমেনি। জীবনে তো কম কিছু দেখলাম না। কিন্তু খারাপ সময় আমাকে ছুঁতেও পারেনি। কেন জানেন? ওই মানুষগুলোর নিঃস্বার্থ ভালবাসা! ওঁরাই আমার জীবনের সব কিছু। ইন্ডাস্ট্রিতে আমার শত্রু যাঁরা রয়েছে, তাঁরা হয়তো ভেবেছেন— শাকিব খানের অধ্যায় এবার শেষ! কিন্তু শেষ তো হই-ইনি, বরং নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছি। এটাই তো আল্লাহ্‌র রহমত! খারাপ সময়েই কাছের মানুষকে চেনা যায়।

তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে যে সংবাদমাধ্যমে এত কাটাছেঁড়া হয়, খারাপ লাগে না?

(জানলা দিয়ে দূরের দিকে তাকিয়ে) ইট্‌’স পার্ট অফ লাইফ! মানুষ আমাদের ভালবাসেন। সেই কারণেই আমাদের সম্পর্কে তাঁদের এত আগ্রহ। ভালাবাসা থেকেই আসে ব্যাপারটা। খারাপ লাগে না তা নয়, কিন্তু ঠিক আছে…!

অতিরিক্ত আগ্রহ তো কারও বিরক্তি বা যন্ত্রণার কারণও হতে পারে!

যন্ত্রণা তো হয়ই! ভালর চেয়ে আমার সম্পর্কে খারাপ খবর আরও বেশি ছড়াবে— এটা আমি মন থেকে মেনে নিয়েছি। স্টার হলে একটা কালো ছায়া পিছু ধাওয়া করবেই। এটাই নিয়ম! এই কালো ছায়ার কাজ হল স্টারকে বেইজ্জত করা। আমি এগুলো গায়ে মাখি না। কারণ, জীবনে সবচেয়ে খারাপটা আমি দেখে ফেলেছি। তাই নতুন করে আর কিছু দেখার নেই! জীবনে খারাপ মুহূর্ত আসারও সুবিধা আছে। এগুলো পরিণত করে তোলে। জীবনে প্রতিটা খারাপ মুহূর্তে আমাদের একটা করে শিক্ষা দিয়ে যায়।

প্রিয় তারকার পান থেকে চুন খসলে বাংলাদেশের মানুষ সোশ্যাল সাইটে তাঁকে তুলোধোনা করেন। অশালীন শব্দও বাদ যায় না। এটা কেন হয় বলুন তো?

ভাল-মন্দ তো সব জায়গাতেই রয়েছে। দুষ্টুলোকেদের কাজই তো খারাপ কাজ করা। আমার মনে হয়— তাদের পিছনে সময় না দিয়ে, ভাল মানুষদের নিয়ে আলোচনা করাই শ্রেয়!

বাংলাদেশের মুক্তমনা ব্লগার হত্যার সঙ্গেও কি দুষ্টুলোকেদের প্রসঙ্গটা জড়িয়ে রয়েছে?

এই ব্যাপারটাকে আমি কোনও অবস্থাতেই সমর্থন করি না। আমাদের দেশের সরকার এই ব্যাপাটায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এমন ঘটনা ঘটলে আমাদের প্রধানমন্ত্রী নিজে ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। বা নিজে খোঁজখবর নিচ্ছেন। যত দ্রুত সম্ভব ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। ব্যাপারটা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

 

 

পেইজ থ্রি ডেস্ক।।

ভারতে আগামী পয়লা বৈশাখে মুক্তি পেতে চলেছে জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় শুভশ্রী-শাকিব জুটির ছবি ‘চালবাজ’। বিয়ের পর এটাই শুভশ্রীর প্রথম ছবি। এই নিয়ে শুভশ্রী কথা বলেছিলেন কলকাতার আনন্দবাজারের সাথে। পেইজ থ্রি এর পাঠকের জন্য চালবাজ নিয়ে শুভ্রশ্রীর সে ভাবনা প্রকাশ করা হল।

‘চালবাজ’ তো কর্মাশিয়াল ছবি।

শুভশ্রী: আমার কাছে ছবির দু’টো ডেফিনেশন। ভাল আর খারাপ। সব ছবিই টাকা কামায়। কমার্শিয়াল হওয়ার জন্যই সিনেমা হলে আসে। আমাদের জন্য সবটাই এক। ক্যামেরার সামনে অভিনয়। যে চরিত্র পাই সেটা ফুটিয়ে তোলা। ফলে বলতে পারেন, এটা একটা ভাল ছবি।

এই ভাল ছবির গল্পটা কেমন?

শুভশ্রী: গল্পটা বেসিক্যালি রমকম। রোম্যান্টিক, কমেডি, অ্যাকশন সব কিছু নিয়েই ফুল এন্টারটেনমেন্ট প্যাকেজ।

আর আপনার চরিত্র?

শুভশ্রী: আমার চরিত্রের নাম শ্রীজাতা। সে হাইলি অ্যাম্বিশাস। পড়াশোনার তাগিদে লন্ডনে একটা ছেলের সঙ্গে পরিচয় হয়। ভায়া ফেসবুক। বিয়ের দিনই শ্রীজাতা পালিয়ে যায় ছেলেটার ভরসাতে। কেমব্রিজ থেকে পিএইচডি করতে চায়। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখে ছেলেটা একেবারেই জালি। তার পর হিরো অর্থাত্ শাকিবের সঙ্গে পরিচয় হয়। এর পর কোনও একটা কারণে মেয়েটিকে ভারতে ফিরতে হয়, উইথ শাকিব। নানা রকম টার্নস অ্যান্ড টুইস্ট শুরু হয় ভারতে আসার পর। যেটা দেখতে হলে যেতে হবে।

‘নবাব’-এর পর ফের শাকিবের সঙ্গে কাজ করলেন। আপনাদের কেমিস্ট্রি এ বার দর্শকদের নতুন কী দেবে?

শুভশ্রী: গল্পটা চেঞ্জ হলেই কেমিস্ট্রিতে নতুন অ্যাঙ্গেল আসে। ‘নবাব’ ডিফারেন্ট জনারের ছবি ছিল। এই ছবিতে দু’জনের ক্যারেক্টার বদলে গিয়েছে। ফলে কেমিস্ট্রিও বদলে গিয়েছে।

আচ্ছা, আপনার দেখা সেরা ‘চালবাজ’ কে?

শুভশ্রী: দেখুন, আমি চালবাজ হিসেবে কাউকে দেখি না। আসলে নেগেটিভ ওয়েতে কাউকে দেখতে পছন্দ করি না। কেউ যদি চালবাজি করেও সেটাকেও ইগনোর করি।

নিজে কখনও চালবাজি করেছেন?

শুভশ্রী: মজা করে হয়তো অনেক চালবাজি করেছি। কিন্তু অন আ সিরিয়াস নোট আই ডোন্ট লাইক চালবাজি। আমি খুব স্ট্রেট ফরোয়ার্ড গার্ল। কাউকে খুন করতে চাইলে মুখের ওপর বলে দেব। আমাকেও কেউ খুন করতে চাইলে মুখের ওপর বললে খুশি হব। আমি বরং বলব, গো ফর ইট।

 

 

 

ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খান। কলকাতায়ও তাঁর জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। আজ (২১ মার্চ) কলকাতার প্রভাবশালী পত্রিকা আনন্দবাজারে প্রকাশিত শাকিব খানের সাক্ষাৎকারটি পেইজ থ্রি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো…

প্র: কলকাতা কেমন লাগছে?

উ: আমার তো কখনও আলাদা মনেই হয় না। মহিষাদলে যখন শুট করতে গেলাম, ওখানেও তো অনেক রাজবাড়ি আছে, তখনই আমার সঙ্গের লোকেদের বলেছিলাম যে, বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের কোনও পার্থক্য ধরা পড়ে না আমার চোখে।

প্র: দুই দেশ তো একই ছিল…

উ: সবই তো এক। ভাষা এক, কৃষ্টি-কালচার এক…ওখানেও পহেলা বৈশাখ হয়, এখানেও হয় (হাসি)।

প্র: আপনাদের ওখানে তো পয়লা বৈশাখ খুব বড় করে হয়। এ বছর আপনার কী প্ল্যান?

উ: ঢাকায় থাকব না তো। ‘ভাইজান’-এর শুটিংয়ে লন্ডনে যাব। গত দু’-তিন বছর ধরেই এ রকম চলছে…এই সময়টায় আউটডোরগুলো পড়ছে। তবে পহেলা বৈশাখের সৌন্দর্য দেখতে হলে বাংলাদেশেই যাওয়া উচিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার স্টুডেন্টরা আলপনা সাজায় রাস্তায় রাস্তায়…আনবিলিভেবল!

(‘ভাইজান’-এর পোস্টার শুটের মাঝেই ছেলে আব্রাহাম খান জয়কে নিয়ে এসেছিলেন শাকিবের প্রাক্তন স্ত্রী অপু বিশ্বাস। বছর দুইয়ের় সুপারকিউট আব্রাহামকে নিয়ে মেতে উঠলেন শ্রাবন্তী, পায়েল, হিমাংশু ধানুকা-সহ সেটের সকলেই!)

প্র: ছেলে তো খুব ছোট। আপনি এত আউটডোরে থাকেন, ও আপনাকে মিস করে না?

উ: করে তো বটেই। আমিও ভীষণ মিস করি। কিন্তু কী করব। কাজ তো করতেই হবে…

প্র: আপনাদের দেখে কিন্তু বিচ্ছেদের কোনও তিক্ততা নজরে এল না…

উ: সম্পর্ক থাক আর না থাক, অপু বিশ্বাস আব্রাহামের মা আর আমি ওর বাবা। ছেলের জন্য হলেও আমাদের দেখা হয়েই যায়। আসলে ওরা শিলিগুড়ি যাবে, একটা মানত ছিল, সেই কারণে। যাওয়ার পথে আমিই বললাম দেখা করে যেতে। অনেক দিন দেখিনি ছেলেকে, তাই।

প্র: বাংলার সুপারস্টার অর্থাৎ, প্রসেনজিৎ, দেব, জিৎদের মাঝেও ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছেন আপনি। কোথাও একটা টেক্কা দেওয়ার মনোভাব রয়েছে কি?

উ: আমি এ ভাবে দেখি না। কো-প্রোডাকশনে কাজ করার ব্যাপারটা কিন্তু আজকের নয়। মিঠুনদা যখন ইয়ং সুপারস্টার ছিলেন, তখন ‘অন্যায় অবিচার’ করেছিলেন কো-প্রোডাকশনে। বাংলাদেশের সঙ্গে তো মুম্বইয়েরও যৌথ প্রযোজনা হয়েছে। গ্লোবালাইজেশনের যুগে আন্তর্জাতিক জায়গায় নিজেদের নিয়ে যেতে চাইলে বড় বাজেটের দরকার হয়। একা করতে গেলে অনেকটা ঝুঁকির ব্যাপার থাকে। দুই দেশ এক হলে তখন মার্কেটটা বড় হয়। ওভারসিজ মার্কেটটাও ধরা যায়।

প্র: দেব বা জিতের সঙ্গে আপনার দেখা হয় বা কথা হয়?

উ: হ্যাঁ, হ্যাঁ! যখন ওদেশের আর্টিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ছিলাম, তখন এক বার ওঁরা সবাই গিয়েছিলেন। বুম্বাদা…জিৎ… তখন ভাল করে আলাপ হল। তার পরেও দু’বার দেখা হয়েছে।

প্র: পয়লা বৈশাখে এখানে ‘কবীর’ আসছে। ক’দিন পরেই ‘দৃষ্টিকোণ’। ‘চালবাজ’ কতটা চাপে থাকবে?

উ: ভারতে তো অনেক ভাষায় অনেক রকম ছবি হয়। অন্য ছবি রিলিজ করতেই পারে। দর্শকের যেটা ভাল লাগবে, সেটাই তো তাঁরা দেখবেন।

প্র: কমার্শিয়াল ছবির কাজই করছেন। অন্য ধারার ছবি নিয়ে কিছু ভাবছেন না?

উ: অবশ্যই! এখন থেকে ঠিক করেছি এত ছবি করব না। হাতে গোনা ভাল প্রজেক্টই করব।

অন্তরা মজুমদার, আনন্দবাজার

দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ভারতেও সমান জনপ্রিয় ব্যান্ডশিল্পী জেমস। ভ্যালেন্টাইন্স ডে উপলক্ষে কলকাতায় একটি কনসার্টে অংশ নিয়েছেন জেমস। কলকাতার প্রভাবশালী পত্রিকায় আনন্দবাজারের মুখোমুখি হয়েছিলেন নগরবাউল। সাক্ষাৎকারের অংশটুকু ডেইলি পেজ থ্রি’র পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

২০১৮-তে নতুন কোনও অ্যালবাম মুক্তির পরিকল্পনা আছে?

নতুন গান তৈরির কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে এখন শোয়ের চাপে নতুন গান তৈরির কাজে তেমন একটা সময় দিতে পারছি না। এই বছর বেশ কয়েকটি গান মুক্তি পাবে, অ্যালবাম নয়। এখন আর অ্যালবামের যুগ নেই। মাধ্যমটাই পালটে গিয়েছে।

সিডি থেকে ডিজিটাল মাধ্যমে এই রূপান্তরকে আপনি কীভাবে দেখেন?

এখন গান অনেকটাই অ্যাপকেন্দ্রিক। তার কিছু ভাল দিক থাকলেও গানের মজাটা থাকছে না। তবে ভাল গানের কদর সব সময়ই থাকবে। মান্না দে, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গান তো প্রজন্মের পর প্রজন্ম শুনছে। এখন সমস্যা হল, সারা দুনিয়াতেই ভাল গানের অভাব। শিল্পীকে কর্পোরেট ব্যবস্থা এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে যে, গুণমানে তার প্রভাব পড়ছে। এখান থেকে বেরোতে না পারলে নতুন সৃষ্টি হবে কীভাবে? শিল্পীকে স্বাধীনতা দিতে হবে। ষাটের দশকে কিন্তু মিউজিক মুঘলরা গানের ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করতেন না।

বলিউডে ‘ভিগি ভিগি’, ‘রিশতে’র মতো হিট গানের পরেও আপনাকে আর পাওয়া গেল না কেন?

পেশাদারভাবে কাজটা করতে হলে আমাকে মুম্বাইয়ে থাকতে হতো। আমার পক্ষে সেটা সম্ভব ছিল না। তবে মাঝখানে ভেবেছিলাম, আমার জনপ্রিয় বাংলা গানগুলো হিন্দিতে রিক্রিয়েট করব। সময়ের অভাবে সেটা হচ্ছে না।

টলিউডেও অনুপস্থিতির কারণ কি সেটাই?

এর কোনও নির্দিষ্ট কারণ নেই। অনেক বারই প্রস্তাব পেয়েছি। হয়তো সামনেই কোনও কাজ করতে পারি।

ফারুক মাহফুজ আনাম থেকে জেমস হলেন কীভাবে?

জেমস আমার ডাকনাম। বাবা-মা ওই নামে ডাকতেন। হঠাৎই দেখলাম জেমস নামেই পরিচিতি বাড়তে লাগল। ফারুক ক্রমশ অন্তরালে চলে গেল।

পড়াশোনায় অবহেলার জন্য বাবা নাকি আপনাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলেন?

হ্যাঁ। তার পরেই বোর্ডিংয়ে থাকতে শুরু করি। সেখান থেকেই আমার গানের সফরের শুরু। তবে আক্ষেপ রয়ে গেল, বাবা আমার সাকসেসটা দেখে যেতে পারেননি।

আপনার জীবনকাহিনি তো সিনেমার প্লটও হতে পারে। বোহেমিয়ান জীবনযাত্রা, খ্যাতি, প্রেম, বিচ্ছেদ, আইকন হয়ে ওঠা… জীবনটাকে কীভাবে দেখেন?

(হেসে) সত্যি বলতে, ঘুরে তাকানোর মতো সময় নেই। আরও অনেক কাজ করতে চাই। তবে হ্যাঁ, কোনও একটা সময় নিশ্চয়ই এই চলার পথে একবার ঘুরে দেখব জীবনটাকে। যে জার্নিটা করেছি, চলার পথে স্ট্রাগল ফিরে দেখতে চাই। নাইট ক্লাবে গাইতাম, আবার বিয়ের অনুষ্ঠানেও গাইতে হতো। সবই আনন্দের সঙ্গে করতাম।

শোনা যায়, জেমস খুব বোহেমিয়ান। সেই কারণেই কি প্রথম বিয়েটা ভেঙে গেল?

এসব কথা থাক।

সাফল্যের পাশাপাশি প্রেমও তো এসেছে জীবনে…

প্রেমের কি কোনও শেষ আছে? এখনও অনেক প্রস্তাব পাই (হেসে)।

আপনার সন্তানরা কী করেন?

এক মেয়ে ডালাসে থাকে। আর এক মেয়ে ও ছেলে ঢাকায়। ছেলের ফিল্ম নিয়ে আগ্রহ রয়েছে। ছবি তৈরির চিন্তাভাবনা করছে। আর মেয়ে ম্যাট্রিক দেবে।

পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে?

নিয়মিত হয়ে ওঠে না। অনেকেই বাইরে থাকে। তবে কেউ ঢাকায় এলে তখন কথা হয়।

আপনি তো গোটা দুনিয়া ঘুরে বেড়ান। বাংলাদেশের বাইরে আপনার সবচেয়ে পছন্দের জায়গা কোনটা?

সত্যি বলব? আপনি হয়তো বলবেন, ক্লিশে উত্তর। কিন্তু সত্যিই কলকাতা আমার খুব প্রিয় শহর। এখানে সবাই বাংলায় কথা বলে, এটাই খুব ভাল লাগে। নিউইয়র্কও বেশ পছন্দের।

দেশ বিদেশে ঘুরে বেড়ানোর কারণেই কি ফোটোগ্রাফির নেশায় পড়লেন?

আমার এক ফোটোগ্রাফার বন্ধুই এই ভূত চাপিয়েছে। ও বলেছিল, ‘তুমি তো সারা বিশ্ব ঘুরে বেড়াও। নানা জায়গার ছবি তুলতে পারো তো।’ সেই শুরু… তবে এখন সেই নেশায় একটু ভাটা পড়েছে। নিজের শো নিয়ে খুব ব্যস্ত। এই তো, কলকাতাতেও তো কনসার্টের জন্যই এসেছি।

এত ব্যস্ততার মাঝে অবসর সময় কাটান কী ভাবে?

বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে আড্ডা দিই। গান শুনতেও ভাল লাগে। মার্লে, জিম মরিসনের গান খুব প্রিয়।

নুসরাত ফারিয়া। দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী। বাংলাদেশের পাশাপাশি কলকাতার জনপ্রিয় তারকাদের বিপরীতে অভিনয় করেছেন এই অভিনেত্রী। সম্প্রতি কলকাতায় মুক্তি পেয়েছে অশোক পাতি পরিচালিত ‘ইন্সপেক্টর নটিকে’ ছবিটি। এতে জিতের বিপরীতে অভিনয় করেছেন ফারিয়া।  এই ছবি ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে   ডেইলি পেইজ থ্রি’র সঙ্গে  কথা বলেছেন তিনি। লিখেছেন কলকাতা প্রতিনিধি ববি চক্রবর্তী

 

অনেক বাংলা ছবিতে অভিনয় করলেন। কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

কলকাতায় এই নিয়ে পাঁচ নম্বর ছবি রিলিজ  হয়েছে। এখানকার দর্শক খুব ভালো। আমার তো মনে হয়, আমার ফ্যান ফলোয়ারও তৈরি হয়েছে। দর্শক আমাকে পছন্দ করছেন। তবে সবটাই গণমাধ্যেমের জন্য।

বাণিজ্যিক বাংলা ছবি তো হল। অন্যধারার ছবিতে অভিনয় করতে চান?

আমি যে কোন চরিত্রে কাজ করতে রাজি।  আমার কাছে  অফার আসতে হবে। তবে এখন আমি যা পাচ্ছি তাতেই খুশি। আমার কোনও তাড়া নেই।  সময়তো আছে। তাছাড়া আমি না খুব ফিল্মি। ওই হার্ড কোর বাণিজ্যিক ছবি যেখানে লার্জার দ্যান লাইফ চরিত্র থাকে সেগুলোতে অভিনয় করে বেশি এনজয় করি। তবে অন্য ধরনের কাজ ও করব।

আপনি ছাড়াও বাংলাদেশের অনেক অভিনেত্রী এখানে কাজ করছেন?

আমি সত্যি খুব গর্বিত যাঁরা ওখান থেকে এখানে বা এখান থেকে ওখানে গিয়ে কাজ করছে। আমার তরফ থেকে শুভেচ্ছা রইল।  তাছাড়া এইভাবে কাজ করলেই দুই দেশের মেলবন্ধন তৈরি হবে। কাজের মার্কেট অনেক বাড়বে। শিল্পী তথা কলাকুশলীরা সব থেকে বেশি উপকার পাবেন।

আবার জিৎ-এর সঙ্গে অভিনয়। কেমন অভিজ্ঞতা?

আমার আর জিতদার রসায়ন চমৎকার। কাজের বাইরে আমাদের দারুন বন্ধুত্ব।  জিতদা এত বড় স্টার তবে সেটে আমি কখনও  তেমন কোনও স্টার সুলভ  আচরণ করতে দেখিনি।  আমাকে খুব হেল্প করেন। শুটিং চলাকালীন আমাদের রীতিমতো মাতিয়ে রাখেন।

ইন্সপেক্টর  নটিকে  কেমন চলছে?

নটি কের সাড়া বেশ ভালো পেয়েছি। এতটা হবে ভাবিনি। বাংলাদেশেও ভালোই ব্যবসা করবে বলেই আশা করছি। বাংলাদেশে ছবিটি পরিবেশনার দায়িত্বে রয়েছে জাজ মাল্টিমিডিয়া।

আগামী ছবি?

নতুন ছবি নিয়ে এখনও কিছু বলতে পারছি না। ফাইনাল হলেই  জানতে পারবেন। অফার  যে নেই সেটা ভাবলে ভুল হবে। কলকাতা হোক বা  বলিউড বা বাংলাদেশ সব ক্ষেত্রেই কাজের ডাক আসছে।  তবে যতক্ষণ না ফাইনাল হচ্ছে কিছু বলতে চাই না।

 জিত-এর পরের ছবিতেও অভিনয় করছেন?

আমি আছি কিনা জানি না তবে হলে কিন্তু ভীষণ খুশি হব।

এসভিএফ (শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মস)-এর সঙ্গে কাজ করছেন না কেন?

তারা আমাকে নিয়ে কেন কাজ করছেন না, সেটা আমি জানি না। সঠিক  উত্তর দিতে পারবে এসভিএফ। আমার তরফ থেকে কোনও সমস্যা নেই। কাজ করতে আপত্তি নেই। সবার সঙ্গে কাজ করতে পারাটাও ভালো। এমনকি জাজ মাল্টিমিডিয়া আমাকে এই ব্যাপারে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন।

ছবি: বাবান মুখার্জি

আপনি পি আর করেন?

আমি মনে করি, ভালো কাজ করতে পারলে অফার নিজে থেকে আসবে। আমি এখনও এইভাবেই ভালো আছি। তাছাড়া আমার পিআর এর ব্যাপারে আজিজ ভাই পুরোটা  হ্যান্ডেল করছেন।

কলকাতায় এসে এখানকার বাংলা ছবি দেখেছেন?

আমি কলকাতার সিনেমা দেখিনি। দেখতে চাই। তবে সব সময় সুযোগ হযে ওঠে না।

অভিনয় নিয়ে আপনার অভিজ্ঞতা কেমন?

আমি এই ব্যাপারে খুব লাকি। কেউ শিখে আসে আবার কেউ কাজ করতে করতে শেখে। আমি দ্বিতীয় সারিতে আছি। আমি  নিজেকে কাদামাটির মতো মনে করি। চাইলে যখন  যে কোন আকার ধারণ করতে পারি। তবে আমার সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। আমি  ছবিতে কাজ করার সময় আমার  সহশিল্পী ও পরিচালকদের অনেক সহযোগিতা পেয়েছি।  তাছাড়া আমি কচ্ছপের মতো চলতে চাই। মাসে একটা ছবি করবো কিন্তু ভালোভাবে করব এইভাবেই এগোচ্ছি।

এখন তো যৌথ প্রযোজনায় ছবি হচ্ছে। আপনার প্রতিক্রিয়া?

আমি খুব খুশি যে ইন্দো বাংলা ছবির বাজার খুলে যাওয়াতে।  আমাদের খুব ভালো হয়েছে। আমার প্রথম ছবি ‘আশিকি’ ছিল যৌথ প্রযোজনার ছবি। আমি চাই এইভাবে যত বেশি করে ছবি মুক্তি পাবে তাতেই সকলের মঙ্গল হবে।

আপনার প্রিয় নায়ক পরিচালক যাদের সঙ্গে কাজ করতে চাইবেন?

প্রিয় পরিচালক বা নায়ক  বলে আলাদা কেউ নেই। অনেকের সঙ্গেই কাজ করতে চাই। বাংলায় যারা আছেন সবাই। তাঁরা এত বড়মাপের যে আমার তাদের বাছাই করার ক্ষমতা নেই। বরং সেটা তাদের হাতেই ছাড়লাম। (হেসে)

কলকাতায় সেটেল করার প্ল্যান করছেন?

কলকাতায় সেটেল হওয়ার কোনও প্ল্যান নেই। বাড়ি থেকে মেনে নেবে না। তাছাড়া আমি এল এল বি পড়ছি।

আরো পড়ুন:

শাকিব চমৎকার মনের মানুষ : রজতাভ দত্ত (ভিডিও)

সৃজিত মুখার্জির সঙ্গে প্রেম নিয়ে যা বললেন জয়া

নায়িকা পরিবর্তন, সাথে ছবির নাম

স্টার জলসার ‘বধূবরণ’ সিরিয়ালের পর বড় ব্রেক নিয়ে আবার টিভি পর্দায় ফিরে এলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী প্রমিতা চক্রবর্তী।  ‘সাত ভাই চম্পা’ ধারাবাহিকে পারুলের  চরিত্রে দেখা যাবে তাকে।  অভিনয় ও অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেছেন প্রমিতা।  সঙ্গে ছিলেন কলকাতা প্রতিনিধি ববি চক্রবর্তী

 

অভিনয়ে আসা কিভাবে?

ছোট বেলায় নাচ শিখতাম।  আমি চার বছর বয়স থেকে নাচ শিখছি।  অনেক কমপিটিশন জিতেছিলাম। তারপরে পড়ে গিয়ে পায়ে চোট পেলাম।  নাচ বন্ধ হয়ে গেল। তারপরে বাবার  ( প্রমথ চক্রবর্তী ) চেষ্টায় নান্দিকারে অ্যাক্টিংয়ের ওয়ার্কশপ করেছি।  উর্মিমালা বসুর কাছে ট্রেনিং নিয়েছিলাম।

তারপর?

প্রথম অভিনয় করি জি বাংলারই ‘অগ্নি পরীক্ষা’ সিরিয়ালে।  তারপর আবার সেই জি বাংলা চ্যানেলেরই ধারাবাহিক  ‘রাশি’।  তবে সেই দুটো সিরিয়ালে সেকেন্ড লিড করেছিলাম।  তারপরে বড় ব্রেক পেলাম স্টার জলসার ‘বধূবরণ’ ধারাবাহিকে।  আবার জি’র ঘরে ফিরে এলাম।  সৌজন্যে সাত ভাই চম্পা।

প্রথমবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে নার্ভাস ছিলেন?

প্রথমবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে একটু টেনশন ছিল। তবে আমি পরিচালকের ওপরে পুরো ভরসা করেছিলাম।

বধূবরণ-এর পরের ব্রেকটা কিভাবে কাটালেন?

২০১৭ সালের জানুযারিতে বধূবরণ শেষ হল। নয়-মাসের গ্যাপে নিজেকে অনেকটা ধারালো করার চেষ্টা করেছিলাম। অভিনেত্রী দামিনি বসুর (বেনিদি) কাছে অভিনয়ে তিনটে ওয়ার্কশপ করেছি। তখন বধূবরণ সিরিয়ালের কণক চরিত্রের হ্যাংওভার ছিল। সেটা কাটাতেই এই ওয়ার্কশপ করি।

পারুলের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন?

আলাদা করে কিছু করিনি। আমার আগের ট্রেনিংটা কাজে লেগেছে। তবে রাজকুমারীর চরিত্রের জন্য ঘোড়ায় চড়া শিখেছি। জলে নিজে নৌকা চালিয়েছি। আসলে রাজকুমারী যদি ঘোড়া ছোটাতে না পারে তবে চরিত্রটা দর্শক গ্রহণ করবেন না। এছাড়া  চ্যানেল থেকে আমাদের একটা ব্রিফিং দেওয়া হয়েছিল। আসলে  গল্পটা সকলের জানা। তাও চ্যানেলের কর্তারা আমাকে ভালো করে ব্রিফ দিয়েছিলেন।

কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?

সত্যি বলতে, বধূ বরণ-এ  এত বছর কাজ করার পরেও যখন এই নতুন সিরিয়ালে শুটিং শুরু করলাম একটু চাপা টেনশন ছিল। তবে আমার মনে হয়, ভালো কাজ করতে গেলে একটু টেনশনে থাকা ভালো। তাতে অনেক বেশি মজা করে কাজ করা যায়। তবে সেটা গোড়া থেকেই পজেটিভ থাকে। সাত ভাই চম্পা সিরিয়াল শুরুর আগে যখন থেকে টেলিভিশনে প্রোমো দেখানো শুরু হয়েছিল  সেই দিন থেকেই আমি দুর্দান্ত সাড়া পেয়েছি।

পর্দার পারুল কি আলাদা?

ভিজ্যুয়ালি চরিত্রে খানিকটা পরিবর্তন হয়েছে। আমরা দর্শকদের মনোরঞ্জনের জন্য আট থেকে আশির দর্শকদের ধরে রাখতে অনেক  চেষ্টা করছি। এর বেশি বলব না। বাকিটা দর্শক টেলিভিশনে দেখেই বিচার করুন।

আপনি বাস্তবে কেমন?

আমি পারুলের মতো হাসিখুশি স্বভাবের। আর  কণকের মতো স্পষ্টবাদী।

সিরিয়ালের কাজের ফাঁকে ছবির অফার পেয়েছিলেন?

বধূবরণ-এর পরে একটা ছবির কথাবার্তা হয়েছিল। কিন্তু ফাইনালি হয়নি। এখন ভাবছি ভালোই হয়েছে। নাহলে সাত ভাই চম্পার মতো বিগ প্রজেক্টের সঙ্গে জুড়তে পারতাম না।

ডেইলি সোপের প্রভাব ব্যাক্তিগত জীবনে পরেছে কি?

এখন আমার জীবনের দুটোই লক্ষ্য। আমার বাবা- মা ও অভিনয়। তাই এই দুটোকে চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সব প্রতিকূলতা সামলে নিচ্ছি।

বাবার প্রতিক্রিয়া কেমন?

আমার বাবা খুব খুশি। আমার কাছে ধারাবাহিকে এইভাবে সুযোগ পাওয়াটা  হাতে চাঁদ পাওয়ার মতো। এখন মনে হচ্ছে, আমি বাবার গাইড লাইন মেনে চলে ভুল করিনি।

আরো পড়ুন: সমাজসেবা করার জন্য রাজনীতি করার দরকার নেই : মীর আফসার আলি

মীর আফসার আলি ।  একজন রেডিও জকি এবং উপস্থাপক।  ভারতীয় বাংলা গণমাধ্যমের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। ব্যস্ততার জন্য বেশ কয়েকটি ইন্টারভিউয়ের শিডিউল বাতিল করলেন।  অবশেষে নিজেই ডেকে নিলেন।  সকাল সাড়ে দশটায় রেডিও মির্চির অফিসে হাজির হলাম।  গরম কফিতে চুমুক দিতে দিতে মীরের সঙ্গে আড্ডা জমে উঠলো।  বিস্তারিত লিখেছেন কলকাতা প্রতিনিধি ববি চক্রবর্তী

এখন কি সিনেমার কাজে বাড়তি ফোকাস করছেন?
সেটা ঠিক। আসলে রেডিওতে অনেক বছর কাজ করছি। টেলিভিশন থেকে অ্যাঙ্কারিং সবই হল। এবার চাইছি এর বাইরেও বেশ কিছু অন্যধারার ছবিতে কাজ করতে। তবে শেষ তিন বছর ধরে সেটা বাড়িয়েছি। আগে অবশ্য সেটা হতো না। টেলিভিশনের কাজে অনেক বেশি মেতে ছিলাম। তাই খুব বেছে বেছে ছবিতে অভিনয় করেছি। অনেক ছবির কাজ ফিরিয়ে দিয়েছি। আমার বড়পর্দায় প্রথম আসা অঞ্জন দত্তের ‘দ্য বং কানেকশন’ (২০০৬) দিয়ে।

নতুন ছবির কাজ?
শত্রাজিত্ সেন-এর মাইকেল আসছে।অরিন্দম শীলের ‘আবার শবর’ ছবিতে আমি একটা ছোট চরিত্র করছি তবে খুব ইন্টারেস্টিং। আবার বসন্ত বিলাপ ছবির শুটিং শুরু হচ্ছে। পরিচালক রাজেশ ও ইপ্সিতা।

রেডিও, টেলিভিশন, গান, অভিনয় এতগুলো দায়িত্ব সামলান। কখনও হাফিয়ে ওঠেন?
শারীরিক ভাবে ক্লান্ত হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে মনের দিক দিকে সবসময চাঙ্গা থাকি। এই প্রসঙ্গে একটা কথা বলতে চাই। আমি কখনই এই কাজগুলো পেশা বলে ভাবিনা। বরং নিজের প্যাশন বলতে চাই। তাই এখনও পর্যন্ত হাফিয়ে ওঠার সময় আসেনি। যেদিন আসবে সেদিন হয়ত সবকিছুই ছেড়ে দেব।

আপনার মানসিক ফিটনেসের রহস্য কি?
সব সময় পজেটিভ থাকি। নিজেকে হ্যাপি রাখি। নেগেটিভিটি কখনই নিজের কাছে আসতে দিই না। আমার ধারণা, যদি আপনি এইভাবে জীবনটা কাটাতে চান তাহলে কিন্তু এমনিতেই ফিট থাকবেন। তার জন্য আলাদা কিছু করতে হবে না।

কিন্তু পেশা ও পরিবারকে ব্যালেন্স করতে গিয়ে কখনই সমস্যা হয়নি?
সেটা সবারই হয়। আমি তো সাধারণ মানুষ। তাদের থেকে আলাদা নই। তবে কাজ আর পরিবারকে ব্যালেন্স করার চেষ্টা করি। তবে ক্ল্যাশ তো করতেই পারে। পরিবারের সঙ্গে সিনেমা দেখতে যাওয়ার প্ল্যান করেও অনেকবার বাতিল হয়েছে। আমার বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধুর বিয়ে ছিল। কাজের তাড়ায় যেতে পারিনি। অভিনেত্রী পাওলির বিয়ে ছিল। সুব্রত ভট্টাচার্য্যের মেয়ে সোনমের বিয়ে ছিল। কোনওটাতেই যাওয়া হয়নি। শুধু তাই নয়, আমি তাদের সরি বলে জানাতেও পারিনি। তবে আমার ধারণা, ওরা আমার পরিস্থিতি বুঝতে পেরেছে।

৯৪ সালে রেডিও দিয়ে পথ চলা। সেখান থেকে ২০১৭তে এসে ফিরে দেখতে মন চায়?
আমি খুব খুশি। যা পেয়েছি বা করেছি সেটা আমার কাছে বড় প্রাপ্য। আমি কিন্তু সবার প্রথম নিজেকে জাজ করি। রোজ সকালে উঠে আয়নার কাছে দাঁড়িয়ে একটাই প্রশ্ন করি, আমি কি নিজের কাজটা ঠিক মতো করতে পারছি। দর্শককে ঠিক মতো এন্টারটেইন করতে পারছি। সেই শক্তিটা আমার মধ্যে থাকছে তো। সবই পজেটিভ উত্তর পাই। যেদিন মনে হবে, পারছি না সব কিছু ছেড়ে দেব। আমি ভালোবেসে এই কাজগুলোকে গ্রহণ করেছি। তাই চট করে বোর হই না। আমি রেডিও মির্চির সঙ্গে তেইশ বছর ধরে যুক্ত আছি।অনেক অন্য কোম্পানির থেকেও অফার পেয়েছি তবে যাইনি। আমার একটা অদ্ভুত ফান্ডা আছে। আমি পুরনো মানুষ ও পুরনো জিনিস বদলায়নি।

পলিটিক্স-এ ডাক পেয়েছেন?
আপনি আমাকে আগে বলুন তো, একজন মানুষ কেন রাজনীতিতে যোগ দেন? আচ্ছা, উত্তরটা আমি দিচ্ছি। অনেকেই বলেন, আমি সমাজ সেবা করতে চাই তাই রাজনীতিতে এলাম। এবার তাদের কাছেই আমার প্রশ্ন, দাদা, সমাজ সেবা করার জন্য রাজনীতির লেবেলের কোনও দরকার নেই। যাঁরা বলেন বা ভাবেন আমি তাদের দলে পড়ি না। তাই আমি রাজনীতি নিয়ে এই মুহুর্তে ভাবছি না। তবে ভবিষ্যতের কথা কেউ বলতে পারে না। হতেও পারে। কিন্তু একটা কথা বলব, আমি রাজনীতিতে গেলেও সমাজসেবা করার জন্য যাবো না।

ননফিকশন তো অনেক হলো। ফিকশনে আসার কোনও পরিকল্পনা আছে?

টেলিভিশনে আপাতত আমি শুধু মিরাক্কেল করবো।

নতুন যারা রেডিও জকিকে পেশা করতে চান, তাদের কি টিপস দেবেন?
ঘুম ভুলে যাও। যতটুকু না হলেও না শুধু ততটুকুই ঘুমাতে পারবে। আমি বিগত চোদ্দ- পনের বছর সাড়ে তিনঘন্টার বেশি ঘুমতে পারি না। মাটি কামড়ে পড়ে থাকতে হবে। হাল ছাড়লে চলবে না। ডেইলি নিউজ নিয়ে আপডেট থাকতে হবে। সব সময় রেডিও নিয়ে ভাবতে হবে। আমিও কিন্তু এখনও সেটাই করি। হয়ত কোনও অনুষ্ঠান বাড়িতে গেছি। সেখানে গিয়ে আমার মাথায় কিন্তু রেডিও নিয়ে কল্পনা চলে।

আপনার স্ত্রী ও মেয়ে কখনও অভিযোগ করেন?
তেমন কিছু নয়। খুব ক্যাজুয়ালি বলে। তুমি তো আমাদের সঙ্গে আছো তবে থেকেও নেই। এই জাতীয় কথা শুনতে হয়।

পর্দার মীরকে তো সবাই চেনে। তার কোনও অজানা তথ্য আছে কি?
আমি সপ্তাহে একবার বিরিয়ানি খাবোই। সেটা আমার পরিবার জানে। সেটা কোথায় খাবো সেটা ঠিক থাকে না। তবে খাওয়াটা ফাইনাল। কোনও অজুহাতে আমি খেয়েছি।

আপনার যাত্রা নব্বইতে। তখনকার ছেলেরা তো সিনেমার হিরো হওয়ার স্বপ্ন দেখতো। আপনার মাথায় রেডিও এলো কিভাবে?

আমি প্রথমত নেপথ্যে থাকতেই চাইতাম। তবে রেডি ও ভালোবাসতাম। কিন্তু এটা কখনই কাম্য ছিল না যে আমি রেডিওতে আসব। আমার এখানে আসার কারণটা হযত সবাই জানেন। তাও বলছি। এক রাতে লন্ড্রি থেকে কাঁচা কাপড়ের যে পেপারে এসেছিল তাতে নতুন বে-সরকারি রেডিও স্টেশনে অডিশনের বিজ্ঞাপন দেখি। সেটাই ছিল শেষ দিন। তারপরেরটা ইতিহাস। অডিশন দিলাম। এবং সিলেক্ট হযে গেলাম।

অবসরে কি করেন?
অবসরে মেয়ে সঙ্গে সময় কাটাই। আমার ঘুরতে যেতে খুব ভালোলাগে। সেটা হয়ত কাজের সূত্রে গেলাম। কিন্তু সেখানে আবার কাজের চাপ থাকে। তাই রিল্যাক্স হযে কাজটা করা যায না। তাই হাতে খানিকটা সময় পেলেই গাড়ি নিযে বেরিয়ে পড়ি। ঘন্টা তিনেক ঘুরে আসি।

রিয়েলিটি শো নিযে সকলের মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকে। আপনি কোন দলে? আমি অবশ্যই পক্ষে কথা বলব। সাধারণ মানুষ দেখছে বলেই তো রিয়েলিটি শো টিকে আছে। যদি তাঁরা ছুড়ে ফেলতেন তাহলে কি প্রযোজক বা চ্যানেল কর্তারা চালাতেন? আমার খুব অবাক লাগে। যখন বাচ্চাদের ননফিকশন শো নিযে বড়রা কমেন্ট করে। চ্যানেলকে দোষ দেয়। আরে মশাই, যখন বাচ্চার বাবা মায়ের জোর করে তাদের বাচ্চাকে পাঠাচ্ছে তখন চ্যানেল কি করবে?

আপনার চোখে সেরা কমেডিয়ান কে?
আমার চোখে সেরা কমেডিয়ান অনেকেই আছেন। তবে সেরার সেরা যদি বলতে হয় তিনি অমিতাভ বচ্চন। তাঁর সেন্স অফ হিউমার মারাত্মক। সব থেকে বড় কথা, কমেডির ক্ষেত্রে একজন শিল্পীর বড় বিষয় সময়। আমার ধারণা, মিস্টার বচ্চন সেখানে বাকিদের বলে বলে গোল দেন।

আপনি ঋতুপর্ণ ঘোষ, প্রসেনজিত্ চট্টোপাধ্যায, পিসি সরকার ও বাপ্পি লাহিড়ির মিমিক্রি করেন। নিজেও এটা এনজয় করেন?
আমার মিমিক্রি করতে খুব ভালোলাগে। ছোটবেলায় যখন বাড়িতে আত্মীয় পরিজনদের মিমিক্রি করতাম তখন বাড়িতে খুব বকা খেয়েছি। তবে এখন সেটা যখন পেশাগত ক্ষেত্রে পৌছে গেছে তখন এনজয় করি।

তবে এটা নিয়ে অনেক বিতর্কও হয়েছিল।
বিতর্ক হয়নি। একজনের ( ঋতুপর্ণ ঘোষ) পছন্দ হয়নি। তিনি আপত্তি করেছিলেন। তাঁর মনে হয়েছিল এটা বিরক্তিকর। তবে বাকিরা তো কিছু বলেননি। তার মানে বাকিদের ভালো লেগেছে। আর এখনও লাগছে। আসলে মিমিক্রি শিল্পীরা কারওর গলা নকল করে তাকে কখনই অসম্মান করেন না। মিমিক্রি করতে তো শুধু ভোকাল কডের ব্যায়াম করা হয় না। পাশাপাশি সেই শিল্পী যাকে নকল করছেন তাকে কিন্তু মনে মনে নিজের মধ্যে কল্পনাও করে। আর এই কাজটা করাটা দেখতে সহজ মনে হয। তবে আসলে খুব কঠিন । খুব চ্যালেঞ্জিং। তাই তাঁরা প্রচুর সম্মান ও ভালোবাসাও পান।

 দর্শক বা শ্রোতাদের থেকে কেমন সাড়া পান?
এককথায় বললে আমি অভিভূত। কেউ বাড়িতে খেতে নিমন্ত্রণ করেন। অনেকে আবার সেটে মিষ্টি বা বিরিয়ানি নিয়ে আসেন।

অভিনেতা, প্রযোজক এবং ব্যবসায়ী মনোয়ার হোসেন ডিপজল। ১৯৫৮ সালের ১৫ জুন ঢাকার মিরপুরের বাগবারিতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। চলচ্চিত্র পরিচালক মনতাজুর রহমান আকবরের হাত ধরে চলচ্চিত্রে আগমন ঘটে তার। ফাহিম শুটিং স্পট, এশিয়া ও পর্বত সিনেমা হল, জোবেদা ফিল্মস, পর্বত পিকচার্স-২, ডিপজল ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের স্বত্বাধিকারী। তার মুক্তি প্রাপ্ত সবশেষে চলচ্চিত্র ‘দুলাভাই জিন্দাবাদ’। অসুস্থতার কারনে বর্তমানে সাভারের হেমায়েতপুরের বাড়িতে রয়েছেন বিশ্রামে।চলচ্চিত্র ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন নাজমুল আহসান তালুকদার

প্রশ্ন : কেমন আছেন?

ডিপজল : আপনাদের দোয়ায় ভালো আছি। অনেকদিন পর মিডিয়ার সামনে। আপাতত ডাক্তার যেভাবে বলেছে সেভাবে চলছি।

প্রশ্ন :তাহলে কি কাজ করতে পারবেন?

ডিপজল : হ্যাঁ, কাজ করতে পারবো। ডাক্তারের কথা মতো চলছি। ওপেন হার্ট সার্জারি হয়েছিল। আবার ডিসেম্বরের ২৫ তারিখ যাবো।

প্রশ্ন : সিনেমার কাজ?

ডিপজল : নতুন ছবির কাজ জানুয়ারির ৫ তারিখ শুরু করবো। আর একটা পুরাতন ছবি আছে আমার ‘এক কোটি টাকা’। এটার কাজ শেষ করে নতুন ছবির কাজ ধরবো।এটার নাম পাথরের কান্না। মোট চারটা ছবি এখন হাতে রয়েছে। বাহিরের একটা ও নিজের তিনটা।

প্রশ্ন : সিনেমার বর্তমান পরিস্থিতিতে আপনার মতামত কি?

ডিপজল : ফিল্ম কিভাবে চলবে, ফিল্ম কিভাবে আসবে, ফিল্মের দর্শক কিভাবে সিনেমা হলে আসবে এই পরিবেশের সমন্ধে কারো ধারনাই নাই। বর্তমানে যারা ফিল্ম করে তারা কি বুঝে কিবা জানে? টাকা আছে করছে চলে যাচ্ছে। নাটক এক জিনিস ফিল্ম আরেক জিনিস।

প্রশ্ন : আপনাকে সিনেমার মোড়ল হিসাবে আমরা জানি। আপনি নতুনদের এই বিষয়ে উদ্যোগ বা পরিবেশ তৈরি করবেন কিনা?

ডিপজল :আজকাল ব্যাপারটা হইছে কি যার টাকা আছেনা ও সবি বুঝে বাংলাদেশে তার। আমার টাকা আমি সব বুঝি। যারা কাজ করতাছে তারা যদি একটু সিনিয়রের কাছে যায়। না আমার টাকা আছে আমি বুঝি।একটা ছবি করবো গেট দিয়ে বেড়িয়ে যাবো। আর দ্বিতীয় ছবি করার তৌফিক থাকে না। ফিল্ম বুইঝা গেল। ফিল্মতো এতো সহজ না। ফিল্ম একটা কঠিন কায়দা। নাটক দেখলে একটা দেখছেন না আরেকটা দেখছেন। চ্যানেল ঘুড়িয়ে অন্য চ্যানেলে চলে গেলেন। আর ফিল্ম দেখতে হলে একটাই দেখতে হবে। ফিল্ম যারা করতো, বুঝতো তারা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে নাই বললে চলে।

প্রশ্ন : তাই যদি হয় আপনারাও অনেক টাকা আপনি সেরকম কিছু করেন?

ডিপজল : ঐ যে বললাম বাংলাদেশে টাকা থাকতে কেউ আসতে চায় না। টাকা আছে রক্ত গরম। টাকা পয়সা হারাইয়া আসে। যে বুঝে যে জানে তার সাথে ডিসকাস করে নিলে ফিল্মটা বেটার হয়। ছবিটাও চলবে। ছবি কিভাবে চলবে? নাটক বানাইলেতো ছবি চলবে না। নাটক আর ফিল্ম আকাশ পাতাল পার্থক্য। ফিল্ম করতে হলে ফিল্মের মতো করতে হবে ফিল্মের প্যাচ আছে অনেক। যে নতুন টাকা নিয়া আসতাছে ওরতো ধারনাই নাই ফিল্ম সম্পর্কে। টাকা আছে কইরা ফেলল, লস করলো চইলা গেল বাসায়। বাসায় গিয়াও শান্তি পাচ্ছে না। ডিরেক্টরও শান্তি পাচ্ছে না প্রযোজকও শান্তি পাচ্ছে না। ওর একটা লোন থাকে পাওনাদার থাকে। ঐ পাওনাদারতো বাসায় গিয়া খোজ করে ওরে।একটা নায়িকাও ফ্রি হতে পারছে না। ওই নায়িকাও ওখানে আটকাবল।

প্রশ্ন : আপনি বলছেন তরুণরা ফিল্ম না বুঝে আসার কারনে ইন্ডাস্ট্রি পিছিয়ে যাচ্ছে। একটা সময় চলচ্চিত্রে সবাই মিলেমিশে থেকেছেন। এখন এই পরিবারের মাঝে ভাগ হয়েছে। এটা কি কোন কারণ না চলচ্চিত্র পিছিয়ে পড়ার জন্য?

ডিপজল : আগে যদি কক্সবাজার যাইতাম সেখানে যদি দশ গ্রুপ থাকতো দশটা পার্টি হতো। জসীম ভাইরা শুটিং করলে আমাদের ডাকতো। আমরা জসীম ভাইদের ডাকতাম। সিনিয়রদের খুব ইজ্জত করতাম। এই বিষয়টা এখন আর নাই। আমরাই কিছু শিখতে পারি নাই শিখার কোন শেষ নাই। আমরা এখনো কাজ করতে গেলে ডাইরেক্টর দেখলে ইজ্জত দেই সিনিয়র হোক আর জুনিয়র হোক ওর কাজটাই ফলো করি ও কি চাচ্ছে। সে যেটা চাচ্ছে তার চেয়ে বেটার করার চেষ্টা করি। ওরে যদি আমি বলতে যাই তাহলে কাজটা মন মতো করতে পারবে না।

প্রশ্ন : এটাতো পরের বিষয়। এখন যে গ্রুপিং হচ্ছে এটা সামনে থেকে মিটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন না কেন?

ডিপজল : এখন এটা হবে না। কারন সিনেমা হল মালিক হয়ে গেছে এক গ্রুপ। আর ছবির মালিক হয়ে গেছে এক গ্রুপ।ছবির মালিক যদি এক গ্রুপ হয় যারা কলাকুশলী আছে কারাতো পাঠ হয়ে যাচ্ছে। এখন সরকার ঘোষণা দিয়েছে হল গুলো করবে। আমিও ১০০ মেশিন দিব, বলেছি। কিন্তু ওগুলাতো আমার চালানো সম্ভব না। আমার অন্য ব্যবসা বানিজ্য আছে। আমি সিনেমায় অভিনয় করি করবো মরার আগ দিন পর্যন্ত। যদি সুস্থ থাকি। অভিনয় ছাইড়া চইলা যামু এইটা আমি বলতে পারমু না। সরকার হল দিবে বলেছে তাও ছয় মাস হয়ে গেল। সরকার ৫০টা দিলে আমিও ৫০ টা দিব। বাংলদেশে ১০০ সিনেমা হল হইলে ছবি চলা সম্ভব।আর ঝামেলা মিটানোর জন্য একটা উদ্যোগ নেওয়া হইছে। সামনে মিটিং দেখা যাক কি হয়।যদি মাইনা নেয় সবাই তাহলে ভালো হবে সবার।

প্রশ্ন : আপনি বার বার বলেছেন নায়ক -নায়িকার সংকট রয়েছে।

ডিপজল : নায়িকার সংকট সব চেয়ে বেশি। বর্তমানে এক কোটি টাকা লাগে ছবি বানাতে। ৫০ লোন করে। পরে লচ খেয়ে পারছে না যেতে বাসায়। নায়িকা নিয়ে থাকছেন আরেক বাসা বাড়া করে। আরেক ছবি বানাবে। সে ছবির খবর নাই। মেয়ে গুলা বের হতে পারছে না। অনেক ভালো মেয়ে সুন্দর মেয়ে আসছে। কিন্তু এসব বুঝতেছে না। আমার জানামতে এমন মেয়ে প্রায় ২০ বা ২৫ জন আছে। এখন ইন্ডাস্ট্রিতে মেয়েতো নাই। এই লটের সব চেয়ে সুন্দর মেয়ে ছিল পরী। পরীতো নাই, ও আসলে ঘুমাইয়া থাকে। তারে ডাকতে ডাকতে পরিচালকের জান শেষ হয়ে যায়। কেন? যদি ফিল্ম করতে হয় তাহলে মনমানসিকতা থাকতে হবে। শাবনূর, মৌসুমী, পপি, পূর্নিমা, অপু ওদেরতো এই বদনাম নেই। ছেলে আছে অনেক গুলো ওদের নিয়ে দাড়ানো যাবে।বাপ্পী, শুভ, সাইমন ওরা এখন ভালো কাজ করতাছে।

প্রশ্ন : ভারতীয় বাংলা ছবি এসে আমাদের হল গুলোতে প্রভাব বিস্তার করছে এই বিষয়টা কিভাবে দেখেন?

ডিপজল : ভারতে সবগুলো ছবি এখানে চললে আমাদের একটুও ক্ষতি হবে না। খাচ্ছি দাচ্ছি খোকা ঘরে ফিরে যাচ্ছি। ওদের সংস্কৃতি আমাদের সংস্কৃতি এক না। বেদের মেয়ে জোৎস্না ওরা বানাইলে চলবো না। একটা গ্রুপ সিনেমা হল ব্লগ করে রাখছে সিনেমা রিলিজ করতে দেয়না। এটার একটা সমাধান করা উচিত। সরকার বছরে একটা পুরষ্কার দেয় জাতীয় পুরষ্কার সরকারও শেষ। সরকারের যারা এটা নিয়ন্ত্রণ করে তাদের মাথা ঘামাইতে হবে। আমরা ঘামাইলে হইবো না। আমি পারি মিটাইটে কিন্তু ঝগড়াঝাঁটি হবে। কেউ চায় না ঝগড়াঝাঁটি করতে। তথ্যমন্ত্রীর উচিৎ সুন্দর পরিবেশ তৈরি করা। উনিই যদি যান ছবি বানাইতে উল্টো পথে চলবে। আমার একটা ছবি তের বছর ব্যন্ড। অনেক ছবিতো সেন্সর ছাড়াই চলছে। কেন? আমার ছবি সেন্সরে দেন আর বাহিরের ছবি সেন্সর ছাড়া রিলিজ হয়ে যাবে কিভাবে? সম্ভব বাংলাদেশে। ক্ষমতার পূজারি যদি বন্ধ হতো তাহলে সুন্দর পরিবেশ হতো। ভারতের ছবির চেয়ে আমাদের ছবি আগে ভালো চলতো। এখন নাটক ভালো চলে ভারতের শুধু দুই একটা সিরিয়াল চলে। তথ্য মন্ত্রনালয় যদি একটু নজর দিত পরিবেশটা খুব সুন্দর হতো।

প্রশ্ন : আপনার অনেক ক্ষমতা আছে। নতুন প্রোডাকশন হাউজ রয়েছে অনেকে কাজ করছে তারপরও কি মনে হয় আপনাকে কোনঠাসা করে রাখা হয়েছে?

ডিপজল : কোনঠাসা করে রাখা হয়েছে। আমিতো মুখ খুইলা বলতে পারিনা সব। তাওতো মোটামোটি জানে সবাই। তথ্য মন্ত্রনালয় উদ্যোগ নিলে কারো ইন্ধন চলবে না। আমি বলতে গেলে ঝগড়া হবে। আমার হলে ঈদের ছবি রিলিজ করতে দেওয়া হয়নি। আমার হলে কি মেশিন নাই, আছে। সরকার মেশিন বসাবে কোন খবর নাই। সরকার বসাক আমি বসাই চলুক না একশ হল। তখন কমপিটিশন হবে। আমরাতো আন্দোলন করলাম সরকারের টনক নড়াতে পারি নাই। এখন যদি মন্ত্রীরা ছবি বানায়, মন্ত্রীর ছেলেরা ছবি বানায়। বানাক কিন্তু কেন আমাদেরটা সেন্সর দিয়ে আর ওদেরটা সেন্সর না দিয়ে চলবে? এখানে জোর যার মুল্লুক তার।

প্রশ্ন : বর্তমানে আমাদের দেশের শুটিং গুলো দেশের বাহিরে চলে যাচ্ছে এবং বাহিরের লোকজন ওয়ার্ক পারমিট না নিয়ে কাজ করছে এ বিষয়টি আপনি কি ভাবে দেখেন?

ডিপজল : এতে আমাদের টেকনিশিয়ানরা না খেয়ে মরছে। বাহিরে থেকে এসে কাজ করছে আমাদের টেকনিশিয়ানরা মাইর খাচ্ছে। ওরা কি আহামরি কিছু বুঝে? ওরা কিভাবে এসে বাংলাদেশে কাজ করছে? অবশ্যই আমাদের দেশে ভাল ভাল টেকনিশিয়ান আছে। তারা খুবই ফাস্ট কাজও করে দ্রুত।বিদেশ থেকে এসে ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া কাজ করছে এটা সরকারের ব্যর্থতা।

পেইজ থ্রি ডেস্ক।।

`শিল্পী সমিতির কাজ হচ্ছে শিল্পীদের স্বার্থরক্ষা করা। এই সমিতি এটা না করে সমস্যা পাশ কাটিয়ে ফুল দেওয়া ও চামচামিতে ব্যস্ত। আমার কাছে মনে হয়েছে এসব করার দরকার আছে, লিয়াজু মেইনটেইন করার দরকার আছে; কিন্তু সবার আগে দরকার শিল্পীর স্বার্থ রক্ষা করা। এই সমিতির সেটা করছে না।’ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কড়া সমালোচনা করে চিত্রনায়িকা মৌসুমী এসব কথা বলেন।

চলচ্চিত্র ফোরামের উদ্যোগে জন্মদিন উদযাপনের আগে জাজ মাল্টিমিডিয়ায় অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মৌসুমী আরো বলেন, ‘কোনো শিল্পী ভুল করলে তাকে সঠিক পথ দেখানো উচিত সমিতির। তাকে নিয়ে সিনিয়রদের সাথে বসে আলাপ করে সঠিক পথ দেখানো যেতে পারে। কিন্ত সাম্প্রতিক সমস্যাগুলোতে সুন্দর সমাধানের কোনো ব্যবস্থা করেনি শিল্পী সমিতি। যে শিল্পীর কাজ নেই তার কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে না, বরং যারা কাজ করছে তাদের কাজ বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। এতে প্রযোজকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

চলচ্চিত্রে কিছু অশুভ ছায়া গ্রাস করেছে। এই অশুভ ছায়া এ দেশের চলচ্চিত্রের কাজের পরিবেশ নষ্ট করছে। এসব অশুভ ছায়া দূর করতে চলচ্চিত্র ফোরাম গঠন করা হয়েছে।

শিল্পী সমিতি যদি এসব না করতো তাহলে আজ চলচ্চিত্র ফোরামের জন্ম হতো না বলেও দাবি করেন মৌসুমী। তিনি বলেন, ‘শাকিব খান শিল্পী সমিতি থেকে বের হতো না। যা হয়েছে ভালো হয়েছে। এখন কোনো সমিতির সাথে কোনো সমিতির দ্বন্দ্ব নেই। সবাই সবার মতো ভালো কাজ করুক এটাই আমি চাই। আর ফোরামের যে উদ্দেশ্যগুলো আছে সেগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন হবে।

যোগ করে মৌসুমী বলেন, শিল্পী সমিতিকে ছোট করে চলচ্চিত্র ফোরাম কোনো কিছু করবে না। আবার চলচ্চিত্র ফোরামকে ছোট করে যেন শিল্পী সমিতি কিছু না করে এটাই সবসময় চাওয়া।