পেইজ থ্রি ডেস্ক।।

বলিউড সুপারস্টার সালমান খানের ছবি মানেই ২০০ কোটির ক্লাবে প্রবেশ করা। বলিউডের অন্যতম সফল অভিনেতা তিনি। তাঁর অভিনীত সর্বশেষ মুক্তি পাওয়া ‘রেস থ্রি’ও ২০০ কোটির মাইলফলক স্পর্শ করেছে। অভিনয় দক্ষতার পাশাপাশি সালমানের শারীরিক সৌন্দর্যও সমান আলোচিত। প্রশ্ন হতে পারেই সুদর্শন দক্ষ এই অভিনেতা প্রতিদিন তার খাবারের মেনুতে কি থাকে খরচই বা কত?

দুপুরে দক্ষিণ ভারতীয় খাবার খেতে পছন্দ করেন সালমান। বেশীরভাগ সময় তিনি গ্রীল করা মাছের সঙ্গে সালাদ ও সেদ্ধ সবজী খেয়ে থাকেন, যা তাঁর শরীরের চর্বি ঝরাতে সাহায্য করে। এছাড়া সপ্তাহে অন্তত ৪ দিন দুপুরের খাবারে ফলমূল খেয়ে থাকেন সালমান। নিয়মিত শরীরচর্চা ও পরিমিত খাদ্যাভ্যাস তাঁর আকর্ষণীয় শরীরের রহস্য।

সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যমে সালমানের দৈনিক খাবারের তালিকা নিয়ে প্রতিবেদন ছাপানো হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সালমান তাঁর খাদ্য তলিকায় ভাজা-পোড়া এড়িয়ে চলেন। দিন শুরু করেন লেবু ও মধু মিশ্রিত সরবত দিয়ে। সকালের নাশতায় শর্করার সঙ্গে উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার গ্রহণ করেন, যেখানে অন্তত বাদামি রুটির সঙ্গে চারটি ডিম থাকে। প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, রাতের খাবারে সালমান সবসময় মুরগীর মাংস ও সালাদ রাখেন। সঙ্গে থাকে ফলমূল।

সালমানের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র ভারতীয় গণমাধ্যমকে জানায়, প্রতিদিন খাবারের পেছনে সালমানের ৮ হাজার রুপি ব্যয় হয়। তবে সিনেমার মতো খাবার নিয়েও মাঝে মধ্যে পরীক্ষানিরীক্ষা চালান ভাইজান। বিভিন্ন ধরনের খাবার একসঙ্গে মিশিয়ে খান তিনি, যার নাম দিয়েছেন ‘মিক্সার’। এছাড়া ভারতের মোগল ধাঁচের বিরিয়ানি তাঁর ভীষণ পছন্দ।

পেইজ থ্রি ডেস্ক।।
গীতিকার, সুরকার মইনুল ইসলাম খান ও কন্ঠশিল্পী কনকচাঁপার সংসারের আজ ৩৫ বছর। কনকচাঁপার কাছে বাবা মায়ের পর মইনুলই হচ্ছেন তার পৃথিবী। এই পৃথিবীতেই তিনি তার দুই সন্তান, দই নাতি-নাতনীকে নিয়ে সুখের স্বর্গ গড়েছেন। বাংলাদেশের শ্রোতা দর্শকের কাছে কনকচাঁপা এক আরাধ্য সঙ্গীতশিল্পীর নাম।

সেই কনকচাঁপার অনুপ্রেরণা তার স্বামী মইনুল ইসলাম খান। নিজের জীবনে এই মহান মানুষটির ভূমিকা প্রসঙ্গে কনকচাঁপা বলেন,‘ স্বামীর ভালোবাসা, প্রেম একটি সুন্দর সংসার গড়ে তোলার জন্য খুব প্রয়োজন। একটি সুখী দম্পতি তখনই সফল যখন তারা নিজে সুখে থেকে তাদের চারপাশ ভালো রাখে। আমাদের দুইজনের মধ্যেই সেই চেষ্টাটা আছে। আছে আমাদের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ভালোবাসা, বিশ্বাস আর ধৈর্য। আমরা দুইজনই একই পেশার মানুষ হলেও আমাদের মধ্যে নেই কোনো ব্যক্তিত্বের দ্বন্দ্ব। আমার জন্য কখনো তিনি এক পা এগিয়ে এলে, আমি তারচেয়ে বেশি পা ফেলে হাতে হাত রেখে এগিয়ে গিয়েছি। আমার জীবনে তাকে পেয়ে আমি ৯৯.৯৯ ভাগ সুখী। .০১ ভাগ কেন বাকি, সেটাও বলি। আমার প্রিয় ফুল বেলী। কিন্তু তিনি আমাকে সেটা প্রায়ই ভুলে যান। চাইলেই তিনি নানানভাবে মনে রেখে আমার জন্য বেলী ফুল নিয়ে আসতে পারেন। কিন্তু সেই নানান রকমে মনে রাখার চেষ্টাটা করেন না। নিয়মিতই তা ভুলে যান। এই যে তার সহজ সরল স্বাভাবিক ভুলে যাওয়া, ফুল আনার জন্য চাতুরী না করা, এটাই আমাকে মুগ্ধ করে। তাই পরিশেষে আমাকে বলতেই হয় তাকে পেয়ে আমি শতভাগ সুখী।’

কনকচাঁপা আরো বলেন, ‘স্টেজ শোর সময় অনেকেই স্টেজকে ছুঁয়ে স্টেজে উঠেন। অবশ্যই সেটা যার যার ভালো লাগার বিষয়। আমিও স্টেজে উঠার আগে স্টেজের প্রতি সম্মান নিয়েই স্টেজে উঠি। কিন্তু আমি সবসময়ই আমার স্বামীকে সালাম করে স্টেজে উঠি। কারণ আমার কাছে তিনিই আমার সবচেয়ে বড় শ্রদ্ধার জায়গা।’ কনকচাঁপা প্রসঙ্গে মইনুল ইসলাম খান বলেন,‘কনক আমার জীবনে শতভাগ পরিপূর্ণতা এনে দিয়েছে। দুইজন একই পেশার মানুষ হয়ে ৩৫টি বছর সুখে শান্তিতে একই ছাদের নিচে বসবাস করা কোনো সহজ কথা নয়। আমি আমার সঙ্গীত জীবনে অনেক সেক্রিফাইস করেছি। আমার যখন আমার কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা, তখন তার সাফল্যের জন্য সময় দিয়েছি আমি। আমি চাইলেই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকতে পারতাম। কিন্তু আমি নিজের কথা না ভেবে শুধুই কনকের কথা ভেবেছি। আমি শিল্পী কনকচাঁপা এবং ব্যক্তি কনকচাঁপাকে অনেক সম্মান করি।’

মোহাম্মদ তারেক।।

আমার সাথে ক’দিন আগে কলকাতার একজন উঠতি লেখকের সাথে ফেসবুকের ম্যাসেঞ্জারে চ্যাট হচ্ছিল। তাকে কথা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলাম আমাদের দেশের কোন সিনেতারকা ওখানে জনপ্রিয়। তিনি চট করে একজনের নাম বলে দিলেন। যার নাম বললেন তা ধারনাতেই ছিল, তবুও একজন ভিনদেশীর মুখে তার নাম শুনে অন্যরকম গর্ব অনুভব করেছিলাম। বাংলাদেশের সাকিব-আল-হাসানের নাম অন্যদেশের কারো গলায় শুনে যেমন গর্ব অনুভব করি তেমনি একটি অনুভূতি।

তিনি মিডিয়ায় যাত্রা শুরু করেছিলেন নব্বই দশকের শেষের দিকে। কিছু বিজ্ঞাপন, নাটকে কাজ করে ধীরে ধীরে দর্শকের মানসপটে জায়গা করে নেয়া শুরু করলেন। তার নাটকের একটি গান বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল, তরুণ তাহসান তাকে দেখার জন্য সাইকেল নিয়ে তার বাসার সামনে এসে অপেক্ষা করতেন; পরে তাহসানের মন ভেঙেছিল কিন্তু সে তরুণী দর্শকের মন জয় করেছিলেন। পাঠক নিশ্চয়ই আঁচ করে ফেলেছেন কার কথা হচ্ছে। হুমম, ধরে ফেলেছেন। আমি জয়া আহসানের কথা বলছি। এপার বাংলা, ওপার বাংলা মিলিয়ে যিনি সমানতালে কাজ করে যাচ্ছেন।

জয়া কাজ শুরু করেছিলেন নাটক দিয়েই। তার প্রথম নাটকের নাম ছিল, “প্রসন্ন পাষাণ”। তারপর একে একে কাজ করেন “লাবণ্যপ্রভা”, “অফবিট”, “তারপরও আঙুরলতা নন্দকে ভালোবাসে”, “এনেছি সূর্যের হাসি”, “নো ম্যান্স ল্যান্ড” – সহ অসংখ্য নাটক। প্রায় প্রতিটি নাটকেই তার অনবদ্য অভিনয় মন ছুঁয়ে যায়। একেকটি চরিত্রকে তিনি যেন কাদামাটি দিয়ে গড়ে তার মাঝে মিশে গিয়েছিলেন। এভাবেই একদিন জয়া কাজ করে ফেললেন “ব্যাচেলর” নামক চলচ্চিত্রে, অতিথি চরিত্রে। তার প্রথম চলচ্চিত্র “ডুবসাঁতার”, “ফিরে এসো বেহুলা” ছিল বাংলা চলচ্চিত্রকে নিয়ে নীরিক্ষার উদাহরণ। জয়া সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসেন “গেরিলা” চলচ্চিত্র দিয়ে। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ চলচ্চিত্র তাকে এনে দেয় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। জয়া পরপর দুই বছর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেছিলেন “গেরিলা” ও “চোরাবালি” চলচ্চিত্রের জন্য ২০১১ ও ২০১২ সালে। এরপর “জিরো ডিগ্রী” চলচ্চিত্রের জন্য ২০১৫ সালে আরেকটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। শুধু তাই নয়, তিনি মেরিল প্রথম আলো তারকা জরিপ পুরস্কারও জিতেছিলেন একাধিকবার।

জয়া মাঝে দুটো বাণিজ্যিক ছবিতেও কাজ করলেন, যাচাই করে নিলেন নিজেকে। “পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী” ও “পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী – ২”  এ দুটো চলচ্চিত্র আলোচিত হয়েছিল। জয়াও বুঝে নিলেন কোথায় তিনি ফিট।

বাংলাদেশের এই মেধাবী অভিনেত্রীকে আমরা সেভাবে হয়তো কাজে লাগাতে পারিনি, কিন্তু কলকাতার কয়েকজন সুনির্মাতা তার মেধায় মুগ্ধ হয়ে কাজে লাগিয়েছেন সুনিপুণভাবে। জয়ার কাজ দেখে পরিচালক অরিন্দম শীল তাকে কাস্ট করেন “আবর্ত” চলচ্চিত্রে। তাও প্রায় বছর পাঁচেক হতে চললো। এরপর জয়া কাজ করলেন ওপার বাংলায় “একটি বাঙালী ভূতের গপ্পো”, “রাজকাহিনী” ও “ঈগলের চোখ” চলচ্চিত্রে। একটি বিরতি নিয়ে কাজ করলেন অনলাইনের জন্য, শর্টফিল্ম – “ভালোবাসার শহর”। এ চলচ্চিত্রটি জয়ার অভিনয়স্বত্ত্বাকে নতুনভাবে ফুটিয়ে তুললো দর্শকের সামনে। সিনেমা এড়িয়ে চলা একটি প্রজন্ম জয়াকে জানতে পারল। অত:পর এল “বিসর্জন”। কৌশিক গাঙ্গুলির সিনেমা। জয়া নিজেকে ভাঙলেন, তুলে ধরলেন বাংলাদেশকে। ফিল্মফেয়ার ও জি সিনে এওয়ার্ডে দেখা মিললো আমাদের মেয়ে জয়া আহসানের, পুরস্কার হাতে। “রাজকাহিনী” তাকে টেলিসিনে এওয়ার্ড এনে দিলেও “বিসর্জন” চলচ্চিত্রের জন্য ফিল্মফেয়ারের ব্ল্যাক লেডি পাওয়া প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে জয়া গর্ব করতেই পারেন, তাকেই যে তা মানায়।

জয়ার হাতে বেশ কিছু প্রজেক্ট আছে। তিনি প্রযোজকরূপে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছেন সেপ্টেম্বর মাসেই, আসছে তার “দেবী”। যেখানে তিনি আছেন মূল চরিত্রে। প্রথিতযশা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের মিসির আলি চরিত্রটিকে বড়পর্দায় নিয়ে আসছেন জয়াই, অনিমেষ আইচের পরিচালনায়। কাজ শেষ করেছেন “বিউটি সার্কাস”, “লাল মোরগের ঝুঁটি” ও “পেয়ারার সুবাস” চলচ্চিত্রের। সেগুলোও আসবে সহসাই। জয়া এদেশে ছবি শুধু নয়, কলকাতায় তার মুক্তির অপেক্ষায় থাকা চলচ্চিত্রগুলো নিয়েও আশাবাদী। “এক যে ছিল রাজা”, “ক্রিসক্রস”, “বিজয়া” ও “বৃষ্টি তোমাকে দিলাম” মুক্তি পেতে যাচ্ছে ওপার বাংলায় এ বছরেই। এদেশে না হলেও ওদেশে জয়া ঠিকই কাজ করে তা দর্শকের সামনে উপস্থাপন করছেন।

জয়া মানুষ হিশেবে কেমন তা তার সঙ্গে না মিশলে বোঝা দুষ্কর। তিনি যেমন নিজের স্টারডম ধরে রাখতে পারেন, ঠিক তেমন সাধারনের সাথে মিশতেও পারেন। সামাজিক কর্মকান্ডে তিনি সময় পেলেই সাড়া দেন, ফেসবুকে কাছের মানুষদের বিশেষ দিনে শুভেচ্ছা জানাতেও ভুল হয়না তার। তিনি চাইলেই তা এড়িয়ে যেতে পারেন, কিন্তু তিনি তা করেন না; এখানেই তো তার বিপরীতে অনেকেই।

জয়ার ভাষাজ্ঞান কেমন তা নিয়ে বিস্তর ভাবা যায়। তিনি যখন কথা বলেন তখন শুধু তার কথা শুনতেই ইচ্ছে হয়। তিনি যখন ফেসবুকে কিছু লেখেন তখন বোঝা যায় তিনি সাহিত্যপ্রেমী। এ যুগের অভিনেত্রী হয়ে বাংলাকে বুকের মাঝে ধারন করে তা প্রকাশ করার মাঝেও রয়েছে অনুপম দেশপ্রেম। তার সমসাময়িক অন্যান্য অভিনেত্রীরা ফেসবুকে সেলফি পোস্ট করতে ব্যস্ত আর জয়া? তিনি কাজের ফাঁকে সময় পেলে দক্ষ ভাষাবিদের মতো লিখে দেন কয়েক লাইন। একেকজন মানুষের ফেসবুক টাইমলাইন দেখলেই বোঝা হয়ে যায় তার ক্লাস। জয়া সে ক্লাসটাকে এলিট করেছেন, উদাহরণ হয়েছেন সবার মাঝে। অভিনয়, ব্যক্তিত্ব, শুদ্ধ উচ্চারণ, অগাধ ভাষাজ্ঞান – কি নেই জয়ার মাঝে? সিনেমাটাও তিনি বাছাই করেন ভেবেচিন্তে। তাই তো মনে হয় একসময় তাকে পুরস্কার কন্যা বলেও ডাকতে হতে পারে।

জয়া সময় পেলেই কাজের অবসরে মায়ের সান্নিধ্যে আসেন, মায়ের হাতের রান্না খেতে ভালোবাসেন। তার মা রেহানা মাসুদও তারকা মেয়ের প্রতি ভালোবাসাটা প্রকাশ করেন। জয়ার বোন কান্তা করিমও ছিলেন মিডিয়ার মানুষ। বড় বোনের পদাঙ্ক অনুসরণ করে তিনিও এসেছিলেন নাটকে, যদিও তিনি বর্তমানে নাট্যজগতের দূরে আছেন।

জন্মদিনটাও জয়া পালন করেছেন সাদামাটাভাবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভক্তদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন। ভালোবাসা জানিয়ে দেন কাছের মানুষজন। বিশেষ দিনে মায়ের হাতের মজার রান্নার জন্য জয়া অপেক্ষা করেন। সময় দেন শুভাকাঙ্খীদের। মিষ্টি কথা ও হাসি দিয়ে মুগ্ধ করে রাখেন সকলকে।

জয়া কাজ করেন, নতুন করে শিখতে চেষ্টা করেন। কাজ নিয়ে ভাবেন, কাজের ফলাফল নিয়ে ভাবেন। অল্প অবসরে ঢুঁ মারেন সোশাল মিডিয়ায়। তিনি এ বছরেই আনুষ্ঠানিকভাবে ফেসবুক পেজ চালু করেন, গঠিত হয় তার ফ্যানস গ্রুপ। তারুণ্যের চাহিদা মেটাতে জয়ার এমন উদ্যোগ তাকে পৃথক করেছে সোশাল মিডিয়া বিমুখ তারকা হতে।

সবমিলিয়ে এই তো চলছে বেশ জয়ার। মা, বোন, ভাই আর ক্লিওকে নিয়ে তার পৃথিবী। সেখানে মাঝে মাঝে তাকে নানান পোষাক পরতে হয়, পোষাক অনুসারে চরিত্র ধারন করতে হয়। ওহহো, ক্লিওর কথা তো বলা হয়নি। ক্লিওপেট্রা, জয়ার পোষ্য সারমেয়। পরিবারের সদস্যের মতোই তার অবস্থান জয়াদের পরিবারে। কাজশেষে জয়া ফিরে আসেন পরিবারের কাছে আপননীড়ে, কখনো ঢাকায় কখনোবা কলকাতার ফ্ল্যাটে।

বর্ণময় জয়ার ভুবনে জয়া সুখে থাকুক, সুখে থাকুক তার ভালোবাসার মানুষজন, তার কাজে তৃপ্ত হোক দর্শক, সিনেমাপ্রেমীর দল। সামনের প্রতিটি দিন হোক আলোকিত, সাফল্যের সুবাসে ভরে উঠুক তার চলার পথ।

পেইজ থ্রি ডেস্ক।।

বাংলাদেশের সংগীত জগতে আলোচিত গানের নাম ‘অপরাধী। অংকুর মাহমুদ ফিচারিং আরমান আলিফের এই গানটি বাংলাদেশ ইউটিউব ইতিহাসের প্রায় সব রেকর্ড ভেঙে ফেলেছে। বাংলাদেশের ইউটিউব ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গ্লোবাল র‍্যাংকিংয়ে ঢুকে পড়েছে। গানটি ১০০টি গানের মধ্যে ৮০তম স্থানে রয়েছে। ২৬ এপ্রিল ঈগল মিউজিক প্রকাশ করে তরুণ শিল্পী আরমান আলিফের অপরাধী ’। গানটির ভিডিও নির্মাণ করেছে ঈগল টিম। এতে মডেল হয়েছেন আনান, সুমাইয়া আনজুম ও তুহিন চৌধুরী।

এবার সেই গান শোনা গেলো, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কণ্ঠে । আজ শনিবার সাকিব আল হাসান নিজের ফেসবুক পেজে জাতীয় দলের সদস্যদের একসাথে গাওয়া ‘মাইয়া ও মাইয়ারে তুই অপরাধী রে’ গানের ভিডিও আপলোড করেছেন। বতমানে বাংলাদেশ দল ভারতের দেরাদুনে আছেন আফগানিস্তানের সাথে টি-২০ সিরিজ খেলতে।

অপরাধী…….. আফগানিস্তান সিরিজ শুরুর আগে দল কে চাঙ্গা রাখার কাজে ব্যাস্ত ক্যাপ্টেন সাকিব সহ রনি-রাহী-মিরাজ-অপু-সৈকত-আরিফুল-সৌম্যরা।

Posted by Salahuddin Suman on Saturday, 2 June 2018

কাজী ঐশী।।

তারকার অভাব নেই ভারতে। উত্তরের খান, কাপুররা থেকে শুরু করে দক্ষিণের রজনীকান্ত, অজিতেরা চলচ্চিত্রের মঞ্চ কাঁপিয়ে চলেছেন বহুদিন ধরেই। কিন্তু উত্তর দক্ষিণে ঠিক একই রকম ভালবাসা আর গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া আর সুনাম কুড়ানো সু-অভিনেতা খুব সম্ভবত একজনই আর. মাধবন, হিন্দিতে উচ্চারণ করলে যেটা হয় মাধাভান। রঙ্গনাথন মাধবন ইন্ডাস্ট্রিতে, আত্মীয়-বন্ধুদের কাছে, এমন কি ভক্তদের কাছেও ‘ম্যাডি’ বলেই পরিচিত। আজ, ১ জুন ম্যাডির জন্মদিন। ৪৮ এ পা রাখলেন তিনি।

ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুরে জন্ম নেওয়া মাধবনের অভিনেতা হওয়ার কোনো পরিকল্পনা ছিল না। তবে অফিসে বসে দশটা পাঁচটা চাকরি করার মত ব্যক্তিত্বও তিনি ছিলেন না কখনওই। স্কুল-কলেজে পড়াশোনার চেয়ে খেলাধুলায় মনোযোগ ছিল বেশি, জুনিয়র জাতীয় দলে বাস্কেটবলও খেলেছেন। অনার্স ভর্তি হয়েছিলেন ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ। সে সময় এক্সচেইঞ্জ স্টুডেন্ট হিসেবে কালচারাল স্কলারশিপ নিয়ে এক বছর কাটালেন কানাডায়। তারপর এক্সট্রা কারিকুলার হিসাবে ভারতের জাতীয় ক্যাডেটে যোগ দিলেন। অসম্ভব ভাল করেছিলেন সেখানে। পুরো ভারতের সেরা ৮ জন ক্যাডেটকে ব্রিটিশ সেনা, নৌ আর বিমানবাহিনীর থেকে ট্রেনিং নেওয়ার জন্য ব্রিটেন পাঠানো হয়েছিল, তার মধ্যে একজন ছিলেন মাধবন।

এ সমস্তের পর শেষ বর্ষের ফাইনালের সময় যখন হল, প্রিন্সিপাল তাকে নিজের ঘরে ডেকে বললেন, ‘তোমার এ্যাটেন্ডেন্স কত, জানো ছেলে? ফোর পার্সেন্ট! তুমি পরীক্ষা দিতে পারবে না।’ তরুণ ম্যাডি হেসে জবাব দিলেন, ‘না দিতে পারলে আপনার প্রতিষ্ঠান থেকে আমার চলে যেতে হবে। আমার কারণে যে পাব্লিসিটি এই কলেজ পাচ্ছে, আপনি পাচ্ছেন, পেপারে নাম আসছে, এ সব বন্ধ হয়ে যাবে। আমি এই কলেজ ছেড়ে চলে গেছি এটাই খবর হবে। সেটা চান আপনি?’ প্রিন্সিপাল আর পরীক্ষা দিতে মানা করেন নি।

থ্রি ইডিয়টসে ফারহান কুরেশির সাথে তার বাবার ঐ কথোপকথন সবারই মনে আছে- ফারহান কাকুতিমিনতি করে বাবাকে বলছে, ‘আমার ইঞ্জিনিয়ারিং ভাল লাগে না, বুঝি না, আমি ইঞ্জিনিয়ার হতে পারব না, হলেও খুব খারাপ ইঞ্জিনিয়ার হব।’ মাধবন বলেন তার নিজের জীবনের সাথে প্রায় পুরোপুরি মিলে যায় এই গল্প, এই দৃশ্য; অভিনয় করার সময়ও সেই স্মৃতি থেকেই অনুপ্রেরণা নিয়েছিলেন। সেজন্যই হয় তো সেরা সহ অভিনেতার পুরস্কার বাগিয়ে নিয়েছেন সহজেই। ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করা হলেও এই চাকরি করার ইচ্ছা ম্যাডির ছিল না। করলেনও না, কিন্তু দেখলেন তার সহপাঠী বন্ধুরা শুধুমাত্র কথাবার্তায় চৌকস না হওয়ার কারণে ইন্টারভিউ থেকে বাদ পড়ে যাচ্ছে নিয়মিত। ঐ সময় বন্ধুদের দিয়ে শুরু, তারপর আস্তে আস্তে পুরো শহর, প্রদেশজুড়ে নানা ওয়ার্কশপে মাধবন পাব্লিক স্পীকিং, কমুনিকেশন, পার্সোনালিটি ডেভেলপমেন্টের ওপর লেকচার দিতে থাকেন। পরে মাস্টার্সও করেছেন এই বিষয়ে। এমন কোন এক ওয়ার্কশপে মাধবনের ক্লাস করে সরিতা নামের একটি মেয়ে উপকৃত হয়েছিল খুব। কৃতজ্ঞতা এবং লেকচারারের ওপর ক্রাশ- এই দুই মিলে ম্যাডিকে ট্রিট দেওয়ার প্রস্তাব দেয় মেয়েটি। এই থেকেই মাধবনের প্রথম প্রেম, এবং টানা নয় বছরে প্রেম করে ১৯৯৯ সালে সরিতাকে বিয়ে। এখনও সুখী বিবাহিত জীবন তাদের। সন্তান আছে একটি- বারো বছরের ছেলে ভেদান্ত।

অভিনয়ের শুরুটা খুবই কাকতালীয়ভাবে হয়েছিল। মুম্বাইয়ের রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন, টিভির এক পরিচালক তাকে থামিয়ে বললেন, ‘আমার নাটকের এক এপিসোডে অভিনয় করবে?’ ম্যাডি বললেন, ‘কত টাকা দেবেন?’ পরিচালক বললেন, ‘তোমাকে টিভিতে আসার সুযোগ করে দিচ্ছি, এটাই তোমার পাওনা।’ ম্যাডি বললেন, ‘হাহা, জ্বী না, আমার এই জবের কোনো দরকার নাই।’ পরিচালক তাকে টাকা দিয়েই কাজে নেন তখন। টিভির এই শো থেকে ঐ শো, অনিয়মিত শিল্পী হয়েই দর্শকপ্রিয়তা পেয়ে যাওয়ার পর নিয়মিত হওয়া। বানেগি আপনি বাত, ঘর জামাই, সায়া- জনপ্রিয় নানা হিন্দি টিভি শো-তে অভিনয় করেছেন টানা অনেকদিন। উপস্থাপনাও করেছেন নিয়মিত। করতে করতেই শিখেছেন অভিনয়।

মণিরত্নমের তামিল সিনেমা ‘আলাইপায়ুথে’ দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক ২০০০ সালে, এবং শুরুতেই বাজিমাত। (সিনেমাটা যারা দেখেন নি, তারা হিন্দি ভার্সনটা দেখে থাকবেন- বিবেক ওবেরয় আর রাণি মুখার্জির ‘সাথিয়া’।) অনেক প্রতিষ্ঠিত অভিনেতাকে বাদ দিয়ে মণিরত্নম এই মুভিটার জন্য মাধবনকে বেছেছিলেন, তিনি নিরাশ করেন নি। দর্শক-সমালোচক সবার মন জিতে নিয়েছিলেন। এর রেশ কাটতে না কাটতেই ২০০১ সালে মুক্তি পেল ‘মিন্নালে’ (যেটার হিন্দি ভার্সন ‘র‍্যাহনা হ্যায় তেরে দিল মে’)- এ দুইয়ের বদৌলতে রোম্যান্টিক হিরো হিসেবে তুমুল জনপ্রিয়তা পেলেন সুন্দর বাদামি চোখ আর মায়াকাড়া হাসির মাধবন। আবার ঠিক তার পরের বছরই সেই ইমেজ ভেঙে সিরিয়াস চরিত্রে অভিনয় করলেন মণিরত্নমের ‘কান্নাথিল মুথামিত্তাল’ এ, যেখানে তিনি এক তরুণ বাবা। সমাদৃত হল সেটাও। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয় নি। রোম্যান্টিক, একশন, ড্রামা, হরর- সব ধরণের সিনেমাই করেছেন। গোঁফ ছাড়া তামিল নায়ক হয় না, বিবাহিত হলে নারী-দর্শক পছন্দ করে না- সবার এমন আশংকা গুঁড়িয়ে দিয়ে তামিল ইন্ডাস্ট্রিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সরাসরি কোনো তেলেগু মুভিতে অভিনয় না করেও শুধুমাত্র ডাবড সিনেমা দিয়েই নিজের চাহিদা তৈরি করেছেন তেলেঙ্গানায়।

হিন্দি সিনেমায় শুরুটা ‘র‍্যাহনা হ্যায় তেরে দিল মে’ দিয়ে, ২০০১ এ। তখন বাণিজ্যিকভাবে ব্যর্থ হলেও সময়ের পরীক্ষায় যে সিনেমাটা উতরে গেছে সেটা বলাই বাহুল্য। লম্বা গ্যাপে ২০০৫ এ পরের রিলিজ- ‘রামজি লন্ডনওয়ালে’ নামের কমেডি, এটাও তামিল মুভির (‘নল দময়ন্তী’) হিন্দি ভার্সন। হিন্দি সিনেমা সবসময়েই করেছেন অন্য ধরণের চিত্রনাট্য দেখে, যা কখনও ফেল করে গেছে (জোড়ি ব্রেকারস, তিন পাত্তি), কখনও সমালোচকের প্রশংসা কুড়িয়েছে (মুম্বাই মেরি জান), কখনও দর্শক-সমালোচক সবারই মন কেড়েছে (গুরু, রঙ দে বাসন্তী, থ্রি ইডিয়টস, তানু ওয়েডস মানু)।

২০১১ সালের দিকে মাধবন তিন বছরেরও বেশি সময়ের জন্য নিজেকে গুটিয়ে নেন। মোটামুটি তাঁর বক্তব্য এ রকমঃ ‘আমি যা-ই করছিলাম তাতেই কমবেশি সাফল্য পাচ্ছিলাম, এতে করে বাজে একটা আত্মবিশ্বাস চলে এসেছিল, আনন্দটাও হারিয়ে গিয়েছিল। আমার স্ত্রী একদিন সকালে আমাকে বলল, ‘কত আগ্রহ নিয়ে আগে তুমি কাজে যেতে। এখন তোমার মধ্যে কোনো প্যাশন দেখি না।’ ভেবে দেখলাম ও ঠিকই বলছে। তাই সিনেমা, টিভি শো, বিজ্ঞাপন সব অফার মানা করে দিতে থাকলাম। পরিকল্পনা করলাম, নিজেকে বদলাব।’ আগের করা আজেবাজে কিছু ছবি দেখলে এখন তাঁর খারাপ লাগে, এটাও স্বীকার করেছেন মাধবন।

তা, নিজেকে মাধবন বদলেছেন। ইস্টার্ন ইওরোপের এক ওয়েলনেস সেন্টারে যেয়ে নিজেকে জানার চেষ্টা করেছেন, রাস্তাঘাটে অটোরিকশায় চড়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন, আধুনিক দর্শকের রুচি, পালস বোঝার চেষ্টা করেছেন, নিজের পছন্দের স্ক্রিপ্ট বেচার জন্য প্রযোজকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন, সেধে অপমানিত হয়েছেন। আড়াল ছেড়ে বেরিয়ে এলেন ২০১৫ সালে, ‘তানু ওয়েডস মানু রিটার্ন্স’ নিয়ে। মুভি সুপারহিট, আয় ২৪৩ কোটি। কংগনা রনৌত পেলেন জাতীয় পুরস্কার, মাধবন-কংগনা দুজনেই ভাসলেন প্রশংসায়। মাধবন তখনও নিজেকে ভাংছেন, গড়ে তুলছেন বক্সারের মত শরীর। ২০১৬ সালে মুক্তি পেল তামিল ‘ইরুধি সুত্রে’ আর হিন্দি ‘সালা খাড়ূস’- একই মুভি দুই ভাষাতে, যেই স্ক্রিপ্টে অভিভূত হয়ে মাধবন প্রযোজক খুঁজছিলেন দু’বছর ধরে। হিন্দি ভার্সন নিজেই যৌথ প্রযোজনা করেছেন রাজকুমার হিরানির সাথে। এই মুভিতে মাধবনের লুক থেকে শুরু করে চরিত্র- সবই ছিল একদমই অন্যরকম। চমৎকার মুভিটি দর্শক খুব পছন্দ করল, আবার নায়িকার হাতে উঠল জাতীয় পুরস্কার। ম্যাডি পেলেন দক্ষিণের ফিল্মফেয়ার আর আইফা। ২০১৭ তে তামিল’ বিক্রম বেদা’- ১০০ কোটি ছাড়িয়ে গেল। ঐ সময়েই শুটিং করছিলেন আমাজন প্রাইম সিরিজ ‘ব্রিদ’এর, সেটা মুক্তি পেল ২০১৮ এর জানুয়ারিতে। টানটান এই থ্রিলার সিরিজের জন্য প্রশংসায় সিক্ত হচ্ছেন এখনও। হাসতে হাসতে বলছিলেন, ‘মানুষজন এখন রাস্তাঘাটে ড্যানি ম্যাস্কারেনাস বলে ডাকছে।’

আজীবনের ভেজিটেরিয়ান মাধবন পরিবেশের জন্য লড়েন, ব্র্যান্ড এম্বেসেডর হয়েছেন পেপ্সি, এয়ারটেল, মারুতি সুজুকির মত ব্র্যান্ডের, শখে প্লেন চালান, গলফ খেলেন দারুণ- কিছুদিন আগেও এক কম্পিটিশনে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। আর মাধবনের ছেলে ভেদান্ত কিছুদিন আগে ভারতকে ইন্টারন্যাশনাল সাঁতার কম্পিটিশনে ব্রোঞ্জ এনে দিয়েছে।

সামনে শাহরুখ খানের ‘জিরো’তে মাধবনকে দেখা যাবে। আরও আসছে তেলেগু মুভি ‘সব্যসাচী’, আর ভারতের প্রথম স্পেস সাইফাই ‘চান্দা মামা দূর কে’। ভাল কিছুর প্রত্যাশাই করতে পারে ভক্তরা।

হ্যাপি বার্থডে টু ম্যাডি।

 

পেইজ থ্রি ডেক্স।।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজের বাইরে ‘শাকিব খান: কিং অব ঢালিউড’ নামে একটি অফিশিয়াল গ্রুপ রয়েছে শাকিব খানের। সেই গ্রুপের সদস্যসংখ্যা ৪ লাখ ছাড়িয়েছে। সেকারণে শাকিব খান নিজের ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাট্যাস পোস্ট করে লিখেছেন, গ্রুপের যারা আমাকে ভালোবাসে এবং সবসময় আমাকে কাজকে সাপোর্ট করে সবাইকে ধন্যবাদ। আমি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। ফেক গ্রুপ বর্জন করে অফিসিয়াল এই গ্রুপে যুক্ত থাকার জন্য সবাইকে আহবান জানাচ্ছি।

মাত্র ১ বছর আগে এই গ্রুপটি খুলেছিলেন সিলেটের প্রিন্স মিফতাহ। যিনি শাকিবের খানের ভক্ত। তার ভাষ্য, শাকিব ভাইয়াকে ভালোবেসেই গ্রুপ খুলেছিলাম। সবচেয়ে বড়কথা হলো শাকিব ভাইয়ার ভক্তদেরকে এক প্লাটফর্মে রাখাই মূল উদ্দেশ্য ছিল, যাতে সহজেই শাকিব ভাইয়ার ছবি গুলার প্রচারণা করতে পারি। মাত্র ১ বছরে ৪ লাখের বেশি সদস্য এই গ্রুপে যুক্ত হয়েছেন। এটা সত্যি আনন্দের।

 

মাহবুবর রহমান সুমন

অভিনেত্রী নওশাবা আহমেদ দিনাজপুরের বড় সুলতানপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১২ জন দিয়ে পুতুল বানিয়েছেন। নাম ‘বন্ধু পুতুল’। চান সে পুতুলগুলো সিরিয়ার শিশুদের কাছে পৌঁছে দিতে। আগেও আমাদের দেশের বিপদে পড়া শিশুদের কাছে পুতুল নিয়ে ছুটে গিয়েছেন তিনি ও তার বন্ধু অমিত। মাহবুবর রহমান সুমন জেনে এসেছেন আরো অনেক কথা

একজন নওশাবা

কাজী নওশাবা আহমেদের শৈশব কেটেছে শ্যামলীর আদাবরে। তাঁর বাবা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা। হলিক্রস স্কুল ও কলেজে পড়েছেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে এমএফএ করেছেন। নওশাবা পেশায় একজন অভিনেত্রী। তিনি নাটক, বিজ্ঞাপন ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করে থাকেন। ব্যক্তিজীবনে নওশাবা এক কন্যাসন্তানের জননী। কন্যার নাম প্রকৃতি নাজারিনা আহমেদ। নওশাবার এই বন্ধু পুতুল প্রকল্পের প্রথম পুতুলটি আছে তাঁর কন্যার কাছে।

একজন অমিত সিনহা

অমিত সিনহা সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস শেষ করেছেন। তিনি কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের লেকচারার পদে কর্মরত। তিনিও অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত।

২০০৩ সালের শেষ দিক। নওশাবা সিসিমপুরে কাজ করতেন। তাঁর চরিত্রের নাম ইকড়ি মিকড়ি। দানবাকৃতির হলে কী হবে, ইকড়ি মিকড়ি খুব ভাবুক। নওশাবা পুতুলটি পরিচালনা করতেন, কণ্ঠও দিতেন। আধাযুগ ধরে ইকড়ি মিকড়ি করেছেন নওশাবা। সারা দেশ থেকে ফোন আসত তখন। ইকড়ি মিকড়ির সঙ্গে কথা বলতে চাইত। নওশাবাই কথা বলতেন। এভাবেই শিশুদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গভীর হয়। অনেকে তাঁর বাসায়ও আসতে থাকে। একসময় ওই শিশুদের নিয়ে নওশাবা গড়ে তোলেন ‘জোনাকির দল’। সবাই মিলে স্বেচ্ছাসেবী নানা কাজ করে বেড়াতেন।

পুতুল ভাবনা

২০১৫ সাল। তুরস্কের উপকূলে তিন বছরের শিশু আয়লান কুর্দির মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে বিশ্ব। ছবিটি দেখে নওশাবারও মন কেঁদে ওঠে। বন্ধু অমিত সিনহার সঙ্গে তখন আলাপে বসেছিলেন নওশাবা। ভাবছিলেন, সিরিয়ার শিশুদের জন্য কী করা যায়। মনে পড়ে ইকড়ির কথা। ছোটবেলায় নিজে পুতুল নিয়ে ঘুমাতে যেতেন। আরেকটু বড়বেলায় ইকড়ি তাঁর সঙ্গী হয়। এর মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আরেকটি ছবি আলোড়ন তোলে। ছবিটি সিরিয়ারই এক শিশুর। সব কিছু হারিয়ে একটি পুতুল আঁকড়ে ধরে আছে। ওই ছবিটি দেখার পর সিদ্ধান্ত নিতে আর দেরি হয়নি—সিরিয়ার শিশুদের জন্য পুতুল পাঠাবেন।

সুলতানপুর স্কুলে

প্রথম ভেবেছিলেন পুতুলগুলো বানাবে ‘জোনাকির দল’। কিন্তু ‘জোনাকির দল’ তো আর ছোট্টটি নেই। তাই ভাবলেন, কোনো স্কুলের শিক্ষার্থীদের দিয়ে পুতুল বানানো যায় কি না।বলছিলেন, ‘তানিয়া ইসলাম আমাদের জোনাকির দলেরই সদস্য। তাঁর স্কুলে আমরা আগে বৃক্ষ রোপণ করেছিলাম। তাকে জানালাম পুতুলের কথা। সে বলল, এসো, বাচ্চাদের সঙ্গে কথা বলে যাও। কয়েক দিনের মধ্যেই চলে গেলাম দিনাজপুরের সেতাবগঞ্জে। যেতে যেতে অমিত বাচ্চাদের দেখানোর জন্য একটি ফটো প্রেজেন্টেশন তৈরি করে ফেলল। তাতে দেখা গেল, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে ত্রাণসহ নানা সাহায্য এসেছে। আমরা সেটা মনেও রেখেছি। সিরিয়ায়ও অনেক দেশ থেকে সাহায্য পাঠানো হচ্ছে। আমরা না হয় পুতুল পাঠালাম। সিরিয়ার শিশুরা বড় হয়ে মনে করতে পারবে বাংলাদেশ নামের একটি দেশ থেকে বিপদের সময় তাদের জন্য পুতুল পাঠানো হয়েছিল। বলেছিল, ভেঙে পোড়ো না, আমরা আছি তোমাদের পাশে।’

নওশাবা আর অমিত সুলতানপুরের বাচ্চাদের বোঝাতে পেরেছিলেন যে বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হয়। সামর্থ্য যা আছে তা দিয়েই। ‘অদ্ভুত সাড়া পেয়েছিলাম। ৫ থেকে ১১ বছর বয়সী কয়েকজন শিশু তখনই পুতুল বানাতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করে।’ বলছিলেন নওশাবা।

ওরা ১২ জন

স্কুলের শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো ছুটির পর আমরা পুতুল বানাব। তখন স্কুলে প্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থী ছিল। ৩০ জনকে আমরা প্রাথমিকভাবে বেছে নিলাম। কাউকেই পারিশ্রমিক দেওয়া হবে না; কিন্তু তাতে কারোরই আপত্তি নেই। পরে ওই ৩০ জন থেকে ১২ জন টিকেছিল। তবে অনিয়মিতভাবে আসত আরো চার বা পাঁচজন। আমরা সেতাবগঞ্জ থেকে পুতুল বানানোর জিনিসপত্র কিনলাম। আমাদের টাকার কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছিল তখন। কারণ খরচ কম হচ্ছিল না। যাতায়াত ভাড়া, বাচ্চাদের নাশতা, পুতুল বানানোর সামগ্রী কেনা ইত্যাদিতে ভালোই খরচ হচ্ছিল। তখন এহসান রহমান জিয়া, জুবায়েদ আহমেদ কাজী, কাজী সেলিম প্রমুখ আমাদের সাহায্য করেছেন। কিছু পুতুল নষ্ট হয়েছিল কিন্তু বাচ্চাদের উৎসাহ ছিল তুঙ্গে। তাদের আমরা নিরাশ করিনি। একপর্যায়ে দেখা গেল এক হাজার পুতুল বানানো হয়ে গেছে। অবশ্য তত দিনে পেরিয়ে গেছে চার মাস। এমনও হয়েছে, তারা ক্লাস বাদ দিয়ে পুতুল বানিয়েছে। শিক্ষকরা ফোনে এ কথা জানালে আমি গিয়ে তাদের থামিয়েছি। আর বানানোর সামগ্রী ফুরিয়ে গেলেও ফোন পেতাম—‘আপা, মাল নাই, মাল পাঠান, আরো পুতুল বানাব।’

পুতুলগুলো যেমন

‘বাচ্চাদের জন্য বানাচ্ছি, তাই পুতুলগুলো যেন মায়াবী হয়—সেটাই বলতাম সবাইকে। আরো বলতাম, পুতুলগুলো যেন আমাদের দেশের কথা বলে। সে কারণেই বেশি বেশি গামছা ব্যবহার করা হয়েছে। আমরা তৈরি করেছি বাঘ, পেঁচা, বিড়াল, বাংলাদেশি বাচ্চা, স্টার ফিশ ইত্যাদি। পুতুল বানানো দলের কারিগরদের কয়েকজন হলো—শান্ত, মৌসুমী আক্তার, বাঁধন, বৃষ্টি, হাসি, খুশি ও বেণু।’

পাঠানো সহজ নয়

‘পুতুল তৈরি করার সময় থেকেই আমরা কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলাম। তারা কেউ সিরিয়ায় ফটোগ্রাফার কেউ বা ইউনিসেফের কর্মী। আমাদের উদ্যোগের প্রশংসা করছিল তারা। তবে সবাই এক কথাই বলছিল, সিরিয়ায় কিছু পাঠানো অনেক কঠিন, আর ব্যয়বহুল। এখনো পরিষ্কার উপায় খুঁজে পাইনি। এ ব্যাপারে সরকার বা অন্য কেউ এগিয়ে এলে খুশি হব।’

৪০০ পুতুল

নওশাবারা এক হাজার পুতুলের মধ্যে ৬০০ পুতুল পাঠাচ্ছেন সিরিয়ায়। বাকি ৪০০ পুতুল এরই মধ্যে বিতরণ করা হয়ে গেছে। গাইবান্ধার সাঁওতালপল্লীতে দেওয়া হয়েছে কিছু। রাঙামাটির ভূমিধসের সময় কিছু দেওয়া হয়েছে আর দেওয়া হয়েছে আশিক ক্যান্সার সেন্টারের ক্যান্সার রোগীদের। ‘ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে যখনই আমরা ব্যাগ থেকে পুতুল বের করেছি, তখনই দেখেছি বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস। শিশুরা নিজেরাই বলেছে, আমাকে ওই বাঘটা দাও, আমাকে দাও পেঁচাটা। আহা! আমরা যে কতটা সুখী হয়েছিলাম, তা বোঝানো যাবে না।’

আরো যা ভাবছেন

‘আমরা এখন চাই রোহিঙ্গা শিশুদের পুতুল দিতে। কিন্তু তারা সংখ্যায় এত বেশি যে আরো অনেক পুতুল তৈরি করতে হবে। টাকাও লাগবে অনেক। সিরিয়ায় পুতুল পাঠানোর ব্যাপারটিও বোঝা হয়ে আছে। কী যে করি, অনেক টাকা দরকার।’

গেল ঈদের তিন দিন আগে

গেল ঈদের তিন দিন আগে পতুল কারিগরদের কয়েকজনকে দিনাজপুর থেকে ঢাকায় নিয়ে এসেছিলেন নওশাবা। তাদের পুরো ঢাকা ঘুরিয়ে দেখিয়েছেন। পথশিশুদের মাঝে কিছু পুতুল বিতরণও করেছেন। ‘তাদের বানানো পুতুল তারা নিজেরাই পথশিশুদের দিচ্ছে, তাদের চোখে-মুখে যে কী আনন্দ, আমি এমনটা জীবনেও দেখিনি। তারা বড় হলে আরো বড় স্বপ্ন দেখবে।’

৭ মার্চ ঢাকার জাতিসংঘ কার্যালয়ের সামনে

দুপুর ২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ঢাকার জাতিসংঘ কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছেন নওশাবা ও তাঁর কয়েকজন বন্ধু। সিরিয়া ও ইয়েমেনের যুদ্ধাক্রান্ত শিশুদের ছবি মুখে এঁটে মানববন্ধনে অংশ নেন তাঁরা। ‘সিরিয়া যুদ্ধে বেশি হতাহত হচ্ছে নিষ্পাপ শিশু ও নিরীহ মানুষ, যুদ্ধের সঙ্গে যাদের কোনো যোগ নেই। সম্প্রতি জাতিসংঘ সিরিয়াকে বলেছে, হেল অন আর্থ (পৃথিবীর নরক)। সে পরিপ্রেক্ষিতেই আমরা জাতিসংঘ অফিসের সামনে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম।’

সূত্র : কালেরকণ্ঠ

 

মাহবুবর রহমান সুমন

২০০৯ সালে প্রথম চলচ্চিত্র ‘মনপুরা’ নির্মাণ করে শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন গিয়াস উদ্দিন সেলিম। গেল ৬ এপ্রিল মুক্তি পেয়েছে তার দ্বিতীয় চলচ্চিত্র স্বপ্নজাল। যা ইতিমধ্যে দর্শকের প্রশংসা কুঁড়িয়েছে। সে স্বপ্নজালের জাল বুননের গল্প শুনতে গিয়েছিলেন মাহবুবর রহমান সুমন।

যে কারণে তাঁরা স্বপ্নজালে

স্বপ্নজালের প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইয়াশ রোহান ও পরীমণি। ছবিতে তাঁদের নাম অপু রহমান ও শুভ্রা। পরিচালক ইয়াশকে চিনতেন আগে থেকেই। একসঙ্গে কয়েকটি কাজও করেছেন। কাহিনি লেখার সময় থেকেই অপুর চরিত্রে পরিচালক গিয়াসউদ্দিন সেলিম ইয়াশকে ভেবে রেখেছিলেন। ‘আসলে একটি ইনোসেন্ট ফেস চাইছিলাম।’ তবে নায়িকা শুভ্রার খোঁজ পেতে ঝামেলা পোহাতে হয়েছে সেলিমকে। কয়েক মাস ধরেই অডিশন চালিয়েছেন। কিন্তু কাউকেই মনে ধরছিল না। হঠাৎই পরীমণির কথা মনে পড়ে। ভালো করে ভেবেচিন্তে বুঝলেন, এটাই তাঁর শুভ্রা। ফজলুর রহমান বাবু ছবিটিতে আয়নাল গাজী চরিত্রে অভিনয় করেছেন। পরিচালক তাঁকে নিয়ে বলছিলেন, ‘এই চরিত্রের জন্য এমন একজনকে প্রয়োজন ছিল যে সুস্থ মানুষ থেকে ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে ভেঙে পড়বে। বাবু ভাইয়ের সঙ্গে আমার অনেক দিনের জানাশোনা। আমি জানতাম তিনি ভিন্ন আর কেউ এ চরিত্র সেভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারবেন না।’

যেখানে স্বপ্নজাল

দেড় বছর ধরে থেমে থেমে চলেছে স্বপ্নজালের শুটিং। মোট ৫৪ দিন শুটিং হয়েছে। এর মধ্যে চাঁদপুরে ৩০ দিন, কলকাতায় ১৫ দিন আর বাকি দিনগুলোয় শুটিং হয়েছে পদ্মার চরে ও কিশোরগঞ্জের হাওরে। গল্পের শেষ দৃশ্যে শুভ্রাকে পানির মধ্যে ছুটতে দেখার দৃশ্যটি ওই হাওরের। ছবির প্রথম গানের শুটিংও হয়েছে হাওরে। হাওরের শুটিং নিয়ে পরিচালক বলছিলেন, কিশোরগঞ্জের নিকলীতে যেতে কষ্ট করতে হয়। উপরন্তু আমাদের দরকার ছিল রোদ অথচ সে সময় গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। যাহোক একসময় সূর্যের দেখাও পেয়েছিলাম কিন্তু সমস্যা বেধেছিল মানুষ নিয়ে। হাজার হাজার মানুষ নৌকা নিয়ে শুটিং দেখতে এসেছিল। শট নেওয়ার মতো ফাঁকা জায়গাও পাচ্ছিলাম না। আমাদের ভলান্টিয়াররা হাল ছেড়ে দিলে আমি মাইকে বললাম, ‘দয়া করে দক্ষিণ দিকটা ফাঁকা করে দিন।’ তাতে কাজ হয়েছিল।

একটি সংলাপ

আমার মনটাকে তোমার কাছে রেখে গেলাম, মনটাকে মোর বসতে দিয়ো, মুড়ি-মুড়কি খেতে দিয়ো, জলের গ্লাস দেওয়ার ছলে একটু শুধু ছুঁয়ে দিয়ো—সংলাপটি খুবই জনপ্রিয় হয়েছে। পরিচালকের কাছে জানতে চেয়েছিলাম এর শুটিং সময়ের কথা।

‘সেদিন সকালে আমি খুব রেগে উঠি আর চিৎকার করে কথা বলতে থাকি। এতে সবার মন খারাপ হয়। আর তার মধ্যেই সংলাপটি ধারণ করা হয়েছিল। এই ছবিতে কান্নার দৃশ্যে আমরা গ্লিসারিন ব্যবহার করিনি। সেটে এমন পরিবেশ তৈরি করতাম যেন দৃশ্যটা আপনা থেকেই তৈরি হয়।’

চাঁদপুরে লাফ

‘চাঁদপুরে শুটিংয়ের সময় আমরা বজরায় থাকতাম। প্রতিদিন সকাল ৯টায় শুটিং শুরু হতো আর শেষ হতে রাত ৯টা বেজে যেত। তারপর আড্ডা দিতে বজরার ছাদে চড়ে বসতাম। পুরো বজরা মশারিতে ঢাকা থাকত। একদিনের ঘটনা শুনুন, প্রতি সাত দিন পর একটি করে ডে অফ থাকত আমাদের। সেটা একটা ডে অফের দিন ছিল। বজরার ছাদ থেকে ছেলেরা নদীতে লাফিয়ে লাফিয়ে পড়ছিল। একসময় ইয়াশ আর পরীমণিও লাফিয়ে পড়ল। তারপর আমিও লাফানোর লোভ সামলাতে পারলাম না। প্রচুর মজা করেছিলাম চাঁদপুরে।’

সংক্ষেপে স্বপ্নজাল

রহমান মিয়া ও হিরন সাহা দুই বন্ধু। হিরন সাহার মেয়ে শুভ্রা ও রহমান মিয়ার ছেলে অপু রহমানের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আয়নাল গাজীর সঙ্গে হিরন সাহার ঝামেলা বাধে। গাজীর কূটচালে হিরন সাহা পরিবার ভারতে চলে যেতে বাধ্য হয়। তখন অপু এপারে আর শুভ্রা ওপারে। কিন্তু প্রেম তো সীমানা মানে না। ১৪৭ মিনিট দৈর্ঘ্যের এ ছবিতে হিরন সাহার হত্যা রহস্যের কিনারাও হয়।

সূত্র : কালেরকণ্ঠ

পেইজ থ্রি ডেস্ক।।
নিউইয়র্কে অবস্থিত ‘ত্রিতাল বাংলা কমিউনিকেশন্স ইউএসএ’-র ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে যোগ দিয়েছেন শামীম শাহেদ। রেডিও-টেলিভিশনসহ বেশ কিছু কার্যক্রম রয়েছে এই প্রতিষ্ঠানটির। ‘রেডিও ত্রিতাল বাংলা’ শিরোনামে রেডিওটি এখন শুনতে পাওয়া যাচ্ছে। মিডিয়ার পাশাপাশি অন্যান্য বানিজ্যিক কার্যক্রমও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
বাংলাদেশে শামীম শাহেদ একজন সাংবাদিক, অভিনেতা ও টেলিভিশন ব্যাক্তিত্ব হিসেবেই বেশি পরিচিত। তিনি এর আগে কাজ করেছেন বাংলাভিশন (অনুষ্ঠান প্রধান), একুশে টেলিভিশন (অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপক), প্রথম আলো (সিনিয়র সাব-এডিটর), ভোরের কাগজ (সাব-এডিটর), এশিয়ান ডেভলপমেন্ট ব্যাংক সাপোর্টেড প্রজেক্ট-ইউজিপ (মিডিয়া স্পেশালিস্ট), বিশ^সাহিত্য কেন্দ্র এবং বিজ্ঞাপনি সংস্থা বিটপির ক্রিয়েটিভ সেকশনে। ছিলেন শান্ত-মরিয়ম ইউনিভার্সিটি এবং ডেফোডিল ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক। পাশাপাশি তিনি কাজ করেছেন ইউনিসেফ মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড এর একজন বিচারক হিসেবেও।

পেইজ থ্রি ডেস্ক।।

জাহিদ সবুর গুগলে যোগ দিয়েছেন ২০০৭ সালে। গুগলের জুরিখ ক্যাম্পাসে তিনি এখন টেকনিক্যাল লিড ম্যানেজার। মাহবুবর রহমান সুমনকে হয়ে ওঠার গল্প শুনিয়েছেন

আমাদের বাড়ি পটুয়াখালী। কিন্তু আমার জন্ম সৌদি আরবে। বাবা অধ্যাপনা করতেন কিং ফয়সাল বিশ্ববিদ্যালয়ে। আমার যখন আট বছর বয়স তখন আবার সবাই দেশে ফিরে আসি। আমাকে ভর্তি করানো হয়েছিল মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে। পরবর্তীতে চলে যাই অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে। ব্যাডমিন্টন আর ক্রিকেট খেলতে খুব পছন্দ করতাম। ইলেকট্রনিকস বিষয়েও আমার আগ্রহ ছিল অনেক। সার্কিট বানাতেও শিখে গিয়েছিলাম ওই বয়সে। অনেক দিন গেছে পড়াশোনা বাদ দিয়ে শুধু সার্কিট বানিয়ে গেছি। মা বরং উৎসাহ দিয়েছেন। স্টেডিয়াম মার্কেটে নিয়ে গিয়ে ইলেকট্রনিক পার্টস খুঁজে দিয়েছেন। স্কুলবেলাতেই অনেক বই পড়ার সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলাম। আমার বড় বোনের বড় একটা লাইব্রেরি ছিল।

মুখস্থবিদ্যায় দুর্বল ছিলাম

সার্কিটটার্কিট বানাতে গিয়ে ইলেকট্রিক শক খেতাম। ঝালাই করতে গিয়ে একবার হাত পুড়েও গিয়েছিল। মা একটা কোর্স করার পরামর্শ দিলেন। স্কুলের বিজ্ঞান মেলায় বরাবরই প্রথম হতাম। তবে ক্লাসে কিন্তু নিচের দিকে থাকত রোল নম্বর। মুখস্থবিদ্যায় আমি দুর্বল ছিলাম। তবে ও লেভেলে ভালো রেজাল্ট করেছিলাম। কিন্তু এ লেভেলে খুব খারাপ অবস্থা হয়েছিল। এক বছরের মাথায় মাত্র দুটি বিষয়ে পরীক্ষা দিতে পেরেছিলাম। ওই রেজাল্ট নিয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়াও সম্ভব ছিল না। ওদিকে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার খরচ জোগানো আমার জন্য কঠিন ছিল। তাই কম্পিউটার বিষয়ে কোর্স করতে গেলাম। ইন্টারনেট আর নেটওয়ার্কিংয়ে আমার দক্ষতা গড়ে উঠল দ্রুতই। তারপর টেক উদ্যোক্তাদের মতো একটি বিজনেস প্ল্যান দাঁড় করিয়ে ফেলি। লোন নিতে ব্যাংকেও গিয়েছিলাম।

কোর্টে হাজিরা দিতে হয়েছিল

তখন গ্রামীণ সাইবারনেট ছিল দেশের বড় আইএসপিগুলোর একটি। হঠাৎ কী হলো একদিন তাঁদের ডোমেইনের মালিকানা ও ডিএনএস কনফিগারেশন আমার কাছে ট্রান্সফার হয়ে গেল। তাদের ব্যবহারকারীদের সব ই-মেইল আসা শুরু হলো আমার কাছে। আমি তাদের সিস্টেম হ্যাক করেছিলাম কি না বলতে পারব না। মানে ঘাঁটাঘাঁটি করতে করতে কিছু একটা হয়ে থাকতে পারে। যা হোক মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে বুঝতে পারার সঙ্গে সঙ্গেই সব কিছু স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে কাজ করতে থাকলাম। সংবাদপত্রে ‘এক কিশোরের গ্রামীণ সাইবারনেট হ্যাকিং’ শিরোনামের খবরও ছাপা হয়েছিল। বহুদিন কোর্টে হাজিরাও দিতে হয়েছিল। যা হোক হ্যাকিং ব্যাপারটি আমাকে বড় সুযোগও এনে দিয়েছিল। দেশের আরেকটি বড় আইএসপি ব্র্যাকনেটের ডোমেইন হ্যাক হয়ে গিয়েছিল একবার। তারা সেটি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে আমার সহায়তা চেয়েছিল। তবে আমি কিন্তু বুঝতে পেরেছিলাম, হ্যাকিং যতই আকর্ষণীয় হোক এটা আসলে বিশাল অপচয়। বরং গঠনমূলক কাজে সময় দেওয়াই ভালো।

একটা বিজ্ঞাপন দেখলাম

নতুন একটা আইএসপির (ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার) বিজ্ঞাপন ছাপা হয়েছিল পত্রিকায়। তারা সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেটর চাইছিল। ওয়াক-ইন ইন্টারভিউ। আমি ইন্টারভিউ দিয়ে পরদিন থেকেই কাজ করতে শুরু করলাম। মাস ছয়েকের মধ্যেই আমাদের গ্রাহক সংখ্যা দুই হাজারের বেশি ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তখন সারা দেশেই মূলত টেলিফোনের মাধ্যমে ডায়াল-আপ ইন্টারনেট সার্ভিস প্রদান করা হতো। যা হোক এর মধ্যে আমি এআইইউবিতে অ্যাডমিশনও নিয়েছিলাম। মা-বাবার উৎসাহে পড়াশোনায় মন দিলাম। সুখের কথা হলো, শেষ পর্যন্ত সিজিপিএ চারে চার নিয়ে পাস করি। এআইইউবির ইতিহাসে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রগ্রামে সেটাই প্রথম পারফেক্ট ৪.০।

যেভাবে গেলাম গুগলে

তৃতীয় সেমিস্টারে প্রগ্রামিং ল্যাংগুয়েজের ক্লাস পেয়েছিলাম। ওই সময় থেকেই প্রগ্রামিংয়ে আমার নেশা ধরে গেল। অনলাইনে প্রগ্রামিং প্রবলেম সমাধান করা শুরু করলাম। পরের দুই বছরে এক হাজার ২০০ বা এক হাজার ৩০০ প্রবলেম সলভ করলাম। সে সময় স্পেনের ভ্যালাডলিড বিশ্ববিদ্যালয় ছিল প্রগ্রামিংয়ের সেরা প্ল্যাটফর্ম। তাদের র‌্যাংকিংয়ে আমি ১৫ নম্বরে উঠে গিয়েছিলাম। ২০০৪ সালে বুয়েটের সিএসই ডেতে আমার প্রগ্রামিং টিম চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। তখনকার বিশ্বে দলগত প্রগ্রামিং প্রতিযোগিতার সেরা আসরের নাম এসিএম ইন্টারন্যাশনাল কলেজিয়েট প্রগ্রামিং কনটেস্ট। ওয়ার্ল্ড ফাইনালিস্ট দলগুলোর সাক্ষাৎকার নিত বড় বড় সব টেক কম্পানি। আমার টিম দু-দুবার খুব কাছে চলে গিয়েছিল। আর একক প্রতিযোগিতায় জনপ্রিয় ছিল টপ কোডার। একসময় গুগল এখানে কোড জ্যাম নাম দিয়ে একটি গ্রগ্রামিং কনটেস্ট চালু করে। ফাইনাল ছাড়া অন্য পর্বগুলো হতো অনলাইনে। শেষ পর্বটা যখন চলছিল তখন হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। আমার ইউপিএস বা জেনারেটর কিছুই ছিল না। কম্পিউটার বন্ধ হয়ে গেল। অন্ধকারে বোকার মতো বসে রইলাম। কিন্তু জেদ চেপে গেল। বিদ্যুৎ আসামাত্রই কম্পিউটার অন করে ফটাফট কোড শেষ করে আর কিছু না ভেবে জমা দিয়ে দিলাম। কয়েক সেকেন্ড মাত্র বাকি ছিল। আমি ফাইনালের জন্য সিলেক্ট হলাম। ফাইনালিস্টদের গুগল নিয়ে গেল তাদের অফিসে। প্রতিযোগিতা শেষে পুরস্কার দেওয়া হলো আর ঘোষণা করা হলো, আগামী দিন হবে ইন্টারভিউ। আমি বিরাট এক ঘুম দিয়ে সকালে ইন্টারভিউর জন্য হাজির হয়ে গেলাম। কিন্তু ইন্টারভিউটা মোটামুটি হলো। প্রথম প্রথম ভালোই হচ্ছিল, শেষ দিকটায় গোলমাল বেঁধে গিয়েছিল। দেশে ফিরে এলাম। তারপর কয়েক দিন পর ই-মেইল পেলাম। আরেকটি ইন্টারভিউ দিতে হবে, ফোনে। দিলাম। তারপর আবার অনেক দিন পর পর সিভি চাইল, সার্টিফিকেট চাইল, রেফারেন্স চাইল। শেষে মেইলটা এসেই গেল। গুগল আমাকে জব অফার দিল। একপর্যায়ে ভিসার ঝামেলা মিটিয়ে আমি উড়াল দিলাম। ক্যালিফোর্নিয়ায় গুগলের হেডকোয়ার্টার।

গুগলে যা যা করি

আমার পদবি হলো সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। গুগলের ব্যাকএন্ড সিস্টেম নিয়ে ছিল আমার প্রথম প্রকল্প। গুগল যে সার্ভিসগুলো দেয় সেগুলো উন্নত ও বিস্তৃত করার কাজ ছিল সেটি। প্রগ্রামিং জানি বলেই আমার জন্য কঠিন ছিল না কাজটি। খুব দ্রুতই সমস্যার সমাধান বের করে কোড করে ফেলতাম। তাই আমার ম্যানেজার বেশির ভাগ কঠিন কাজ নিয়ে আমার কাছেই আসতেন। একসময় বড় বড় সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব পেলাম। সেগুলোর জন্য প্রথমে কারিগরি নকশা করতে হতো। সিনিয়র ইঞ্জিনিয়াররা সেগুলো করে দিতেন। তারপর আমরা কয়েকজন মিলে সেগুলোর কোডিং করতাম। একটা সময় আমি গুগলের কোড বেইজে এক নম্বর ইঞ্জিনিয়ার হয়ে গেলাম।

আমি কিন্তু আসলে ইঞ্জিনিয়ার

গুগলের অর্গানোগ্রামে দুটি শাখা। একটি ম্যানেজার অন্যটি ইঞ্জিনিয়ার। প্রমোশন পেতে পেতে আপনি সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার হতে পারেন। আর ব্যবস্থাপনায় গেলে সিনিয়র ম্যানেজার ইত্যাদি হতে পারেন। আমি ইঞ্জিনিয়ারই হতে চেয়েছি। আমি তাই সিনিয়র স্টাফ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার মানে টেকনিক্যাল লিড হলাম। জুরিখে আমার টিমে প্রায় ৫০ জন ইঞ্জিনিয়ার আছেন। আমি এখানে ইঞ্জিনিয়ারদের ম্যানেজার। এই ইঞ্জিনিয়ারদের বেতন, বোনাস, গ্রেডিং—সব আমিই করি। আমি এখন গুগলের শেয়ারহোল্ডারও (এটা অবশ্য স্থায়ী কিছু নয় বরং প্রকল্পনির্ভর)। গুগল সার্চ, গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট, গুগল প্লাস প্রকল্পে আমার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

২০১৩ সালে গুগল সার্চ টিমে যোগ দিই। তখন সার্চের জন্য কিছু নতুন ফিচার তৈরির সুবাদে প্রমোশনও পেয়েছিলাম। ফিচারগুলোর একটি ছিল লাইভ টেলিভিশন প্রগ্রামের ভোটিং হোস্ট করা। তখন আমেরিকার বড় লাইভ টিভি শো ছিল আমেরিকান আইডল। সেটির ভোটিং হোস্ট করার সুযোগ তৈরি হয়ে যায় ওই ফিচারটির বদৌলতে। অনুষ্ঠানের দিন আমাকে বাহবা দিতে এসেছিলেন গুগল সার্চের ভাইস প্রেসিডেন্ট। বলেছিলেন, তুমি একটি স্বপ্নকে সম্ভব করলে।’ আবার দেখুন, গুগলে ভয়েস সার্চ উন্নত করতে গিয়েই কিন্তু একটি নতুন ইন্টারফেসের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি। আর তা থেকেই জন্ম নেয় গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট। গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট উন্মুক্ত হওয়ার পর ২০১৬ সালে আরেকটি প্রমোশন পাই। সারা পৃথিবীতে প্রায় আধা লাখ কর্মী গুগলের। এখন আমার ওপরে আছেন মাত্র ৪০০-৫০০ জন। আমি মনে করি, সার্চ যদি গুগলের শুরু হয় তবে অ্যাসিস্ট্যান্ট হচ্ছে গুগলের ভবিষ্যৎ।

জুরিখ অফিস

প্রথম যখন আসি, তখন জুরিখ অফিসে ভবন একটিই ছিল। কিন্তু ভবনটি ছিল অসম্ভব সুন্দর। হেডকোয়ার্টারে মানুষ অনেক বেশি। ভবনও অনেক। জুরিখ অফিসে সে তুলনায় মানুষও অনেক কম। আমেরিকায় মানুষ খালি দৌড়ায়। কথার সঙ্গে কাজের মিলও কম। জুরিখে কিন্তু উল্টো। এই দেশটায় অপরাধ নেই বললেই চলে। আমি গুগলকে ধন্যবাদ জানাই জুরিখে আমাকে ট্রান্সফার করার জন্য। এখানে জীবন অনেক সুন্দর। পৃথিবীর অনেক দেশ ঘুরেছি, এমন দেশ সত্যি দেখিনি।

সূত্রঃ কালেরকণ্ঠ