লাইফস্টাইল ডেস্ক।।

১. ত্বকের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটবে: ডাবের পানি হল প্রকৃতিক টোনার, যা ত্বককে সংক্রমণ থেকে বাঁচানোর পাশাপাশি সার্বিকবাবে স্কিনের ঔজ্জ্বলতা বাড়াতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই সঙ্গে ব্রণর প্রকোপ কমাতেও এই প্রাকৃতিক উপাদানটি সাহায্য করে থাকে।

২. ওজন কমবে: ডাবের পানি উপস্থিত বেশ কিছু উপকারি এনজাইম হজম ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি মেটাবলিজমের উন্নতিতেও সাহায্য় করে থাকে। ফলে খাবার খাওয়া মাত্র তা এত ভাল ভাবে হজম হয়ে যায় যে শরীরের অন্দরে হজম না হওয়া খাবার মেদ হিসেবে জমার সুযোগই পায় না। ফলে ওজন কমতে শুরু করে। প্রসঙ্গত, ডাবের জল শরীরে লবনের মাত্রা ঠিক রাখে। ফলে ওয়াটার রিটেনশন বেড়ে গিয়ে ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কাও হ্রাস পায়।

৩. ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে থাকবে: ডাবের পানি উপস্থিত ভিটামিন সি, পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে থাকে। সম্প্রতি ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান মেডিকেল জানার্লে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে পটাশিয়াম শরীরে লবনের ভারসাম্য ঠিক রাখার মধ্যে দিয়ে ব্লাড প্রেসারকে স্বাভাবিক রাখে। তাই যাদের পরিবারে এই মারণ রোগটির ইতিহাস রয়েছে, তাদের নিয়মিত ডাবের জল খাওয়া উচিত। একই নিয়ম যদি রক্তচাপে ভোগা রোগীরাও মেনে চলেন, তাহলেও দারুন উপকার মেলে।

৪. ব্লাড সুগারকে বেঁধে রাখবে: ২০১২ সালে হওয়া জার্নাল ফুড অ্যান্ড ফাংশন স্টাডিসে দেখা গিয়েছিল ডাবের জলে থাকা অ্যামাইনো অ্যাসিড এবং ডায়াটারি ফাইবার ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

৫. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হবে: রাইবোফ্লবিন, নিয়াসিন, থিয়ামিন এবং পাইরিডোক্সিনের মতো উপকারি উপদানে ভরপুর ডাবের পানি প্রতিদিন পান করলে শরীরের অন্দরের শক্তি এতটা বৃদ্ধি পায় যে জীবাণুরা কোনওভাবেই ক্ষতি করার সুযোগ পায় না। সেই সঙ্গে ডাবের জলে উপস্থিত অ্যান্টি-ভাইরাল এবং অ্যান্টি-ব্য়াকটেরিয়াল প্রপাটিজ নানাবিধ সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৬. শরীরে পানির ঘাটতি দূর হবে: ডাবের জল শরীরের অন্দরে প্রবেশ করা মাত্র জলের ঘাটতি মিটতে শুরু করে। সেই সঙ্গে এতে উপস্থিত ইলেকট্রোলাইট কম্পোজিশান ডায়ারিয়া, বমি এবং অতিরিক্ত ঘামের পর শরীরে ভিতরে খনিজের ঘাটতি মেটাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই কারণেই তো গরমকালে ডাবকে রোজের সঙ্গী করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা।

৭. হার্টের টনিক: শরীরে বাজে কোলেস্টেরল বা এল ডি এল-এর পরিমাণ কমিয়ে হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে ডাবের পানির কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। শুধু তাই নয়, দেহে ভাল কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়িয়ে হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা কমাতেও ডাবের পানি বিশেষ ভূমিকা নিয়ে থাকে।

৮. মাথা যন্ত্রণা দূরে থাকবে: ডিহাইড্রেশনের কারণে মাথা যন্ত্রণা বা মাইগ্রেনর অ্যাটাক হওয়ার মতো ঘটনা ঘটলে শীঘ্র এক গ্লাস ডাবের পানি খেয়ে নেবেন। এমনটা করলে দেখবেন নিমেষে কষ্ট কমে যাবে। আসলে এই প্রকৃতিক উপাদানটিতে উপস্থিত ম্যাগনেসিয়াম, এই ধরনের শারীরিক সমস্যার চিকিৎসায় বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৯.শরীরের বয়স কমবে: খাতায় কলমে বয়স বাড়লেও শরীরের বয়স কি ধরে রাখতে চান? তাহলে আজ থেকেই ডাবের পানি খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন উপকার পাবেন। আসলে ডাবের পানি রয়েছে সাইটোকিনিস নামে নামে একটি অ্যান্টি-এজিং উপাদান, যা শরীরের উপর বয়সের ছাপ পরতে দেয় না। সেই সঙ্গে ত্বকের সৌন্দর্য বাড়াতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

১০. কিডনি ফাংশনের উন্নতি ঘটবে: প্রচুর মাত্রায় পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম থাকার কারণে ডাবের পানি কিডনির কর্মক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই সঙ্গে শরীরে উপস্থিত টক্সিন উপাদানদের ইউরিনের সঙ্গে বের করে দিয়ে নানাবিধ জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমায়।

১১. স্ট্রেস কমবে: বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে ডাবের পানি উপস্থিত ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম শরীরের অন্দের প্রবেশ করার পর একদিকে যেমন স্ট্রেস কমায়, তেমনি পেশীর সচলতা বৃদ্ধিতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এখানেই শেষ নয়, ডাবের জলে থাকা ক্যালসিয়াম দাঁত এবং হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতিতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

ছবি ও তথ্য – ইন্টারনেট ।

পেইজ থ্রি ডেস্ক।।
গ্যাস্টিকের সমস্যায় ভূগছেন না এমন মানুষ হয়তো খুঁজে পাওয়া কঠিনই হবে। মূলত ভাজাপোড়া খাবার খেলেই বেশি হয়ে থাকে। অনেকেরই এ সব খাবার খাওয়ার পরে পেট ব্যথা বা বুকে ব্যথা কিংবা বদ হজম হয়। অথচ এই সমস্যা দূর করার জন্য ওষুধ না খেয়ে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে জেনে রাখুন কিছু ঘরোয়া উপায়-

১। আধা ইঞ্চি পরিমাণ কাঁচা আদা নিন। তারপর অল্প একটু লবন মাখিয়ে খেয়ে ফেলুন। আদা খাওয়ার কিছুক্ষণ পর এক কাপ কুসুম গরম জল খান। গভীর রাতে আর গ্যস্ট্রিকের সমস্যা হবে না।

অথবা

২। এক গ্লাস জল একটি হাড়িতে নিয়ে চুলায় বসান। এর আগে এক ইঞ্চি পরিমাণ কাঁচা হলুদ জলে দিয়ে দিন। জল অন্তত পাঁচ মিনিট ফুটতে দিন। জল ঠাণ্ডা হলে হলুদসহ খেয়ে ফেলুন। গ্যাস্ট্রিক দৌঁড়ে পালাবে।

অথবা

৩। শুধুমাত্র এক গ্লাস জলে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পান করুন। কখনোই রাতে পেট বা বুক ব্যথা করবে না।

পেইজ থ্রি ডেক্স।।

অনেকেই ধূমপান থেকে চিরতরে মুক্তি পেতে চান, কিন্তু নানা কারনেই নিজেদেরকে ধূমপান থেকে দূরে রাখতে পারেন না। এর কারণ হতে পারে কিভাবে ধূমপান ছাড়া যায় তা সম্পর্কে জ্ঞান না থাকা। কিন্তু এমন কিছু বৈজ্ঞানিক উপায় আছে যাতে ধূমপানের অভ্যাস ত্যাগের প্রক্রিয়াটি যেতে পারে নির্বিঘ্নে। দেখে নিন কার্যকর এবং বৈজ্ঞানিক উপায়ে ধূমপান ত্যাগের ১০টি কৌশল।

নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট

ধূমপানের কারণে শরীরে তৈরি হয় নিকোটিনের ওপরে নির্ভরশীলতা। আর তাই ধূমপান হঠাৎ করে ছেড়ে দিলে শরীর নিকোটিন থেকে বঞ্চিত হয় এবং দেখা যায় বিভিন্ন লক্ষণ। শরীরে যদি অন্য কোনও উপায়ে নিকোটিনের সরবরাহ দেওয়া যায় তবে ধূমপানের ওপরে নির্ভরশীলতা কমে আসে। এর জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে নিকোটিন প্যাচ বা নিকোটিন চুইং গাম।

একটা দিন ঠিক করে ফেলা

ভাবুন আপনার একটা পরীক্ষা আছে, তাহলে আপনি সেই পরীক্ষার জন্য আগে থেকেই পড়াশোনা করবেন অনেক, তাই না? ঠিক সেভাবে একটা দিন ঠিক করুন যার মাঝে ধূমপান ছারতে হবে আপনার। তাহলে আপনার মাঝে একটা তাগিদ থাকবে। তবে দিনটা বেশি প্রলম্বিত করবেন না। ঠিক করে রাখুন আপনি ছয় মাস বা এক বছরে পরের কোনও একটি দিনের মাঝে ধূমপানের অভ্যাস পুরোপুরিভাবে ছেড়ে দেবেন।

কখন কখন ধূমপান করছেন তা লিখে রাখুন

একটা নোটবই নিন। যতবার ধূমপান করছেন ততবার লিখে রাখুন। এরপর সেই লেখাটা দেখলেই নিজের ওপরে রাগ হবে আপনার। মনে হবে, এতবার ধূমপান করলাম? এর থেকে আপনি নিজের অজান্তেই কমিয়ে ফেলবেন ধূমপান। শুধু তাই নয়, কোন কোন কাজের পড়ে আপনি ধূমপান করছেন তার ব্যাপারেও আপনি সতর্ক হবেন।

কাউন্সেলিং

কাউন্সেলিং শুধুমাত্র মানসিক সমস্যার জন্যেই নয় বরং এমন ক্ষতিকর সব অভ্যাস দূর করার ক্ষেত্রেও কাজে আসে।

প্রিয়জনের সাহায্য নিন

শুধুমাত্র পেশাদার সাহায্য নয়, আপনার কাছের মানুষেরাও কিন্তু আপনার এই অভ্যাস দূর করতে সাহায্য করতে পারে অনেক। তাদের সাহায্য নিন। তারা আপনার অনেক কাছে থেকে আপনার উপকার করতে পারে।

খালি হাতের ব্যায়াম

ধূমপান ছাড়া থাকতে থাকতে যখন খুব ধূমপানের ইচ্ছে করবে এবং শারীরিক কষ্ট হবে, তখন ৫-১০ মিনিট ব্যায়াম করুন। এতে আপনার মনোযোগ অন্যদিকে চলে যাবে এবং এই সময়ের মাঝে ধূমপানের ইচ্ছেটা চলে যাবে।

ওয়েট লিফটিং

শুধু খালি হাতে ব্যায়াম নয়, ছোটখাটো ভারোত্তোলন যে ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে উপকারি হতে পারে তা দেখা গেছে বেশ কিছু গবেষণায়। এর জন্য অফিসের ডেস্কে রাখতে পারেন অজন্দার কিছু এবং ধূমপানের ইচ্ছে হলে তাকে ব্যবহার করতে পারেন।

টেক্সট মেসেজিং

এটা আমাদের দেশের জন্য খুব একটা প্রযোজ্য নয় বটে। পাশ্চাত্যের কিছু দেশে এমন সুবিধে আছে যে যারা ধূমপান ছাড়তে আগ্রহী তাদের ফোনে একটা নির্দিষ্ট সময় পরপর ধূমপান ছাড়ার উপকারিতা এবং ধূমপানের অপকারিতা সম্বলিত টেক্সট মেসেজ আসবে। আপনি যা করতে পারেন তা হলো, পরিচিত মানুষদের বলতে পারেন আপনাকে নিয়মিত আমন মেসেজ পাঠাতে। তবে আপনার মনে সব সময়েই ধূমপান থেকে দূরে থাকার তাগিদ থাকবে।

স্মার্টফোন অ্যাপ

অনেকেই এখন স্মার্টফোন ব্যবহার করে থাকেন এবং এগুলোতে ব্যবহার্য অনেক অ্যাপ আছে যা ধূমপান ছাড়তে আপনার উপকারে আসতে পারে। এমন কোনো একটি অ্যাপ নামিয়ে নিতে পারেন আপনি।

ই-সিগারেট
এত কিছুর পরেও আপনার ঠোঁটের মাঝে যদি একটি ক্যান্সার স্টিকের অভাব অনুভব করেন, তাহলে একটি ই-সিগারেট নিয়ে নিন। অনেকে দাবি করেন যে তাদের ধূমপান ছাড়তে এটা সাহায্য করেছে।

পেইজ থ্রি ডেস্ক।।
পরিমিত পানি না খেলে ক্ষতি হতে পারে শরীরের। সাধারণত, ৮ গ্লাস পানি খাওয়া উচিত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। শরীরের তাপমাত্রা ধরে রাখা থেকে হজমে সাহায্য করে পানি। আয়ুর্বেদে জল খাওয়ার ব্যাপারে কিছু নিয়ম রয়েছে।

– এক ঢোঁকে অনেক পরিমাণ পানি খাবেন না। আস্তে আস্তে পানি পান করুন। ঠিক যেভাবে একটু একটু করে খাবার খান।

– তৃষ্ণার্ত হলে শরীর সংকেত দেয়। একটা ইঙ্গিত, আপনার প্রস্রাবের রং। এর পাশাপাশি ঠোঁট শুকিয়ে গেলেও বুঝতে হবে আপনি তৃষ্ণার্ত।

– দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পানি খাবেন না। তা শরীরের জলীয় ভারসাম্যকে নষ্ট করে। এতে আর্থারাইটিসের সমস্যা হতে পারে। তাড়াহুড়ো না করে বসে পানি পান করুন। এতে আপনার স্নায়ুতন্ত্রে ঠিক থাকবে। হজমের সমস্যাও থাকবে না।

-সকালে ঘুম থেকে উঠেই পানি খান। এতে শরীরের টক্সিন বাইরে চলে যাবে। পরিস্কার থাকবে কিডনিও। প্রথমে দু’কাপ পানি খান। সকালে বেশি পরিমাণ পানি খেলে শরীর সুস্থ থাকে।

পেইজ থ্রি ডেস্ক।।

কাজের মধ্যে ডুবে থাকেন, কম ঘুমাচ্ছেন। মনে করছেন সব ঠিক রয়েছে। কিন্তু ভেতরে ভেতরে আপনি জটিল অসুখের শিকার হয়ে যাচ্ছেন!

বিজ্ঞানীদের দাবি, দিনে ৮ ঘণ্টার কম ঘুম আপনাকে ডিপ্রেসন ও অ্যাংজাইটির দিকে ঠেলে দিতে পারে। শুধু তাই নয় নিয়মিত ঘুমে ব্যাঘাতও আপনার মনঃসংযোগ ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। আর ৯ ঘণ্টা যারা কাজ করেন, তাঁদের অনেকের ক্ষেত্রে এটাই হয়ে থাকে।

বিনগামটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেরেডিথ কোলের দাবি, সাধারণত মানুষের একটা প্রবণতা হল কোনও একটি বিষয় নিয়ে চিন্তা করে যাওয়া। এর মধ্যে কিছু নেগেটিভ চিন্তাও থাকে। এইসব চিন্তাগুলিই অ্যাংজাইটি, ডিপ্রেশনের মতো জটিল সমস্যা ডেকে আনতে পারে।

সায়েন্স ডাইরেক্ট জার্নালে প্রকাশিত ওই গবেষণা অনুযায়ী, সময় ও প্রয়োজনমতো ঘুম মানুষের মস্তিস্ক থেকে নেগেটিভ চিন্তাভাবনা অনেকটাই কমিয়ে দেয়। এক্ষেত্রে কেউ ডিপ্রেশন বা অ্যাংজাইটির শিকার হলে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞদের প্রধান কাজই হল ঘুমতে যাওয়ার সময় ও ঘুমের সময় বেঁধে দেওয়া। ফলে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়ার আগে ঘুমের সময় ও পরিমাণ সম্পর্কে সচেতন হওয়া উচিত।

পেইজ থ্রি ডেস্ক।।
শরীরের বাড়তি মেদ কমাতে কেউ কেউ খাওয়া-দাওয়া কমিয়ে দিয়েছেন। মেনে চলছেন অনেক বিধি-নিষেধ। তারপরও কমছে না ওজন। দ্রুত শরীরের ওজন কমাতে ফলের বিকল্প নেই। নিচে ওজন কমাতে সহায়ক ৭টি ফল নিয়ে আলোচনা করা হলো :

আপেল : আপেলের পেকটিন ফাইবার পেট ভরানোর পাশাপাশি দেহে মেদের পরিমাণও কমাবে। ভারী খাবার খাওয়ার আগে আপেল খাওয়া তাই উপকারী।

তরমুজ : তরমুজ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। ওজন ঝরাতে সাহায্য করে। দিনে একটা তরমুজ খিদে কমিয়ে দেওয়ার সঙ্গে মেদ জমতেও দেবে না।

লেবু : লেবুতে আছে ভিটামিন সি ও সাইট্রিক অ্যাসিড। যা ওবেসিটির পরিমাণ কমায়।

নারকেল : নারকেল যকৃতের বিপাক হার বাড়িয়ে রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে প্রকারান্তরে নিয়ন্ত্রণে থাকে ওজন।

বেদানা : বেদানা দেহে লো ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিনের হার কমায়। খিদের হার কমায়।

পেঁপে : পেঁপে রক্তে শর্করার পরিমাণ কমিয়ে দেয়। রক্তে শর্করা ওবেসিটির লক্ষণ।

কমলালেবু : কমলালেবুতে প্রচুর পরিমাণে পানি, ভিটামিন ও ফাইবার থাকে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। ফলে শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।

পেইজ থ্রি ডেস্ক।।

শীতের ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় নার্ভগুলো সেনসিটিভ হয়ে যায়। এছাড়াও ঠাণ্ডায় রক্তসঞ্চালন কিছুটা ব্যাহত হলেও হাড়ের জয়েন্টের ব্যথা বেড়ে যেতে পারে। শীতে ব্যায়াম করা কমিয়ে দিলেও এই ব্যথা বেড়ে যেতে পারে।
শীতে জয়েন্টের ব্যথার জ্বালাতন থেকে মুক্তি পেতে জেনে নিন কয়েকটি টিপস

পুষ্টিকর খাবার: যাদের জয়েন্টের ব্যথার সমস্যা আছে তারা ভিটামিন ডি, সি এবং কে-যুক্ত খাবার খেতে পারেন। কমলা, বাঁধাকপি, পালং শাক, টমেটো ইত্যাদি খাবারে এসব ভিটামিন প্রচুর পরিমাণে আছে। এছাড়াও ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন ডি অথবা ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট নেয়া যেতে পারে।

প্রচুর পানি পান: প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা উচিত এই সময়টাতে। শীত কালে অনেকেই পানি কম পান করেন। কিন্তু জয়েন্টের ফ্লুয়িড ঠিক রাখার জন্য প্রচুর পানি পান করা উচিত এই সময়ে।

নি গার্ড অথবা নি সাপোর্ট: শীতে হাটুকে সুরক্ষিত রাখার জন্য নি গার্ড ব্যবহার করতে পারেন। এতে হুট করে পড়ে গেলেও হাঁটুতে আঘাত পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে। এছাড়াও হাঁটুতে ভালো সাপোর্ট পাওয়া যাবে।

ফিজিওথেরাপি: যাদের অার্থারাইটিস আছে তাদের নিয়মিত ফিজিওথেরাপি নেয়া উচিত। এতে জয়েন্টগুলো ফ্লেক্সিবল থাকে এবং ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এছাড়াও সঠিক নিয়মে যোগব্যায়ামের মাধ্যমেও জয়েন্টের ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। এছাড়াও নিয়মিত হাটা এবং ব্যায়াম চালিয়ে যাওয়া উচিত। এতে জয়েন্ট স্টিফ হওয়ার সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে। তবে ব্যায়ামের আগে অবশ্যই ওয়ার্ম-আপ করে নিতে হবে।

সঠিক জুতা নির্বাচন: জয়েন্টের ব্যথা থেকে দূরে থাকার জন্য সঠিক মাপের জুতা নির্বাচন করাও জরুরী। সঠিক মাপের জুতা না হলে হাঁটু, গোড়ালিতে চাপ পড়ে। এছাড়াও হাই হিল পড়লেও হাঁটুতে এবং কোমরে চাপ পড়ে। তাই সঠিক মাপের আরামদায়ক জুতা নির্বাচন করতে হবে এই সময়টাতে।

দীর্ঘ সময় দাঁড়ালে: কিছু চাকরিতে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। এক্ষেত্রে কিছুক্ষণ পর পর দাঁড়ানোর স্টাইল পরিবর্তন করুন। এছাড়াও শুধুমাত্র এক পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়ানোর অভ্যাস ত্যাগ করুন।

ধূমপান পরিহার: নিয়মিত ধূমপান করেন যারা তাদের জয়েন্টের সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। নিয়মিত ধূমপানে হাড় দুর্বল হয়ে যায়। তাই জয়েন্টের ব্যথা থেকে মুক্তি পেটে চাইলে ধূমপান পরিহার করুন। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

লাইফস্টাইল ডেস্ক।।

গাজর। এতে রয়েছে নিউট্রিয়েন্টস‚ ভিটামিন এ‚ সি‚ কে আর বি-৬। এছাড়াও আছে  প্যানথনিক অ্যাসিড‚ ফোলে‚ পটাসিয়াম‚ আয়রন‚ কপার এবং ম্যাঙ্গানিজ। এখানেই শেষ নয় এতে উপস্থিত বিটা ক্যারোটিন আর ফাইবার শরীরের জন্য খুব উপকারী।

গাজর সারা বছর পাওয়া যায়। দামও আকাশ ছোঁয়া নয়। এই সবজি কাঁচা বা রান্না করে দুই ভাবেই খাওয়া যায়। এর মিষ্টি আর ক্রাঞ্চি স্বাদ বড় এবং বাচ্চা সবারই ভালো লাগে।

গাজরের ১০টা উপকারিতা

১) চোখের দৃষ্টি ভালো করে  

গাজরে উচ্চ পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’ আছে, যা দৃষ্টিশক্তি ভালো করে। এছাড়াও বিটা ক্যারোটিন চোখের ছানি‚ গ্লকোমা‚ ম্যাকুলার ডিজেনারেশন দুরে রাখে।

২) ফাইটস ক্যান্সার

গাজরে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ক্যারোটিনয়েড থাকায় শরীরে ফ্রিradicals কমে। এছাড়াও শরীরের সহ্য শক্তি বাড়াতেও সাহায্য করে। রিসার্চ করে দেখা গেছে, গাজরে ফাইটো নিউট্রিয়েন্টস আর polyacetylenes আছে যা ক্যান্সারকে বাড়তে দেয় না। পরীক্ষা করে দেখা গেছে প্রতিদিন যদি আধা কাপ করে গাজরের রস খাওয়া হয়েছে তাহলে কয়েক সপ্তাহেই ফল পাওয়া গেছে।

এছাড়াও নিয়মিত গাজর খেলে লাং‚ প্রস্টেট আর colorectal ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমবে।

৩) হার্ট ভালো রাখে

হার্ট পেসেন্ট আর ব্লাড প্রেশারের পেশেন্টের জন্য গাজর খুব ভালো। কারণ এতে উপস্থিত বিটা ক্যারোটিন‚ আলফা ক্যারোটিন আর Lutein (এগুলো সবই অ্যান্টি অক্সিডেন্ট) কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে যার ফলে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার সম্ভাবনা কমে। এছাড়াও গাজরে উপস্থিত পটাসিয়াম কার্ডিওভ্যাসকুলার সিস্টেমের স্ট্রেস কমায়।

৪) ওরাল হেলথের উন্নতি ঘটায়

মুখের মধ্যে প্লাক জমতে দেয় না ফলে দাঁত আর মাড়ি ঠিক থাকে। এছাড়াও চিবিয়ে গাজর খেলে মুখে বেশি পরিমাণে থুতু তৈরি হয় যা মুখ পরিষ্কার রাখে। গাজর অ্যালক্যালাইন হওয়ায় মুখের ভেতরের অ্যাসিড লেভেল ঠিক থাকে যা মুখের মধ্যে ব্যাকটেরিয়া গ্রোথ হতে দেয় না। এছাড়াও এতে উপস্থিত ভিটামিস ‘সি’ দাঁত আর মাড়ি শক্ত করে।

৫) লিভারের সুরক্ষা করে

গাজরে উচ্চ পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’ আছে, যা শরীর থেকে ক্ষতিকারক টক্সিন বের করতে সাহায্য করে। এছাড়াও লিভারে ফ্যাট জমতে দেয় না। এছাড়াও গাজরের যে সলিউবল ফাইবার আছে তা লিভার পরিষ্কার রাখে। নিয়মিত গাজর খেলে হেপাটাইটিস‚ সিরোসিস আর cholestasis মতো অসুখ দুরে থাকে।

৬) ত্বকের উন্নতি ঘটায়

ভিটামিন ‘এ’ আর বিভিন্ন অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকায় ত্বকের জন্য গাজর খুব ভালো। এছাড়াও সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মির থেকেও ত্বককে বাঁচায় গাজর। গাজর ত্বক আর্দ্র রাখে ফলে অ্যাকনে‚ পিগমেন্টেশন এইসব হতে দেয় না। নিয়মিত গাজর খেলে ত্বক নরম এবং উজ্জ্বল হবে। সঙ্গে সঙ্গে উজ্জ্বল ত্বক পেতে অল্প একটুখানি গাজর গ্রেট করে তাতে অল্প মধু মিশিয়ে মুখে‚গলায় এবং হাতে লাগিয়ে নিন। শুকিয়ে গেলে হাল্কা গরম জল দিয়ে ধুয়ে নিন।

৭) হজম শক্তি বাড়ায়, পেট ঠিক রাখে

এই ক্রাঞ্চি রুট ভেজিটেবিলে উপস্থিত ডায়েটরি ফাইবার হজম শক্তি বাড়ায়। এতে উপস্থিত ফাইবার সহজেই শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ বের করতে সাহায্য করে। এছাড়াও ফাইবার গ্যাস্ট্রিক জুসের পরিমাণ বারিয়ে দেয় যা খাবার হজম করতে সাহায্য করে। নিয়মিত গাজর খেলে কস্টিপেশন‚ অম্বল‚বুক জ্বালা হতে দেয় না।

৮) স্ট্রোক থেকে বাঁচায়

হাভার্ড ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীদের মতে, যারা রোজ গাজর খায় তাদের স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা ৬৮% অবধি কমে যায়। এ কারণ এতে উপস্থিত বিটা ক্যারোটিন। তাই স্ট্রোক থেকে বাঁচতে সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন গাজর খাওয়া আরম্ভ করে দিন।

৯) রক্তে চিনির মাত্রা ঠিক রাখে

গাজরে এমনিতে বেশ ভালো পরিমাণেই চিনি আছে। কিন্তু তাও এটা ডায়বেটিক পেসেন্টের জন্য ভালো। গাজরে উপস্থিত প্রাকৃতিক চিনি সহজেই হজম হয়ে যায়। এছাড়াও এতে উপস্থিত ক্যারোটিনয়েডস রক্তে চিনির মাত্রা ঠিক রাখে। এছাড়াও আগেই বলেছি গাজর অ্যালকালাইন ফলে রক্তের চিনির মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

১০) বার্ধক্য দুরে রাখে

যদি বয়স ধরে রাখতে চান তাহলে আজ থেকেই গাজর খাওয়া আরম্ভ করে দিন। প্রমাণিত হয়ে গেছে গাজর অ্যান্টি এজিং। এর পিছনেও আছে গাজরে উপস্থিত বেটা ক্যারোটিন যা সেল ড্যামেজ রোধ করে। এছাড়াও এতে উপস্থিত ভিটামিন সি কোলাজেন উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। এই কোলাজেন ত্বকের Elasticity বজায় রাখে ফলে ত্বকে বলিরেখা‚ রিঙ্কল হতে দেয় না।

রান্নায় মশলা হিসেবে আদার ব্যবহার সম্পর্কে আমরা সবাই জানি। আদজল খেয়ে কাজে নেমে পড়ার প্রবাদটিও আমরা প্রায়ই ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন এর প্রকৃত অর্থ? কী কী গুণ থাকে এই আদাজলে, যে তা প্রবাদে পরিণত হয়েছে?

এবার জেনে নেওয়া যাক আদাজলের গুণ সম্পর্কে –

ব্যস্ত জীবনে অনেকেই জল কম খান। শরীরে জলের পরিমাণ কম থাকার ফলে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। আদাজল দেহে জলের সমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

হালকা শীতে ঠান্ডা লাগার প্রবণতা সব থেকে বেশি থাকে। এমন সময় সর্দি-কাশি সারাতে আদাজলের বিকল্প নেই।

শুধু সর্দি-কাশিই নয় আদাজল পেটের পক্ষেও ভীষণ উপকারী। এর নিয়মিত সেবন গ্যাসের সমস্যা কমায়। বমি কিংবা বমি বমি ভাব থেকে মুক্তি দেয়।

এখনকার দিনে খাওয়া-দাওয়াও ঠিক সময় হয় না। ফলে অনেকেই পেটের জ্বালার সমস্যায় ভোগেন। এই রোগের অব্যর্থ দাওয়াই আদাজল। খেলেই শান্তি।

সম্প্রতি একটি গবেষণায় জানা গিয়েছে, আদা রক্তে শর্করার পরিমাণ কমিয়ে দেয়। যাদের ডাইবেটিসের সমস্যা আছে তারা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আনতে আদাজল খাওয়া শুরু করতেই পারেন।

শোনা গিয়েছে, মাইগ্রেনের সমস্যায় যারা ভোগেন তারা প্রথম থেকেই আদা খাওয়া শুরু করলে উপকার পান। আদা শরীরের ব্যথা-বেদনা কমাতেও সাহায্য করে।

অস্ট্রেলিয়ার এক গবেষণায় দেখা গেছে, আদা শরীরের রক্তজমাট দূর করতে সাহায্য করে। রক্তের জীবাণু দূর করতেও এর জুড়ি নেই।

জানা গিয়েছে, রান্না করার চেয়ে কাঁচা আদার পুষ্টিগুণ রয়েছে। আদাজলের মাধ্যমে বহু রোগের জীবাণু ধ্বংস হয়। ক্যানসারের মতো মারণ রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও নাকি আদার জুড়ি মেলা ভার।

যারা ওজন নিয়ে সচেতন তাদের জন্যও আদাজল উপকারী। এর নিয়মিত সেবন অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সাহায্য করে।

পালং মূলতঃ একটি শীতকালীন শাক। অনেকেরই এটি বেশ পছন্দের। মৌসুমী সবজির তালিকাভুক্ত হওয়ায় অনেকেই প্রায় প্রতিদিন খাবারের মেনুতে এটিকে রাখতে পছন্দ করেন।

অনেকের তো দাবি চপ, কাবাব কিংবা পিজ্জার চেয়ে তারা এই পালং-কেই বেশি ভালবাসেন। তবে অনেকেই হয়ত জানেন যা, পুষ্টিগুণের পাশাপাশি এই শাকটির রয়েছে আশ্চর্য এক গুণ।

চিকিৎসকরা জানান, পালং শাক খেলে কোলেস্টরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। ভাল থাকে হার্ট। এমনকি ক্যানসারের সম্ভাবনাও কমে যায়। তাই এই মৌসুমি সবজি আজ থেকে প্রতিদিনই রাখুন আপনার খাদ্যতালিকায়।