পেইজ থ্রি ডেস্ক।।

কানাডিয়ান পপ তারকা জাস্টিন বিবার প্রেমিকা সেলেনা গোমেজের সাথে বাগদান সম্পন্ন করেছেন। শনিবার (৭ জুলাই) বাহামাসের একটি রিসোর্টে তাদের বাগদান হয়েছে বলে জানিয়েছে গার্ডিয়ান।

সেই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জাস্টিন-হেইলির বাগদান অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগে আমন্ত্রিত অতিথিদের ফোন বন্ধ রাখার অনুরোধ করেছিলেন জাস্টিনের নিরাপত্তারক্ষীরা। যাতে তাদের বাগদানের কোনো ছবি অন্তর্জাল দুনিয়ায় ছড়িয়ে না পড়ে।

যদিও বাগদানের বিষয়টি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেননি জাস্টিন। তবে জাস্টিনের বাবা জেরেমি বিবার ইনস্টাগ্রামে ছেলের একটি স্থিরচিত্র শেয়ার করে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ছেলের শেয়ার করা ছবিটির ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘তোমার জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ের জন্য আনন্দিত।’

 

পেইজ থ্রি ডেস্ক।।
প্রথম ছবিতেই অনস্ক্রিন নগ্ন হতে হবে। বিনিময়ে ছিল লোভনীয় প্রস্তাব। ইন্ডাস্ট্রিতে সদ্য পা দেওয়া মেয়েটি ফিরিয়ে দিয়েছিল সেই লোভনীয় অফার। তিনি হলিউড অভিনেত্রী পেনোলোপ ক্রুজ। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এ কথা স্বীকার করেছেন অভিনেত্রী।

ক্রুজ জানিয়েছেন, সে সময় তাঁর বয়স ২১। খুব ভাল অফার পেয়েও সে সময় তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। সদ্য সাগ আফ্টরা ফাউন্ডেশনকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেন, ‘‘আমাকে বলা হয়েছিল, স্ক্রিন টেস্ট দিতে পার। কিন্তু স্ক্রিপ্টে না থাকলেও কিছু নগ্ন দৃশ্যে অভিনয় করতে হতে পারে। তাতে রাজি তো?’’

এর পরই অফার ফিরিয়ে দিয়েছিলেন ক্রুজ। সে সময় তিনি নিজের মনের কথা শুনেছিলেন। ‘‘আজ আমার ৪৪ বছর বয়স। আজ বলতে পারি, সেদিন নিজের জন্য গর্ব হয়েছিল। এটাও মনে হয়েছিল, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আমি ওই মুহূর্তটা মনে রাখব’’ শেয়ার করেছেন অভিনেত্রী।

আনন্দবাজার

পেইজ থ্রি ডেস্ক।।

প্রথম ‘বন্ড গার্ল’ উনিস গেসন ৮ জুন মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। ১৯৬২ সালে প্রথম বন্ড ছবিতে তিনি শন কনারির বিপরীতে সিলভিয়া ট্রেঞ্চ-এর ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। তাঁর মাধ্যমেই ০০৭ প্রথম ‘বন্ড, জেমস বন্ড’ তকমা পেয়েছিল।

গতকাল ইউনিস গেসন অফিসিয়াল ট্যুইটার হ্যান্ডেল থেকে দেওয়া একটি পোস্টের মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। সেখানে লেখা হয়, আমাদের সবার প্রিয় ইউনিস গেসন গত ৮ জুন আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। অসাধারণ ছিলেন তিনি, অনুপ্রেরণাদায়ক। আমরা সবাই তাকে খুব মিস করব।

বন্ড সিরিজের প্রডিউসার মাইকেল জি উইলসন ও বারবারা ব্রকোলি একটি বিবৃতিতে জানান, আমাদের প্রথম বন্ড গার্লকে হারিয়ে আমরা শোকস্তব্ধ। চলে গেলেন ড. নো এবং ফ্রম রাশিয়া ইউথ লাভ এর সিলভিয়া ট্রেঞ্চ। তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা।

দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডের সুরেইতে ১৯২৮ সালে জন্ম নেওয়া ইউনিস গেসন ছবির পাশাপাশি ‘দ্য সেইন্ট অ্যান্ড দ্য অ্যাভেঞ্জার্স’ ও আরো কয়েকটি ক্লাসিক টিভি সিরিজেও অভিনয় করেন।
সূত্র : বিবিসি

পেইজ থ্রি ডেস্ক।।

পৃথিবী জুড়ে “টাইটানিক” ছবিটি দেখেনি এমন একজন সিনেমাপ্রেমী পাওয়া যাবে না ! আধুনিক ট্রাজেডির অনন্য উদাহরণ “টাইটানিক”। বিখ্যাত টাইটানিক জাহাজ ডুবে যাওয়ার কাহিনী নিয়ে ছবিটি বানানো। সেই ছবিটিরই হৃদয়বিদারক দৃশ্যে জ্যাকের মৃত্যু। এই মৃত্যু কোটি দর্শকের চোখ অশ্রুস্নাত হয়েছিল। দর্শকরা মেনে নিতে পারেনি জ্যাকের এমন মৃত্যু। তারা জ্যাক-রোজের সুন্দর পরিণতি দেখতে চেয়েছিলেন। জ্যাককে বাঁচানো যেত কিনা, এ নিয়ে হয়েছে তুমুল বিতর্ক। হয়েছে গবেষণাও!

গত বছর অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে ওয়েস্টমিনিস্টার স্কুলের দশ ছাত্রী মিলে “গাণিতিক হিসাব” দেখিয়ে দাবি করেছিল বাঁচানো যেত জ্যাককে!জ্যাক-রোজ বিরহের গত ২১ বছরে বৃদ্ধ তরুণ, সবাই বেদনাহত হয়েছেন। কিন্তু জ্যাকের মৃত্যু কেন অবধারিত ছিল, সে ব্যাপারে এতদিন মুখে কুলুপ আঁটলেও, এবার মুখ খুললেন পরিচালক জেমস ক্যামেরন।

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ান এক টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাতকারে জেমস ক্যামেরন বলেন, জ্যাককে যদি বাঁচিয়ে রাখা হতো, তাহলে এই ছবিটাই ব্যর্থ হয়ে যেত। এ ছবির উপসংহার অর্থহীন হয়ে যেত। কারণ এই ছবিই বিয়োগান্তক। মৃত্যু আর বিচ্ছেদই এর উপজীব্য। শিল্পকে অঙ্ক কষে বোঝা সম্ভব নয়। আমি চেয়েছিলাম এমন এক ছবি তুলতে, যার উপসংহার হবে বিষাদমধুর। চেয়েছিলাম, জ্যাকের জীবনীশক্তি রোজের মধ্যে সঞ্চারিত হোক। এই ভাবেই জ্যাক ‘বেঁচে থাকুক’। রোজের স্মৃতিতে সে চিরজাগরুক হয়ে থাকুক। এ আর এক রকমের বেঁচে থাকা।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ডিজাস্টার রোমান্টিক চলচ্চিত্র। এই সিনেমার পরিচালক বিখ্যাত মার্কিন চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব জেমস ক্যামেরন। মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন লিওনার্ডো ডিক্যাপ্রিও (জ্যাক ডসন) ও কেট উইন্সলেট (রোজ ডিউইট বিউকেটার)।

পেইজ থ্রি ডেস্ক।।
জনপ্রিয় হলিউড “রাশ আওয়ার” ছবির পরিচালক ব্রেট রেটনার। এই সিরিজের গত তিনটি সিনেমাই তুমুল ব্যবসা করেছে। এরপরও এই সিরিজের সিকুয়েল “রাশ আওয়ার ৪” পরিচালনা করার সুযোগ হারাচ্ছেন তিনি! নেপথ্য কারণ অভিনেত্রীদের যৌন হয়রানি!

গত বছর হার্ভি ওয়েনস্টিনের যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হলে, অনেকের পাশাপাশি অভিযুক্ত হন ব্রেট রেটনারও। অলিভিয়া মুন, নাতাশা হেনস্ট্রিজ সহ বেশ কয়েকজন নারী তাঁর বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ করেন। এদিকে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ওয়ার্নাস ব্রাদার্স সূত্রে জানা যায়, রেটনার সর্বত্র নিজেকে “রাশ আওয়ার” এর পরবর্তী সিকুয়েলের পরিচালক হিসেবে প্রচার করে বেড়াচ্ছেন।

সূত্রটি জোর দিয়ে বলেন, এই ফ্র্যাঞ্চাইজির কোনো ছবি হলেও রেটনার পরিচালক থাকবেন না। তাঁর কাজ করা মানে আত্মহত্যার সামিল। তবে রেটনারের সাথে ব্যবসায়িক সুসম্পর্ক থাকায় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান কিংবা সিইও কেউই রেটনারের ব্যাপারে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

পেইজ থ্রি ডেস্ক।।
গেলো বছর হার্ভি ওয়েনস্টিনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই,  সর্বত্রই যৌন হয়রানির প্রতিবাদে ঝড় ওঠে। মুখ খুলতে থাকেন হয়রানির শিকার হওয়া অভিনেত্রীরা। ফাঁস হতে থাকে রাঘব বোয়ালদের পর্দার আড়ালের রূপ! এবার ধরা পড়লেন মর্গান ফ্রিম্যান! একজন দুইজন নয়, ষোলজন নারী মর্গানের কীর্তি ফাঁস করেছেন! তাদের মধ্যে আটজন ভুক্তভোগী, বাকি আটজন সাক্ষী!

হলিউড সিনেমাপ্রেমীদের কাছে অতি পরিচিত নাম মর্গান ফ্রিম্যান। খুঁজে পাওয়া যাবে না, যিনি এই নাম শোনেন নি। হলিউডের প্রভাবশালী একজন অভিনেতা, যিনি অস্কার জিতেছিলেন একবার, মনোনয়ন পেয়েছিলেন চারবার। জিতেছিলেন গোল্ডেন গ্লোবও। এবার তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুললেন আট নারী।

একজন ভুক্তভোগী প্রোডাকশন সহযোগী, যিনি ২০১৫ সালে কাজ করেছিলেন মর্গান ফ্রিম্যানের Going in Style সিনেমায়। তিনি অভিযোগ করেন, ফ্রিম্যান অনুমতি ব্যতিরেকে তার হাত ধরতেন, হাত বুলাতেন পশ্চাৎদেশেও! ওই ভুক্তভোগী এক ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন এভাবে, “তিনি আমার স্কার্ট উপরে তোলার চেষ্টা করছিলেন আর জিজ্ঞাসা করছিলেন আমি আন্ডারওয়্যার পরেছি কিনা। পরে অ্যালান আরকিন (মার্কিন অভিনেতা) তাঁকে (ফ্রিম্যান) থামতে বললে ফ্রিম্যান হতবুদ্ধি হয়ে পড়েন।”

এভাবে ভুক্তভোগী আট নারী সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে তাঁদের বক্তব্য তুলে ধরেন। ফ্রিম্যানের সাবেক এক কর্মচারী বলেন, “এটা মেনে নেওয়া কষ্টকর। কারণ, যেকোনো সিনেমার সেটে ফ্রিম্যানই সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি। এটা অপ্রীতিকর, কেননা ফ্রিম্যানের মত সম্মানীয় কারও কাছ থেকে এটা আপনি আশা করেন না।”

পেইজ থ্রি ডেস্ক।।

বিশ্ব চলচ্চিত্রের মর্যাদাপূর্ন আসর কান চলচ্চিত্র উৎসব। উৎসব শুরু হয়েছিল ৮ মে । উদ্বোধনীতে প্রদর্শিত হয়েছে ‘এভরিবডি নোজ’ ছবিটি। টানা ১২ দিন উৎসব চলার পর ৭১তম আসরের সমাপনী হয় শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায়।

এবারের কান উৎসবে উল্লেখ করার মতো বিষয় হচ্ছে, উৎসব চলাকালীন নারীর প্রতি যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে কানে পালে দো ফেস্টিভ্যাল ভবনের গ্র্যান্ড থিয়েটার লুমিয়েরে প্রবেশের মূল ফটকের সামনে প্রতিবাদ করেন ৮২ জন নারী।

বিশ্ব চলচ্চিত্রের এ বড় আসরের ৭০ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম এমন প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে। গত বছর থেকে হলিউডে একের পর এক যৌন হয়রানির তথ্য বেরিয়ে আসাতেই ‘মি টু’ এবং ‘টাইমস আপ’ আন্দোলনের ছোঁয়া লাগল এবারের কানেও।

চলচ্চিত্রের সঙ্গে নানাভাবে সংশ্লিষ্ট ৮২ জন নারী এ প্রতিবাদে যোগ দেন। এ প্রতিবাদে উপস্থিত ছিলেন প্রতিযোগিতা বিভাগের প্রধান বিচারক হলিউড অভিনেত্রী কেট ব্ল্যানচেট। তাকে সঙ্গ দিয়েছেন অভিনেত্রী ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট, জেন ফন্ডা, সালমা হায়েক, মারিয়ন কঁতিয়ারসহ আরও অনেক তারকা।

‘স্বর্ণপাম’ লড়াইয়ে এবারের আসরে অংশ নেয় ১৪টি দেশের ২১টি চলচ্চিত্র। তারা হলেন- ইরানি পরিচালক আসগর ফারহাদির ‘এভরিবডি নোজ’, ফরাসি পরিচালক স্তেঁফ ব্রিজের ‘অ্যাট ওয়ার’, তুর্কি চলচ্চিত্রকার নুরি বিলজে জিলানের ‘দ্য ওয়াইল্ড পিয়ার ট্রি’, কাজাখস্তানের পরিচালক সারগেই দভরৎসেভয়ের ‘আয়কা’, ইতালীয় পরিচালক মাত্তিয় গারোনোর ‘ডগম্যান’, ফরাসি পরিচালক জঁ লুক গদারের ‘লে লিভরে দ ইমাজ’, ফরাসি পরিচালক ইয়ান গনজালেজের ‘নাইফ প্লাস হার্ট’, জাপানি পরিচালক রুসুকি হামাগুচির ‘আসাকো ওয়ান অ্যান্ড টু’, ফরাসি পরিচালক ক্রিস্তোফে হোনোরের ‘সরি অ্যাঞ্জেল’, ফরাসি পরিচালক ইভা হুসনের ‘গার্লস অব দ্য সান’, চীনা পরিচালক জিয়া ঝংয়ের ‘অ্যাস ইজ পিউরিয়েস্ট হোয়াইট’, জাপানি পরিচালক হিরোকাজু কোরে-এদার ‘শপলিফটারস’, লেবানিজ পরিচালক নাদিন লাবাকির ‘ক্যাপারনাউম’ এবং দক্ষিণ কোরীয় পরিচালক লি চ্যাং-ডংয়ের ‘বার্নিং’, আমেরিকান চলচ্চিত্রকার স্পাইক লির ‘ব্ল্যাককেক্লান্সম্যান’, আমেরিকান পরিচালক ডেভিড রবার্ট মিশেলের ‘আন্ডার দ্য সিলভার লেক’, ইরানি পরিচালক জাফর পানাহির ‘থ্রি ফেসেস’, পোলিশ-ব্রিটিশ পরিচালক পাওয়েল পাওলিকভস্কির ‘কোল্ড ওয়ার’, ইতালীয় পরিচালক আলিস রোহরেচারের ‘লাৎজারো ফেলিস’, মিসরীয়-অস্ট্রিয়ান পরিচালক আবু বকর শাওকির ‘ইয়োমেদ্দিন’ এবং রুশ চলচ্চিত্র পরিচালক কিরিল সেরেব্রেনিকভের ‘লেটো’।

৭১তম কান উৎসবে আঁ সার্তেন রিগার্দ বিভাগে সেরা চলচ্চিত্র নির্বাচিত হয়েছে আলি আব্বাসির ‘বর্ডার’। উৎসবের শেষ দিন পুরস্কার বিতরণী শেষে টেরি গিলিয়াম পরিচালিত ‘দ্য ম্যান হু কিলড ডন কোয়াইজোট’ ছবিটি প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে ৭১তম কান উৎসবের সমাপনী ঘটে।

সেরা ছবি ‘বর্ডার’

৭১তম কান উৎসবে আঁ সার্তেন রিগার্দ বিভাগে সেরা চলচ্চিত্র নির্বাচিত হয়েছে আলি আব্বাসির ‘বর্ডার’। শুক্রবার কান স্থানীয় সময় বিকাল ৪টা ৩০ মিনিটে পালে দো ফেস্টিভ্যাল ভবনের সাল দুবুসি থিয়েটারে সেরা নির্বাচিত হয়েছে ছবিটি।

ইরানি বংশোদ্ভূত ডেনিশ পরিচালক আলি আব্বাসির ‘বর্ডার’ ছবি দিয়ে আঁ সার্তেন রিগার্দে বিভাগে বিচারকদের মন কেড়েছেন। আঁ সার্তেন রিগার্দে এবার জমা পড়েছিল ২০০০ ছবি। এর মধ্যে নির্বাচিত হয় ১৮টি চলচ্চিত্র। মোট ৬ জন পরিচালকের প্রথম ছবি ছিল তালিকায়। আঁ সার্তেন রিগার্দে বিচারকদের সভাপতি আমেরিকান অভিনেতা বেনিসিও দেল তোরো সেরা ছবির নাম ঘোষণা করেন। আগামী ২৩ থেকে ২৯ মে প্যারিসের রপ্লে মেডিসিসে প্রদর্শিত হবে এ বিভাগে নির্বাচিত ১৮টি ছবি।

আঁ সার্তেন রিগার্দে বিভাগে অন্যান্য বিজয়ীরা হলো সেরা চিত্রনাট্য : সোফিয়া (মরিয়ম বেনেমবারেক), সেরা অভিনয়: ভিক্টর পলস্টার (গার্ল), সেরা পরিচালক : সের্গেই লজনিৎসা (ডনবাস)। জুরি স্পেশাল প্রাইজ : দ্য ডেড অ্যান্ড দ্য আদারস (জোয়াও সালাভিজা ও রেনে নাদের মেসোরা)।

পেইজ থ্রি ডেস্ক।।

ফ্রান্সে শুরু হয়েছে কান চলচ্চিত্র উৎসব। চলবে ১৯ মে পর্যন্ত। বিভিন্ন বিভাগে পুরষ্কারের জন্য জন্য লড়বে অনেক সিনেমা। ধারণা করা হচ্ছে, কান মাতাবে এই দশ সিনেমা!

১। Everybody Knows
পরিচালক: আসগর ফরহাদি
অভিনয়: পেনেলোপে ক্রুজ, হাভিয়ের বারডেম, রিকার্ডো ডারিন প্রমুখ।

২। Blackkklansman
পরিচালক: জর্ডান পিলে
অভিনয়: অ্যাডাম ড্রিভার, টফার গ্রেইস, জন ডেভিড ওয়াশিংটন প্রমুখ।

৩। Under The Silver Lake
পরিচালক: ডেভিড রবার্ট মিচেল
অভিনয়: অ্যান্ড্রু গারফিল্ড প্রমুখ।

৪। Cold War
পরিচালক: পাওয়েল পাওলিকভস্কি
অভিনয়: জোয়ানা কুলিগ প্রমুখ।

৫। The Man Who Killed Don Quixote
পরিচালক: তেরি গিল্লমি
অভিনয়: অ্যাডাম ড্রিভার, ওলগা করিলেঙ্কা প্রমুখ।

৬। Solo: A Star War Story
পরিচালক: রন হাওয়ার্ড
অভিনয়: আলদিন ইরেনরেইচ, এমিলিয়া ক্লার্ক, ডোনাল্ড গ্লোবার প্রমুখ।

৭। The House That Jack Built
পরিচালক: লারস ভন ট্রাইয়ার
অভিনয়: উমা থারমান, রিলে কেও, ম্যাট দিল্লন প্রমুখ।

৮। Fahrenheit 451
পরিচালক: রামিন বাহরানি
অভিনয়: মাইকেল জর্ডান, সোফিয়া বৌটেলা প্রমুখ।

৯। Whitney
পরিচালক: কেভিন ম্যাকডোনাল্ড
অভিনয়: হুইটনি হাস্টন।

১০। Pope Francis
পরিচালক: উইম ওয়েন্ডার্স
অভিনয়: পোপ ফ্রান্সিস

পেইজ থ্রি ডেস্ক।।
৭১তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে তারার মেলা বসেছে । গ্র্যান্ড থিয়েটার লুমিয়েরেতে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় ( বাংলাদেশ সময় রাত সোয়া ১১টা ) হয়ে গেল ৭১তম কান উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। ফ্রান্সের দক্ষিণ সমুদ্রতীরবর্তী শহর কানে এরইমধ্যে অনেক তারকা, অতিথি ও পরিচালকসহ অনেকেই ভিড় জমিয়েছেন।

এই আয়োজনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন মার্কিন চলচ্চিত্রকার মার্টিন স্করসেসি ও এবারের আসরের প্রতিযোগিতা বিভাগের বিচারক কেট ব্ল্যানচেট। শুরুতে ফ্রেঞ্চ নিউওয়েভের অন্যতম রূপকার ফরাসি চলচ্চিত্রকার জ্যঁ-লুক গদারের ‘পিয়েরো দ্য ম্যাডম্যান’ (১৯৬৫) ছবির একটি দৃশ্য ভেসে ওঠে পর্দায়। এই চলচ্চিত্রের একটি চুম্বন দৃশ্য নিয়েই সাজানো হয়েছে এবারের উৎসবের অফিসিয়াল পোস্টার। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক (মাস্টার অব সিরিমনিস) ছিলেন এদুয়ার্দ বেয়া। একদিকে পিয়ানোতে সুর তুলছেন বর্ষীয়ান ফরাসি সংগীতশিল্পী জেরার্ড দেগের, ওদিকে অনর্গল বলে যাচ্ছেন উপস্থাপক। এরপর মঞ্চে আসেন কান উৎসবের পরিচালক থিয়েরি ফ্রেমো। তিনি একে
একে মঞ্চে ডাকেন প্রতিযোগিতা বিভাগের বিচারকদের। প্রথমে আসেন ‘ব্লেড রানার ২০৪৯’ ছবির পরিচালক ডেনিস ভিলেন্যুভ। তারপর একে একে মঞ্চ আলোকিত করেন ‘ক্রাউচিং টাইগার হিডেন ড্রাগন’ তারকা চ্যাং চেন, ‘সেলমা’ ছবির পরিচালক আভা ডুভারনে, ফরাসি পরিচালক রবার্ট গেদিজিয়ন, ‘টোয়াইলাইট’ তারকা ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট, রুশ পরিচালক আন্দ্রে জিভিয়াজিন্তসেভ, জেমস বন্ড সিরিজের ‘স্পেক্টর’ ও ‘মিশন ইমপসিবল’ সিরিজের ফরাসি অভিনেত্রী লেয়া সেদু, বুরুন্ডির গায়িকা খাজা নিন। অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতা বিভাগে নির্বাচিত ২১টি ছবির পাশাপাশি প্রতিযোগিতা বিভাগের বাইরে, আঁ সার্তেন রিগার্দ ও মিডনাইট স্ক্রিনিং বিভাগে নির্বাচিত ছবির অংশবিশেষ দেখানো হয়। তারপর ছিল গান।

ফরাসি গায়িকা জুলিয়েট আহমানে পরিবেশন করেন ১৯৬৯ সালে অস্কারে সেরা মৌলিক গানের ?পুরস্কার জেতা মিচেল লেগ্র্যান্ডের সুর করা ‘দ্য মিলস অব মাই হার্ট’।  ১২ দিনের এই মহাযজ্ঞ চলবে ১৯শে মে পর্যন্ত।

পেইজ থ্রি ডেক্স।।

আজ নির্বাক চলচ্চিত্রের জাদুকর স্যার চার্লি চ্যাপলিন এর জন্মদিন। তাকে নিয়ে পেইজ থ্রি’র আজকের বিশেষ আয়োজন।

চার্লি চ্যাপলিন নামেই বেশি পরিচিত স্যার চার্লস স্পেনসার চ্যাপলিন জুনিয়র (১৬ই এপ্রিল, ১৮৮৯ – ২৫শে ডিসেম্বর, ১৯৭৭) ছিলেন একজন ব্রিটিশ চলচ্চিত্র অভিনেতা, পরিচালক ও সুরকার। হলিউড চলচ্চিত্র শিল্পের শুরুর সময় থেকে মধ্যকাল পর্যন্ত তিনি তাঁর অভিনয় ও পরিচালনা দিয়ে সাফল্যের শিখরে আরোহণ করেন। চ্যাপলিনকে বড় পর্দার শ্রেষ্ঠতম মূকাভিনেতা ও কৌতুকাভিনেতাদের একজন বলেও বিবেচনা করা হয়। চলচ্চিত্র শিল্প জগতে চ্যাপলিনের প্রভাব অনস্বীকার্য। ভিক্টোরীয় যুগে তাঁর শৈশব থেকে ১৯৯৭ সালে তাঁর মৃত্যুর এক বছর পূর্ব পর্যন্ত তাঁর কর্মজীবনের ব্যাপ্তি প্রায় ৭৫ বছর এবং এই সময়ে তাঁর বর্ণময় ব্যক্তিজীবন ও সমাজজীবনে খ্যাতি ও বিতর্ক, দুইই নিম্ন থেকে শীর্ষবিন্দু ছুঁয়ে গেছে। ।

চ্যাপলিন লন্ডনে প্রচণ্ড দারিদ্র ও কষ্টের মধ্য দিয়ে শৈশব অতিবাহিত করেন। তাঁর পিতার অনুপস্থিতি ও তাঁর মায়ের অর্থাভাবের জন্য তাঁকে তাঁর নয় বছর বয়সের পূর্বেই দুইবার একটি কর্মশালায় কাজ করতে পাঠানো হয়েছিল। যখন তাঁর বয়স ১৪ তখন তাঁর মাকে পাগলাগারদে পাঠানো হয়। চ্যাপলিন তাঁর শৈশব থেকেই শিশুশিল্পী হিসেবে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন রঙ্গশালায় সফর করেন এবং পরে একজন মঞ্চাভিনেতা ও কৌতুকাভিনেতা হিসেবে অভিনয় শুরু করেন। ১৯ বছর বয়সে তিনি স্বনামধন্য ফ্রেড কার্নো কোম্পানির সাথে চুক্তিবদ্ধ হন, যারা তাঁকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরে নিয়ে যায়। চ্যাপলিন সেখানে হলিউড চলচ্চিত্র শিল্পের সাথে যুক্ত হন এবং ১৯১৪ সালে কিস্টোন স্টুডিওজের হয়ে বড় পর্দায় অভিনয় শুরু করেন। অচিরেই তিনি তাঁর নিজের সৃষ্ট ভবঘুরে দ্য ট্রাম্প চরিত্রের মাধ্যমে পরিচিতি লাভ করেন এবং তাঁর অনেক ভক্তকূল গড়ে ওঠে। ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, পর্তুগালে “শার্লট” নামে পরিচিত চ্যাপলিনের ট্রাম্প ভবঘুরে হলেও ব্রিটিশ ভদ্রজনোচিত আদব-কায়দায় সুসংস্কৃত এবং সম্মানবোধে অটুট। শার্লটের পরনে চাপা কোট, সাইজে বড় প্যান্ট, বড় জুতো, মাথায় বাউলার হ্যাট, হাতে ছড়ি আর অদ্বিতীয়তম টুথব্রাশ গোঁফ। চ্যাপলিন শুরুর দিক থেকেই তাঁর চলচ্চিত্রগুলো পরিচালনা করতেন এবং পরবর্তীতে এসানে, মিউচুয়াল ও ফার্স্ট ন্যাশনাল করপোরেশনের হয়েও চলচ্চিত্র পরিচালনা চালিয়ে যান। ১৯১৮ সালের মধ্যে তিনি বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত ব্যক্তিত্বের মর্যাদা লাভ করেন।

১৯১৯ সালে তিনি সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিবেশনা প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড আর্টিস্ট্‌স গঠন করেন, যার ফলে তিনি তাঁর চলচ্চিত্রের উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ লাভ করেন। তাঁর নির্মিত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হল দ্য কিড (১৯২১), পরবর্তীতে তিনি আ ওম্যান অব প্যারিস (১৯২৩), দ্য গোল্ড রাশ (১৯২৫) এবং দ্য সার্কাস (১৯২৮) চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন এবং এসব চলচ্চিত্রে অভিনয়ও করেন। ১৯৩০ এর দশকে তিনি সবাক চলচ্চিত্র নির্মাণ করার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন এবং নির্বাক সিটি লাইট্‌স (১৯৩১) ও মডার্ন টাইমস (১৯৩৬) নির্মাণ করে প্রশংসিত হন। চ্যাপলিন তাঁর পরবর্তী চলচ্চিত্র দ্য গ্রেট ডিক্টেটর (১৯৪০) এ অতিমাত্রায় রাজনৈতিক হয়ে ওঠেন এবং আডলফ হিটলারকে ব্যঙ্গ করেন। ১৯৪০ এর দশকে চ্যাপলিনকে নিয়ে বিতর্ক শুরু হয় এবং তাঁর জনপ্রিয়তা কমতে থাকে। তিনি সমাজতান্ত্রিকদের প্রতি সহানুভূতিসম্পন্ন বলে অভিযোগ ওঠে, পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে পিতৃত্বের মামলা চলাকালে তিনি কম বয়সী অপর এক মহিলাকে বিয়ে করায় তাঁকে নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা শুরু হয়। তাঁর বিরুদ্ধে এফবিআইয়ের তদন্ত শুরু হলে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে সুইজারল্যান্ডে চলে যান এবং সেখানে বসবাস শুরু করেন। তিনি তাঁর পরবর্তী চলচ্চিত্রগুলোতে তাঁর ট্রাম্প সত্তা বিসর্জন দেন এবং মঁসিয়ে ভের্দু (১৯৪৭), লাইমলাইট (১৯৫২), আ কিং ইন নিউ ইয়র্ক (১৯৫৭) এবং আ কাউন্টেস ফ্রম হংকং (১৯৬৭) চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

নির্বাক চলচ্চিত্র যুগের অন্যতম মৌলিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব চ্যাপলিন নিজের ছবিতে নিজেই অভিনয় করতেন, এবং চিত্রনাট্য ও সংলাপ রচনা, পরিচালনা, প্রযোজনা এমনকি সঙ্গীত পরিচালনাও করতেন। তিনি তাঁর সকল চলচ্চিত্র ত্রুটিমুক্ত রাখার চেষ্টা করতেন এবং তাঁর আর্থিক স্বাধীনতার কারণে তিনি একটি চলচ্চিত্রের গল্পের বিকাশ ও চলচ্চিত্র নির্মাণে অধিক সময় ব্যয় করতে পারতেন। তাঁর চলচ্চিত্রগুলোতে বৈরিতার সাথে দ্য ট্রাম্পের সংগ্রামের করুণ রসের সাথে স্ল্যাপস্টিক হাস্যরস বিদ্যমান ছিল। কয়েকটি চলচ্চিত্রে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়বস্তু ছিল এবং কয়েকটিতে আত্মজীবনীমূলক উপাদান ছিল। চ্যাপলিন তাঁর কাজের পুনঃস্বীকৃতি পেলে “এই শতাব্দীর চলচ্চিত্রকে শিল্প রূপে দাঁড় করানোর পিছনে তাঁর অপরিমেয় প্রভাবের জন্য” তাঁকে ১৯৭২ সালে একাডেমি সম্মানসূচক পুরস্কার প্রদান করা হয়। শিল্পকলায় অবদানের জন্য তাঁকে ফ্রান্স সরকার ১৯৭১ সালে লেজিওঁ দনরের কমান্ডার ও রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথ ১৯৭৫ সালে নাইটহুডে ভূষিত করেন। মৃত্যুর পরও চ্যাপলিন তাঁর নির্মিত দ্য গোল্ড রাশ, সিটি লাইট্‌স, মডার্ন টাইমস ও দ্য গ্রেট ডিক্টেটর চলচ্চিত্র দিয়ে অমর হয়ে আছেন। এই চলচ্চিত্রগুলোকে প্রায়ই মার্কিন চলচ্চিত্রের সর্বকালের সেরা তালিকায় স্থান করে নিতে দেখা যায়।